কাজ
আমার একটা কাজ চাই,
আমার একটু ভাত চাই,
মানের কথা পরে হবে।
সকালে ভিক্ষুকের হোটেলের
সামনে দাঁড়াই,
ফাই ফরমাস খাটি
জল তুলি, বাসন মাজি।
কাজের শেষে বলে,
ভাত নাই যা পালা।
ভিক্ষুকেরা দশ টাকার
ভাত খেয়ে ঢেকুর তোলে।
ভাতের গন্ধে উতলে ওঠে আলো
দশদিকেতে একটু অমৃত ঢালো।
আমি চিৎকার করে উঠি--
মামদোবাজি নাকি!
মাথায় রক্ত চড়ে যায়,
এক ঢিলে ভেঙে ফেলি
কাঁচের গ্লাস ও হাড়ি কুড়ি,
কাজ করাবে ভাত দেবে না।
রাতে ফিরলে বস্তির অন্ধকারে
মা হাত বুলায় মাথায়।
বলে, আজও মার খেয়েছিস,
ভাত জোটে নি কপালে?
ফোলা ঠোঁটের কোণ বেয়ে
গড়িয়ে পড়া রক্তের দাগ
মুছতে মুছতে মা বলে,
তবু বাঁচতে হবে তোকে।
পরদিন আবার এসে দাঁড়ায়
ভিক্ষুকের হোটেলের সামনে,
দশ বছরের ছেলেটি, বলে--
কাজ দাও আমায়,
আমাকে বাঁচতে হবে।
------------------------------
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem