শিক্ষক
আমার মেয়ে তখন সাড়ে তিন বছর।
একটা মিশনারী স্কুলে ভর্তি করা হল।
ভোর বেলা সে মেয়ের ঘুম ভাঙে না।
মা হাতমুখ ধুইয়ে স্কুলড্রেস পড়িয়ে
কোলে শুইয়ে স্কুল গাড়িতে উঠে বসে।
মেয়ে ঘুমোতে ঘুমোতে স্কুল ঢোকে,
আমার রাগ হয় ওর মা'র উপর।
নামী স্কুল- বড় অসহায় মনে হয়।
ঠিক এক বছর পর স্কুল ছাড়িয়ে দিই।
মেয়ে এদেশ ওদেশ ঘুরে বেড়ায় এখন।
পেপার পড়ে অক্সফোর্ড হার্ভার্ডে।
সেদিন শিক্ষক দিবসে উত্তরীয়
আর একগুচ্ছ ফুল নিয়ে বাড়ি ফিরি,
ছাত্র ছাত্রীরা বড় ভালবেসে দিয়েছে।
মেয়েকে জিজ্ঞেস করি, কীরে
কোনও টিচারের কথা মনে পড়ে না?
মেয়ে বলে, মনে তো পড়ে অনেক
টিচারের কথা - ওঁরা না থাকলে
আমি কি লিখতে পড়তে পারতাম।
তবে একজনের কথা খুব মনে হয়,
কিন্তু তার মুখ মনে পড়ে না,
আবছা আবছা অনুভব করি,
একটা খসখসে হাতের তালু
আমার হাতের কব্জি ধরে
এক ঘর থেকে অন্যঘরে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ঐ খসখসে হাতের তালু আমাকে
বড্ড সাহস দিচ্ছে, একটুও কান্না পাচ্ছে না।
অক্সফোর্ড অথবা কেমব্রিজে সেমিনারে
আমি ঐ খসখসে স্পর্শ পাওয়ার চেষ্টা করি।
সাহস জাগে গভীরে।
আমি বলি, ওঁর দেখা এখন আর পাবি না।
তবে বিন্দুতে বিন্দু মিলিয়ে
সেই মিস তোকে ' অ ' লেখা 'A' লেখা শিখিয়েছিলেন।
মেয়ে বলে ভাগ্যিস মিসের হাতের তালু ছিল খসখসে, নইলে আমার প্রথম পাঠের স্মৃতি
কিছুই মনে পড়ত না --
আসলে বয়স বয়ে যাওয়া
ঐ মিসের হাতের তালু ছিল
সংসার ঠেলা এক শ্রমিকের,
আর সেই হাত বেয়ে নেমে আসত
আস্থাভরা নরম এক স্নেহ।
--------------------------
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem