আচ্ছা, নাজরানার কি বয়স হয়?
তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ
একশো অথবা তার চেয়েও বেশি!
ওর হাসি কি সেইরকম
এখনো কোলাহলময় চকচকে?
নাকি এখন হলদেটে
বিষন্ন গোধূলির মতো!
হতে পারে, নাও হতে পারে,
না হওয়ারই কথা,
কারণ ওদের উঠোন আঙিনায়
যে প্রেম ঘুরে বেড়াত
এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে
সকাল সন্ধ্যায়,
সে তো সব সময়ই
মন্দিরের ঠাকুর প্রতিমার মতো,
মোহময়ী সুন্দরী কিশোরী
অথবা যুবতী অষ্টাদশী!
আকাশের তারার মতো উজ্জল
জ্বলজ্বলে,
ওড়নার প্রান্তের মতো
বিষন্ন বিকেলে গন্ধময় - চিরন্তন।
খেলার ফাঁকে ফাঁকে স্পর্শ,
যা ছিল নেহাতই শৈশবী,
সেই সব স্পর্শ কি
কখনও যৌবন পায়?
হেঁটে যেতে যেতে সে বলে,
'আমি চলে যাই যতদূর
কাশ্মীর অথবা ইস্তাম্বুলে,
আমার এ মাটি থেকে যায়
আমার চিহ্ন বুকে করে।'
অপরাহ্নের আলোময় মেঘের মতো,
লাল নীল হলদে রঙ ছড়িয়ে
অবসন্ন অন্ধকারে ডুবে যায় না সেসব;
সুখ আর স্বপ্নের মতো
অবিরাম ঝরে, বৃষ্টির মতো,
নদীর বুকেও চিহ্ন এঁকে
বয়ে যায় প্রবহমানতায়।
প্রাণ খুলে তখন
বলতে ইচ্ছে করে,
'নাজরানা, কদম গাছের ছায়া ডিঙিয়ে
তুই যখন হারিয়ে যাস,
মন্দিরের প্রতিমার মতো
তোর বয়স বাড়ে না,
তোর মৃত্যু হয় না,
কারণ, আমি তোকে ভালবাসি।'
--------------------------
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem