লোকটি
একটা মানুষের জন্য,
শুধু একটা মানুষের জন্য,
এমন করে বুকটা!
লোকটা ছিল।
বাজারে কালো প্লাস্টিকের
ছাউনির ভেতরে উঁচু ঢিপিটাতে বসে
ওর বউ অভ্যস্ত হাতে
মাছ কাটতো বটিতে,
কানকো টেনে ছিঁড়তো।
লোকটা নীচে বসে জ্যান্ত মাছের
আঁশ ছাড়াতো,
হাঁড়িতে জল থাবড়াতো
একটু অক্সিজেনের জন্য।
একটু অক্সিজেন দিয়ে
আর একটু ক্ষণ বাঁচিয়ে রাখতে
মাছগুলোকে,
যদিও সে মাছকে মরতেই হতো।
লোকটা তো এমন কেউ ছিলো না,
নেতা অথবা প্রণেতা,
তবু গায়ের আঁশটে গন্ধ
বাতাসে ভাসে।
যেদিন ওর ছাউনির দেওয়ালে
একটা কালো রঙের লেখা
লুটোপুটি খেতে খেতে আটকে গেল,
সেদিন ওর বউ এমন আকস্মিকতায়
বটিতে হাত কেটে
রক্ত মিশিয়ে দিল মাছের রক্তে।
এমনি করেই দিন যায়, রাত যায়।
অন্ধকার কালো হতে হতে
গভীর কালো হওয়ার আগেই
পাতা ঝরে পড়ে রঙ মেখে গায়,
কদম্বগাছি থেকে কানাডায়,
হেমন্তের নির্লিপ্ত সন্ধ্যায়।
অতঃপর দেখা যায়,
সেই কালো প্লাস্টিকের ছাউনিতে
উঁচু ঢিপিতে বসেছে
প্রজন্ম পার আর এক নারী,
যে মাছের গলা কাটছে
আর রক্ত গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে,
ওর স্বামী জল থাবড়াচ্ছে হাঁড়িতে
একটু অক্সিজেনের জন্যে,
যদিও জানে,
ও হাঁড়ির জলে খেলে বেড়ানো
মাছগুলো মরবে নিশ্চয়।
লোকটা এখন শূন্য হাওয়ায়
অবয়ব হীন মানুষের কথা বলে।
--------------------
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem