ফেরা
আমার পাশে পড়ে থাকা
কিছু ভেজা কম্বল
আর কিছু স্মৃতি,
আমি কি
অন্যমনস্ক বিহ্বলতায়
ফিরে ফিরে যাই!
কে দিয়েছে সেইসব নিভন্ত
আলোয় মেশা সুখ,
নিষ্ঠুর চোখে তাকিয়ে
কেউ কেউ বেঁধেছিল বুক ।
আমি দৃষ্টি খুলে রেখে
শুয়ে থাকি মাটির আধারে,
এটাই তো নেহাৎ ভবিতব্য—
সকালে গোবরছড়া দিয়ে
আঙিনায়,
মা ডাকে — আয় তোকে
কোলে তুলে রাখি।
যতবার পা বাড়িয়েছি,
একটা স্মৃতিময় গন্ধ
ফিরতে ফিরতে
একদম সেঁধিয়ে গিয়েছে
বিছানায় লেপে তোশকে,
ঘরের মেঝেতে ধুলোয়।
আমি আঁশটে মুখ,
তুলে নিয়ে উড়ে গেছি
সজনে পাতায়,
অবিরাম বৃষ্টি ঝরেছে
গর্ভের গহ্বরে
সারারাত ধরে,
এখন কি অত সুখ মানায় —
চাপা পড়া ধুলো উড়িয়ে
আর কতদিন
ভেসে যেতে পারি,
এই লতা- পাতা গাছ
অস্থির শিকরে।
নিরন্তর বিপাশার ঢেউ
ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে যাই,
এখনও কি কথা
হা পিত্যেশ করে
বসে থাকে
বিষন্ন সন্ধ্যায়!
আমি ফিরে যেতে চাই —
ফিরে যেতে যেতে
তাকিয়ে দেখি,
তাকাই এদিক ওদিক,
একদিন অবসন্ন চোখ নিয়ে
তাকিয়েছিল যে নারী,
তার বুকে ভাষা ছিল,
ভালবাসা কি
এত তৃপ্তি নিয়ে
পৃথিবীকে তৃপ্ত করে?
সবটুকু কোষের অন্তরে
কার কথা লেখা থাকে —
কাকে নিয়ে পা ছড়িয়ে
বসে থাকে কিশোরী।
মাঠ পাড়ি দিতে দিতে
চলে যায় সময়,
রোদ গায়ে মেখে মেখে
উজ্জ্বল হয় কত সুন্দরী,
এক পাখি ডাক দিলে
ডানা ঝাপটায় অন্যপাখি,
মানুষ কি এমনি করেই
ফিরে ফিরে আসে বার বার?
প্রত্নযুগ পার হয় কত,
কৃমিকীট পড়ে রয়,
মানুষ এগিয়ে যায়।
এতবার খুলে রাখে
খোলস,
তবু ঢুকে যেতে হয় খোলসে,
পারাপার করি কতবার
তবু ফিরে যেতে হয়,
ফিরে আসতে হয়,
সময়ের পাশে বসে থাকে
সময়।
বুক পেতে ধরে নিতে গিয়ে
কতকিছু কান্না- সুখ- ব্যথা,
বয়ে নিয়ে এসে
সহস্র হাতে উপচে দিতে গিয়ে
হাত ফসকায়,
তবু তো সন্তান মুখ চেয়ে থাকে,
ওর হাতে কী দিয়ে গেলাম,
শুধুই পাপ আর পূণ্যে ভরা
পাহাড় সমুদ্র,
যা চেয়েছি তা কি পেয়েছি,
এই মাটি গায়ে মেখে
কতদূর যেতে পারে মানুষ,
আমি সেই নিভন্ত আলোয়
মাখামাখি অবয়ব নিয়ে
ফিরে যেতে পারি —
ফিরে যেতে হয়,
ফিরে আসতে হয়
নিরন্তর এই পৃথিবীতে।
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem