নাজিম হিকমত-এর কবিতা (১৯০২ - ১৯৬৩)
অনুবাদ: মলয় রায়চৌধুরী
বেঁচে থাকা সম্পর্কে
...
কৃত্রিমতা
- - - -
গাড়ির কাচটা নামা; গগলস খুলে ওই দ্যাখ
সেই সাব-এডিটর তোর অভিনয়ে কৃত্রিমতা
...
প্রজাপতি প্রজন্মের নারী
- - - - - - - -
রবীন্দ্রনাথ, এটা কিন্তু ভালো হচ্ছে না
অবন্তিকা বলছিল আপনি প্রতিদিন
...
নখ কাটা ও প্রেম
- - - - - - -
রবীন্দ্রনাথ, দেড়শ বছর পর একটা প্রশ্ন আপনাকে:
কে আপনার নখ কেটে দিত যখন বিদেশ-বিভূঁয়ে থাকতেন
...
অন্তরটনিক
- - - -
বিড়ি ফুঁকিস অবন্তিকা
চুমুতে শ্রমের স্বাদ পাই
...
পরমাপ্রকৃতি
- - - -
মেঘের রঙ দিয়ে ছুঁয়ে দিস অবন্তিকা
চামড়া বাঘের ডোরা ধরে
...
ইলোপকন্যা
- - - -
তোর বেডরুমে তোকে পেলুম না, কি ঝঞ্ঝাট, মানে হয়
অবন্তিকা! কোন নদী নিয়ে গেছে? বরফের ডিঙি ভাসালুম
...
পাঁকের মৃণ্ময়ী
- - - - -
তুই কি সত্যিই কুচ্ছিত? সবাই তো তাই বলে । পাঁকের মৃণ্ময়ী!
কোলে কালি চোখ তোর এত ছোটো কি করে দেখিস চেয়ে? ঠোঁটও
...
সবুজ দেবকন্যা
- - - - -
ওঃ, তুই-ই তাহলে সেই সুন্দরী দেবকন্যা
তুলুজ লত্রেক, র্যাঁবো, ভেরলেন, বদল্যার
...
কবিতাগুচ্ছ
"শরশয্যায় শেষ দুশ্চিন্তা"
আমি তোমাদের পিতামহ ভীষ্ম
তোমরা নিজেরা লড়বে থামাতে পারব না
...
"বিখ্যাত কবির নেমপ্লেট"
একজন কবির বাড়ির বাইরে নেমপ্লেট দেখে
মনে পড়ে গেল স্নাতকোত্তর সহপাঠীদের মাঝরাতের পড়াশুনা
চকচকে কবির গ্র্যানিট পাথরে লেখা নাম
...
"তরুণ বয়সে অনেকে আমাকে পছন্দ করত না"
আমি গরু-শুয়োর গাঁজা মদ খেতুম বলে নয়
গরু শুয়োর গাঁজা মদ খেয়ে
ওদের থেকে ঢ্যাঙা হয়ে যেতুম বলে নয়
...
"হাঁচি আর ভালোবাসা"
মেয়েদের সিটের কাছে দাঁড়িও না
মেয়েদের সিটের কাছে দাঁড়িও না
হুঁশিয়ারি দেয়ার পরও এমনই টেসটোসটেরনের ডাক
...
"যৌতুক'
যেরকম কথাবার্তা হল
সোনাদানা আসবাব যা দিচ্ছেন দিন
কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা পাত্রপক্ষ
...
"ষাঁড়ের জেদ"
কেউ বলে কবিতাটা কবিতা হয়নি আবার কেউ বলে
সেরকম জৌলুশ নেই এখনকার কবিতাগুলোয়
আসলে যা লেখার সেটাই লিখে যেতে হবে
...
"যাহোক তাহোক - যা হোক, তা হোক"
এখন যা লিখে যাচ্ছি কুছ পরোয়া নেই টাইপের
আলফাল বালের লেখালিখি, তা আর সংগ্রহে রাখছি না
চেলাদের দল নেই মোসায়েবদের লিটল ম্যাগও নেই যে
...
"চোষাচুষি"
কয়েকজন স্কুলছাত্র হাসাহাসি করছিল
এতো হাসাহাসি কেন?
যেদিকে তাকিয়ে হাসছিল
...
"প্রথমবার ইউরোপ"
এতো আনন্দ হয়েছিল মিউজিয়ামের পেইনটিঙগুলো দেখে
ভাবা যায় না আসল ভ্যান গঘ, মাতিসে, পিকাসো
চিরিকো, জিয়াকোমেত্তি, রেমব্রাঁ, মনদ্রিয়ান
...
Malay Roychoudhury is a famous Begali poet known for his special eclectic style of poetry and denarrativised novels. He, along with Debi Roy, Samir Roychoudhury and Shakti Chattopadhyay had launched the Hungryalist literary movement which changed the course of Indian Bengali poetry once for all. He was met by such luminaries as Allen Ginsberg, Octavio Paz and Ernesto Cardenal among others. He writes both in English and Bengali.)
Nazim Hikmet Poems Translated In Bengali
নাজিম হিকমত-এর কবিতা (১৯০২ - ১৯৬৩)
অনুবাদ: মলয় রায়চৌধুরী
বেঁচে থাকা সম্পর্কে
বেঁচে থাকো কোনো হাসির ব্যাপার নয়:
আপনাকে অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সঙ্গে বাঁচতে হবে
একটা কাঠবিড়ালির মতন, উদাহরণস্বরূপ- -
আমি বলতে চাইছি বেঁচে থাকার বাইরে আর উর্দ্ধে কোনও কিছু না খুঁজে,
আমি বলতে চাইছি বেঁচে থাকা হওয়া উচিত আপনার পেশা ।
বেঁচে থাকা কোনো হাসির ব্যাপার নয়:
আপনাকে তা গাম্ভীর্যের সঙ্গে নিতে হবে,
এমনভাবে আর এতোটা গুরুত্ব দিয়ে
যে, উদাহরণস্বরূপ, আপনার হাত আপনার পেছনে বাঁধা,
আপনার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে,
কিংবা কোনো রসায়নাগারে
আপনার শাদা কোট আর সুরক্ষার চশমায়,
আপনি জনগণের জন্য জীবন দিতে পারেন- -
এমনকি সেই লোকেদের জন্য যাদের আপনি কখনও দেখেননি,
যদিও আপনি জানেন বেঁচে থাকা
সবচেয়ে বাস্তব, সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার ।
আমি বলতে চাইওছি, আপনি বেঁচে থাকাকে এমন গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন
যে সত্তর বছর বয়সেও, উদাহরণস্বরূপ, আপনি অলিভ গাছ পুঁতবেন- -
আর আপনার সন্তানদের জন্য, দুইই,
কিন্তু যেহেতু আপনি মৃত্যুকে ভয় পান আপনি তা
বিশ্বাস করেন না.
কেননা বেঁচে থাকা, আমি বলতে চাইছি, বয়ে নিয়ে যেতে হয়।
২
ধারা যাক আমরা সঙ্কটজনকভাবে অসুস্হ, শল্যচিকিৎসার দরকার-
যার অর্থ আমরা হয়তো উঠতে পারব না
শাদা টেবিল থেকে ।
যদিও এটা অসম্ভব যে দুঃখ বোধ করব না
এতো তাড়াতাড়ি চলে যেতে,
আমরা তবুও মজার গল্প শুনে হাসব,
আমরা জানালার বাইরে দেখব বৃষ্টি পড়ছে কিনা,
কিংবা তবুও উদ্বেগে অপেক্ষা করব
সাম্প্রতিক সংবাদের সম্প্রচারের জন্য…
ধরা যাক আমরা যুদ্ধের প্রথম সারিতে-
এমনকিছুর জন্য যা নিয়ে যুদ্ধ করা যায়, ধরা যাক ।
সেখানে, প্রথম আক্রমণে, সেই দিনই,
আমরা মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে পারি, মৃত ।
আমরা তা কৌতূহলী ক্রোধ নিয়ে জানবো,
কিন্তু তবুও উদ্বেগে মারা পড়ব
যুদ্ধের ফলাফলের ব্যাপারে, যা বহুকাল চলতে পারে।
ধরা যাক আমরা কারারুদ্ধ
আর পঞ্চাশ বছরের কাছাকাছি
আর আমাদের রয়েছে আরও আঠারো বছর, ধরা যাক,
লোহার দরোজা খোলার আগে ।
আমরা তবু বহির্জগতে থাকব,
তার জনগণ আর জীবজন্তুদের নিয়ে, সংঘর্ষ আর বাতাস-
আমি বলতে চাই দেয়ালের ওদিকে যে বহির্জগত ।
আমি বলতে চাই, যেভাবে হোক আর যেখানেই আমরা থাকি
আমরা এমনভাবে বাঁচব যে আমরা কখনও মরব না।
৩
এই পৃথিবী ক্রমশ শীতল হয়ে যাবে,
নক্ষত্রদের মধ্যে এক নক্ষত্র
আর সবচেয়ে ছোটো,
নীল মখমলে এক সোনালি ধূলিকণা- -
আমি এর কথা বলতে চাইছি, আমাদের মহান পৃথিবী ।
এই পৃথিবী একদিন শীতল হয়ে যাবে,
এক খণ্ড বরফের মতন নয়
কিংবা এমনকি মৃত মেঘ
কিন্তু ফাঁকা আখরোটের মতন এটা গড়িয়ে চলবে
ঘন কালো শূন্যতায়…
আপনার এখনই এর জন্য শোকপালন করা উচিত
- - এই দুঃখ আপনাকে এখনই পেতে হবে- -
কেননা জগতকে এতোটা ভালোবাসতেই হবে
যদি আপনি বলতে চান, "আমি বেঁচে ছিলুম"...
আমি জানতুম না যে সব জিনিস আমি পছন্দ করতুম
আজকে ১৯৬২ সালের ২৮শে মার্চ
আমি প্রাগ-বার্লিন ট্রেনের জানলার কাছে বসে আছি
রাত নেমে আসছে
আমি জানতুম না আমি পছন্দ করতুম
ধোঁয়াটে ভিজে প্রান্তরে ক্লান্ত পাখির মতন রাতের নেমে আসা
আমি পছন্দ করি না
ক্লান্ত পাখির সঙ্গে রাতের নেমে আসার তুলনা
আমি জানতুম না আমি পৃথিবীকে ভালোবাসি
কেউ কি পৃথিবীকে ভালোবাসতে পারে যে তার মাটিতে খাটেনি
আমি পৃথিবীর মাটিতে খাটিনি
এটা বোধহয় প্ল্যাটনিক ভালোবাসা
আর এখানে আমি সব সময়ে নদীদের ভালোবেসেছি
হয়তো এরকম স্হির তারা পাহাড়ের বাঁক দিয়ে চলে যায়
ইউরোপের পাহাড়গুলো পল্লীভবনের মুকুট পরে থাকে
কিংবা যতোদূর চোখ যায় ছড়ানো সমতলভূমি
আমি জানি একই নদীতে আপনি একবারের জন্যেও স্নান করতে পারবেন না
আমি জানি নদী নতুন আলো নিয়ে আসবে যা কখনও দেখা হবে না
আমি জানি আমরা ঘোড়ার চেয়ে কিচুকাল বেশি বাঁচি কিন্তু কাকের মতন দীর্ঘ নয়
আমি জানি এই ব্যাপারটা আগে লোকেদের বিব্রত করেছে
আর আমার পরের লোকেদেরও বিব্রত করবে
আমি জানি এই কথা এর আগে হাজার বার বলা হয়েছে
আর আমার পরেও বলা হবে
আমি জানতুম না আমি আকাশকে ভালোবাসি
মেঘলা বা পরিষ্কার
বোরোদিনোতে পিঠে ভর দিয়েআন্দ্রেইপড়েছিল নীল ভূগর্ভঘর
কারাগারে আমি ওয়ার অ্যাণ্ড পিস উভয় খণ্ড তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করেছিলুম
আমি কন্ঠস্বর শুনতে পাই
নীল ভূগর্ভঘর থেকে নয় বরং দালান থেকে
রক্ষীরা আবার কাউকে ঠ্যাঙাচ্ছে
আমি জানতুম না আমি গাছপালা ভালোবাসি
মসকোর কাছে পেরেদিলকিনিতে পাতাহীন বার্চগাছ
শীতকালে ওরা আমার ওপর ঝরে পড়ে গরিমায় আর নম্রতাব
বার্চগুলো রুশদেশের যেমন পপলার গাছ তুর্কির
"ইজমিরের পপলার
তাদের পাতা ঝরাচ্ছে…
ওরা আমাকে বলে ছুরিকা
যুবক গাছের মতন প্রেমিকা…
আমি রাজকীয় বাড়িদের আকাশে ওড়াই"
১৯২০ সালে ইলগাজের জঙ্গলে আমি পাইন গাছের ডালে নকশাকরা একটা সুতির রুমাল বেঁধেছিলুমভাগ্য ভালো করার জন্য
আমি জানতুম না আমি রাস্তাদের ভালোবাসতুম
এমনকি যেগুলো আসফাল্টের
ভেরা গাড়ি চালাচ্ছে আমরা মসকো থেকে ক্রিমিয়া কোকটেবেলে যাচ্ছি
আগে তুর্কি ভাষায় বলা হতো "গোকটেপে ইলি"
আমরা দুজনে একটা বন্ধ বাক্সের ভেতরে
দুই দিন দিয়ে জগত চলে যাচ্ছে বহুদুর আর মৌন
আমি জীবনে আর কারোর এতো নিকট হইনি
আমার যখন আঠারো বছর বয়স ডাকাতরা
আমাকে বোলু আর গেরেদের মাঝে থামিয়েছিল
আমার জীবন ছাড়া আর কিছু নেবার মতন ছিল না গাড়িতে
আর আঠারো বছর বয়সে জীবনকে সব ব্যাপারের চেয়ে আমরা কম গুরুত্ব দিই
আমি একথা আগে অন্য কোথাও লিখেছি
অন্ধকার কাদাটে রাস্তা দিয়ে আমি রমজান রাতের ছায়াখেলা দেখতে যাচ্ছি
কাগজের লন্ঠন আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
হতে পারে এমন কিছুই কখনও ঘটেনি
হয়তোকোথাও পড়েছিলুম আট বছর বয়সের একটি ছেলে
কোথাও ছায়াখেলা দেখতে যাচ্ছে
ইসতানবুলে রমজানের রাতে দাদুর হাত ধরে
ওর দাদু ফেজটুপি আর ফারকোট পরে
আলখাল্লার ওপরে একটা কলার
আর চাকরের হাতে একটা লন্ঠন
আর আমার আনন্দ সামলাতে পারছি না
কোনো কারণে ফুলের কথা মনে পড়ল
পোস্তফুল ক্যাকটাস নার্গিসফুল
ইসতানবুলের কাদিকয়ের নার্গিসফুলের বাগানে আমি মারিকাকে চুমু খেয়েছিলুম
ওর শ্বাসে টাটকা কাগজিবাদাম
আমার বয়স তখন সতেরো
দোলনায় আমার হৃদয় আকাশ ছুঁয়েছিল
আমি জানতুম না আমি ফুল ভালোবাসি
বন্ধুরা কারাগারে তিনটে লাল কারনেশনফুল পাঠিয়েছিল
আমার মনে পড়ল নক্ষত্রদের কথা
আমি তাদেরও ভালোবাসি
তা আমি মেঝেতে শুয়ে তলা থেকে দেখি
বা তাদের পাশ দিয়ে উড়ে যেতে যেতে
নভোচরদের জন্য আমার কিছু প্রশ্ন আছে
নক্ষত্রগুলো কি আরও বড়ো ছিল
তারা কি কালো মখমলের ওপরে বিরাট মণিরত্নের মতন দেখাচ্ছিল
নাকি কমলার ওপরে খোবানির মতন
নক্ষত্রের কাছাকাছি পৌঁছে তোমাদের কি গর্ববোধ হয়েছিল
আমি ওগোনেক পত্রিকায় মহাকাশের রঙিন ফোটো দেখেছিলুম
তা জেনে মন খারাপ করবেন না কমরেড কিন্তু তা অলাক্ষণিক বা
আমরা বলতে পারি বিমূর্ত কোনো-কোনোটা সেইরকম তৈলচিত্রের মতন মানে বলতে
হয় সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আলঙ্কারিক আর গঠিত
তাদের দিকে তাকিয়ে আমার হৃদয় তো মুখে এসে গিয়েছিল
তারা আমাদের সীমাহীন ইচ্ছা নানা বিষয়কে জানবার
তাদের দেখে আমি এমনকি মৃত্যুর কথা ভেবেছিলুম আর মোটেই দুঃখ পাইনি
আমি জানতুম না আমি মহাকাশকে ভালোবাসি
আমার চোখের সামনে তুষারের ঝলক
ভারি ভিজে অবিরাম তুষার আর শুকনো উড়ন্ত দুই রকমই
আমি জানতুম না আমি তুষার ভালোবাসি
আমি কখনও জানতুম না যে আমি সূর্যকে ভালোবাসি
এমনকি যখন চেরির মতন লাল হয়ে যায় যেমন এখন
ইসতানবুলেও তা অনেক সময়ে পোস্টকার্ডের রঙে অস্ত যায়
কিন্তু তুমি অমনভাবে আঁকতে চাইবে না
আমি জানতুম না আমি সমুদ্র ভালোবাসি
আজোভ সমুদ্র ছাড়া
কিংবা কতোটা
আমি জানতুম না আমি মেঘ ভালোবাসি
আমি তাদের তলায় থাকি বা তাদের ওপরে
তারা দেখতে দৈত্যের মতন হোক কিংবা লোমশ শাদা জানোয়ারের মতন
চাঁদের আলো সবচেয়ে কৃত্রিম সবচেয়ে অবসন্ন সবচেয়ে পাতি-বুর্জোয়া
মনে হয়
আমি তা পছন্দ করি
আমি জানতুম না আমি বৃষ্টি পছন্দ করি
তা সূক্ষ্ম জালের মতন পড়ুক বা কাচের ওপরে ছিটে হয়ে আমার
হৃদয়ে জালের মধ্যে জট পড়ে যায় কিংবা একটা ফোঁটার মধ্যে
আর অজানা দেশে যাত্রা করে যাদের ভালোবাসি বলে জানতুম না
বৃষ্টি কিন্তু কেন আমি হঠাৎ আবিষ্কার করলুম এই ভালোবাদাগুলো
বসে আছে প্রাগ-বার্লিন ট্রেনের জানালার পাশে
তা কি এই জন্য যে আমি ষষ্ঠ সিগারেট ধরালুম
যা একা আমাকে খুন করতে পারে
তা কি এই জন্য যে আমি মসকোয় কারোর সম্পর্কে ভেবে অর্ধমৃত
তার চুল খড়ের রঙে চোখের পাতা নীল
ট্রেন লাফিয়ে এগোতে থাকে ঘন কালো রাতের ভেতর দিয়ে
আমি জানতুম না আমি ঘন কালো রাত পছন্দ করি
ইনজিন থেকে স্ফূলিঙ্গ উড়তে থাকে
আমি জানতুম না আমি স্ফূলিঙ্গ ভালোবাসি
আমি জানতুম না আমি অতোগুলো জিনিসকে ভালোবাসি আর আমাকে
ষাট বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তা আবিষ্কার করতে
প্রাগ-বার্লিন ট্রেনের জানালার ধারে বসে
পৃথিবীকে অদৃশ্য হতে দেখে যাচ্ছি এমন যাত্রায় যার ফিরে আসা নেই
১৯ এপ্রিল, মসকো
যারা জেল খাটবে তাদের জন্য কিছু উপদেশ
গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝোলাবার বদলে
তোমাকে ভেতরে ছুঁড়ে ফেলা হয়
আশা ত্যাগ না করার জন্য
এই জগতে, তোমার দেশ, আর জনগণ,
তুমি যদি দশ বা পনেরো বছর জেল খাটো
যা সময় বেঁচে আছে তা ছাড়া,
তুমি বলবে না
"দড়ির শেষ থেকে ঝুলতে পারলে বরং ভালো হতো
এক পতাকার মতন"- -
তুমি মাটিতে পা ফেলবে আর বেঁচে থাকবে।
তা যদিও পুরো আনন্দের হবে না,
কিন্তু এটা তোমার পবিত্র কর্তব্য
আরও এক দিন বেঁচে থাকা
শত্রুকে জ্বালাতন করার জন্য ।
তোমার একাংশ একা ভেতরে থাকতে পারে,
কুয়োর তলদেশে ঢিলের মতন।
কিন্তু অন্য অংশ এমন ফাঁদে আটকে যাবে
জগতের ছুটোছুতিতে
যে ভেতরে তুমি শিহরিত হতে থাকবে
যখন বাইরে বেরোবে, চল্লিশ দিনের পরে, একটা পাতা নড়বে।
ভেতরে চিঠির জন্য অপেক্ষা করবে,
দুঃখি গান গাইবার জন্য,
কিংবা সারারাত শুয়ে থাকবে কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে
তা বেশ মিষ্টি কিন্তু বিপজ্জনক।
দাড়ি কামানো থেকে কামানোর মাঝে তোমার মুখের দিকে তাকাও,
তোমার বয়স ভুলে যাও,
উকুন খোঁজে
আর বসন্তকালের রাত,
আর সব সময়ে মনে রেখো
রুটির শেষ টুকরোটা পর্যন্ত খেয়ে ফেলতে হবে- -
সেই সঙ্গে, দিলখোলা হাসি হাসতে ভুলো না ।
আর কেই বা বলতে পারে,
যে নারীকে তুমি ভালোবাসো সে তোমাকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিয়েছে
বোলো না যে তা কোনো বড়ো ব্যাপার নয়:
ভেতরের মানুষটার কাছে
তা গাছের সবুজ ডাল ভেংএ ফেলা ।
ভেতরে গোলাপ আর বাগানের চিন্তা করা কারাপ,
সমুদ্র আর পাহাড়ের চিন্তা করা ভালো।
বিশ্রাম নি নিয়ে পড়ো আর লেখো
আর আমি বোনবার পরামর্শও দেবো
আর আয়না তৈরি করার ।
আমি বলতে চাই, এমন নয় যে তুমি সময় কাটাতে পারবে না
দশ বা পনেরো বছর ভেতরে
আর বেশি-
তুমি পারবে,
যতক্ষণ না সেই মণি
যা তোমার বুকের বাঁ দিকে আছে তা জৌলুশ হারিয়ে ফেলছে!
কবিতা লিখলে গালমন্দ খেতেই হবে । *** যারা ছবি আঁকে তারা নিজেদের বলে চিত্রশিল্পী । কেউ নিজেকে ভুলেও কবিশিল্পী বলে না । যারা পাঁঠা কাটে তাদের কসাইশিল্পী বলা হবে না কেন? কসাই তো কেমন তুলি চালাবার মতন করে চপার চালায় । *** শিল্পের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কবিতা রচনার প্রথম শর্ত। *** এককালে বাংলাভাষায় বাণিজ্য হতো; এখন বাংলাভাষায় কেবল পদ্য লেখা যায় কিংবা সংবাদপত্রের গুলগল্প। *** মৃত্যুকে আবিষ্কারই প্রেম; প্রেম আবিষ্কারই কবিতা; কবিতা আবিষ্কারই মৃত্যু
We are blessed and proud to have Malay da as an outstanding poet from Bengal who has the guts to write against the tide to address the ailments of our society and always experimental with poetic forms