একটু আলো দেখাও
ওপাশের মঞ্জুদের বাগান থেকে
সন্ধ্যের আঁধারটা হামাগুড়ি দিতে দিতে
সামনের উঁচু নারকেল গাছটার
মাথায় উঠে পড়তো,
আর নারকেল গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে
গলে গিয়ে হাওয়ায় দুলতে দুলতে
সাদা শুকনো উঠোনের পদচিহ্ন
ঢেকে দিয়ে আমাদের শান বাঁধানো
বারান্দায় নেমে আসতো।
আমরা তখন হাত পা ধুয়ে পড়তে বসতাম।
মা দক্ষিণের বারান্দা পেরিয়ে রান্নাঘরে।
কুপির আলোর ঢেউয়ের তালে
মা'র লালচে মুখখানা আলো অন্ধকারে দুলতো।
আমাদের বারান্দার হারিকেনের আলো
দপ দপ করে জ্বলতো,
আর সেই সঙ্গে অন্ধকারটাও
দুলে দুলে এদিক ওদিক করে
লুকোচুরি খেলতো উঠোনে।
আমি বর্ণ পরিচয় খুলতাম।
বই খুলে আলো অন্ধকারে
কাঁপা কাঁপা অক্ষর পড়ার চেষ্টা করতাম।
ডানপাশের রাস্তায় ঘন অন্ধকার;
পেছনের খালটায় যে জঙ্গল ছিল,
সেই জঙ্গল হঠাৎ কেঁপে কেঁপে উঠতো
শেয়ালের ডাকে।
হুক্কা হুয়া হুক্কা হুয়া,
আমরা ভয় পেতাম ।
ডালিম গাছের দিকে যে অন্ধকারটা
গাঢ়ো হয়ে নাচানাচি করতো,
সেখানে একটা অশরীরী অবয়ব যেন
আমাদের সমস্ত মন আর শরীরটাকে
আচ্ছন্ন করে ফেলতো!
তখন আর কারো কথা মনে পড়তো না।
একটু আলো ধরার জন্য
আকাশের দিকে তাকাতাম।
মিটিমিটি আলোয় তারা জ্বলতো,
আমরা হাত বাড়াতাম।
মা রান্নাঘর থেকে ডাক দিলে
আমরা এক লাফে সিঁড়ি টপকে
উঠোন পেরিয়ে
ভাতের থালার সামনে পিঁড়িতে বসতাম।
মা শিকল তুলে কুয়ো তলায় পা রাখতেন।
তার আগে বাবাকে বলতেন,
অন্ধকারে ওকে একটু আলো দেখাও,
নইলে ও যে ভয় পাবে ।
এখনও ভয় পাই আমরা।
অনবরত অন্ধকারে পা রাখি,
আর ভয় পাই --
আলো দেখানোর মানুষ খুঁজি প্রতিনিয়ত!
----------------------
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem