দূর থেকে যখন দেখা যায় পাহাড়শ্রেণি
উফ্ সে ডাককে
আমি উপেক্ষা করতে পারি না।
ঠিক যেমন কোনো মা তাঁর
সন্তানকে ডাকেন কোলে নেবেন ব'লে
তখন মায়ের চোখে মুখে
যে আকুলতা ফুটে ওঠে
আর শিশুও যেমন মাকে পাবার জন্য
ছটফট করে ----
পাহাড়ও যেন আমাকে ঠিক তেমনভাবে ডাকে।
দূর থেকে দেখা ঐ পাহাড়শ্রেণির ডাক ----
ঐ ঘন সবুজ পাহাড়গুলির ডাক
আমি পারি না ভুলতে
আমার সঙ্গে যেন কোন্ এক মায়াভরা টান রয়েছে পাহাড়ের
এক আলাদা আসক্তি উপলব্ধি করি পাহাড়ের সঙ্গে। দূর থেকে পাহাড়শ্রেণি আমার চোখে পড়লে
আমার মন কেমন উদাস হয়ে ওঠে
মনে হয় এ জগতে এ ব্রহ্মাণ্ডে
ঐ পাহাড় ছাড়া আমার একান্ত আপন আর কেউ নেই।
জল ছাড়া কি মানুষ বাঁচে ---- পাহাড় ছাড়াও যেন আমার বেঁচে থাকা অসম্ভব,
বাতাস ছাড়া কি মানুষ বাঁচে ---- পাহাড় ছাড়াও যেন আমার এক মুহূর্ত বেঁচে থাকা অসম্ভব ----
এমনই টান পাহাড়ের সাথে আমার।
দূর থেকে পাহাড়ের রেখা দেখলে
আমার বুকের মধ্যে কেমন একটা করে ----
কেমন চঞ্চলতা অনুভব করি ----
ঠিক ঐ পাহাড়ের কাছে না যাওয়া অব্দি যেন
ঐ দেখার ক্ষুধা মিটবে না এমন।
দূর থেকে পাহাড়গুলি যেন আমায় ডাকে ----
আমার মনে হয় পাহাড়ের সঙ্গে আমি এক শিকলে বাধা ---- সে শিকল অন্য কেউ দেখতে পায় না ---- শুধু আমি বুঝতে পারি।
যেদিন আমি জন্মেছিলাম
সেদিনই পাহাড়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল,
যতদিন থাকব এই ভুবনে
ততদিন ওর প্রতি আমার ভালোবাসা থেকে যাবে।
--- অর্ঘ্যদীপ চক্রবর্তী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem