অপরাহ্ন
কাল আমার এক বন্ধু এসেছিল।
প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পর দেখা।
কৈশোরেরর কথা ফুরানোর আগেই
ওর সঙ্গে হয়েছিল আমার ছাড়াছাড়ি।
ও দমকা হাওয়ার মত
আমার ঘরে ঢুকে বলল—
চিনতে তো তোকে হবেই আমাকে,
আমি যে তোকে
ফিরে নিয়ে যেতে এসেছি
ষোল সতের বছর বয়সে।
আমি চমকালাম!
বললাম তুই কি কালবোশেখী
সব তচনচ করে
ফিরে যাস!
তারপর অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
আচ্ছা, তোর ছেলের খবর কী?
বউ নাকি ছেলের সাথে
ফিরে যাবে আমেরিকায়!
তোর মার্সিডিজে কি
সমস্ত পৃথিবী ধরা আছে,
ছোটোখাটো কথা,
যেমন ধর আমি সাইকেল চালালে
তুই পেছনের ক্যারিয়ারে বসে
আমার এলো চুলে
মুখ ডুবিয়ে বলতিস
আঃ, কী গন্ধ!
আমার সমস্ত সুখ
তোর গা বেয়ে
উঠে যায় বুকের গভীরে।
কার্শিয়াঙে ফিরে গেলে সবাই,
তুই আমার হাত এক ঝটকায়
টেনে নিয়ে বলেছিলি,
এই হাত আমিই চাই,
এই হাত দিতে হবে আমায়
অপরাহ্নবেলায়।
এখন নাকি তোর হাত
মেশিনের মত চলে, নিখুঁত ।
দশটা-বারোটা-পনেরোটা
অপারেশন একদিনে করিস!
যে ছেলেটা একটা প্রাণই
বাঁচাতে পারল না,
বুকের গহ্বর থেকে প্রাণ
তুলে এনে ছুঁড়ে দিল হাওয়ায়,
সে কি করে পারে
সহস্র প্রাণের প্রহরী হয়ে দাঁড়াতে!
একদিন সেন্ট্রাল পার্কের ঘাসে
পা ছড়িয়ে বসেছিলাম রোদে,
তুই হাত রেখেছিলি
পায়ের পাতায়—
বলেছিলি, এই পা
কতদূর আর যেতে পারে,
আমি একদিন খুঁজে আনবো নিশ্চয়।
নিষ্ঠুর অন্ধকার জুড়ে
কত কত কথা পড়ে রয়,
আমার যৌবন খুঁড়ে
তুই কেন ফিরে এলি আলোয়!
----------------------
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem