ইচ্ছাপত্র - একটি পোস্টমডার্ন কবিতা
উৎসর্গ: ধুর্জটি চন্দ
১.
কোমরে নদী জড়িয়ে হেঁতাল যুবতীরা
আকাশের হেমন্ত-ঘাম মেখে নেমেছেন
জাবাফুলার উদারপন্হী রঙে চোবানো
রঙচটা এক্কাগাড়ির টাকমাথা কৃষ্ণ
শাস্তির অযোগ্য তিনি কথানশ্বর
যিনি সাটিন লুঙ্গিতে নোনাধরা
সমস্ত জীবের মুখে স্বকন্ঠের আতঙ্কে
দুর্গন্ধ-মেশানো কথানশ্বর তর্কবিষে
পাঠাচ্ছেন আপিসঘুমে কাহিল ভাতারকর্মী
নজরকামে ঘুলিয়ে ওঠা তাদের বোধিদণ্ড
২.
আমি কিন্তু প্রৌঢ়ের শুকোতে-থাকা
শেকড় নিয়েও আগাছা আগলিয়েছি
শেষহীন দ্রোহের সবুজ অক্ষর-অস্তিত্বে
শব্দেরা বিষিয়ে তুলতে চেয়েছে আমায়
ভেবেছে কথা বলতে-বলতে বুড়িয়ে যাব
জানে না রংবদল ছাপিয়ে ওঠে গিরগিটি
পারিবারিক ধাতুগৌরব ছিল না ছিল না
জার সম্রাসজ্ঞীর মুখের সামনে
কাঁদতে-থাকা মোমবাতির কুষ্ঠবেদনা
বেচারার শিশিরভেজা অস্হির লৌহসিংহ
৩.
শীত করেছে বৃষ্টিশব্দে নদীর স্রোত
খ্যাপলা জাল ফেলে টেনে তুলেছি
প্রার্থনার ঋণমুক্ত দেবতার চেকনাই
যা আলো বা ধাতুর নয় এমন নারী
মাঝরাতে দিনের নবীকরণ ঘটায়
দীর্ঘশ্বাসের পেশায় দেহ-গোলাম
এঁটেল পোকার সাগুশ্বেত নীতিবোধ
খেদিয়ে বেড়িয়েছে উঞ্ছমজুরিতে পাওয়া
জলের তৈরি মানুষ যারা পতনছক
ভোরের ভাঁজ খুলে পাওয়া উলকিশ্যাম
৪.
শোণিত ঝরনার লুপ-ঠিশ লুপ-ঠিশ
বাবুশকা বাবুশকা তিনি বলিপুরুষ
লাশের পায়ে স্বমাপের জুতোজোড়া
যেন গ্রীষ্মপুকুরে জলপুলক বালা
জন্মনীল অনন্তের সোহাগ-জাপটে
মনমরা নিশিলিঙ্গের সৎবাঁধন গৃহচাকর
৫.
সুখবিষণ্ণ লাৎখোরের ডুবুরিনিয়তি
যতদূর ওব্দি আমার উদ্ভবের বিশৃঙ্খলা
লেস-বসানো আসমানি মেঘ
ঊনবয়সের তুর্কি ষাঁড়দানব ওঁ-পুত্র
৬.
ভেদ্যমাংসের নিখুঁত জুজুপশু সরিয়েছে
ডানা ঝাপটে হাতলঝাড়ুর ডাইনি
যাঁর ফুঁপিয়ে-শোবার ধবধবে বিছানায়
চোখে নেমেছে উড়ালক্লান্ত শীতসারস
বলেছে, "সম্রাট মাত্রেই চাকুগোচর
বরবাদ পাড়াবিপ্লবের পেতলভেঁপু"
৭.
মুখের ভেতর ঝোলানো স্বর্ণবাদুড়
যাদের নলবন্দুকের দাঁত-কেলানো যৌনতায়
চর্বিচিকন খাদিকন্ঠ ছিঁড়েছে কুয়াশা
খ্যাতিমান ব্রোঞ্জ-বুডঢার ঝানু নৌঘাটা
৮.
লজেনচুষ-ঋদজগতের চিন্তাপাতালে
হাতলছেঁড়া বাকসো কাঁধে দৌড়িয়েছি
কারখানার ঝুলকালি পাখিহীন আকাশে
জিভ বেরোনো ধাতুঘণ্টার ঢঙাডঢং
পাটনা নাগপুর কলকাতা লখনউ পুনে বম্বে
পালকখেঁচা মোরগপুং স্বরগরমজ্যৈষ্ঠে
৯.
বেঁচে থাকার বদলে হয়ে ওঠার দস্তুরি
ফুলকুসুমের গন্ধকেন্দ্রে প্রার্থনায়
ককিয়ে উঠেছে বাক-নিপীড়িত নদী
বাতাসের গিঁট খুলে আনা আদি নৈকট্য
১০.
দুটো-দুটো দেখতে পাওয়া দ্রষ্টা যেমন
মরুভূমি ও নদীর বালিতে দুরকম বাড়ি
ভালোদিন-সংসারের আলোকিত হল্লা
তারা মনে করে উপস্হিতিই অস্তিত্ব
উঁকির সঙ্গে উঁকি জুড়ে শালীনশাদা
গাছেরা অন্ধকারকে জাপটেছে রাতভর
১১.
শোবার ঘরে খাদ-মেশানো রাখাল
মাটিতে ছায়া ফেলার শব্দে চিৎচেতন
পাড়মোড়া ছেঁড়া মাদুরে তুফানপীড়িত
পাতলা কোমরের তোতলা বসন্তবিধবা
১২.
ফ্যা-ফ্যা করা মেঘের বৃষ্টিহীন দুপুরে
জনমজুর খাটানো মৌমাছি সম্রাজ্ঞী
কুরে খেয়েছেন হেমন্তের আলস্য
আর নদীর নাম ধরে ছুটেছে তার জল
ফালিচাঁদ অন্ধকারে সস্তাছাপ হাতছানি
বা সন্নিবিষ্ট অধিষ্ঠানের রোয়াব-নারী
১৩.
চোখ বুলিয়ে দেখেছি তা কুঁড়িমুকুল
শ্বাসনালিতে আটক কয়লাচুরো
শনাক্তের অতীত ঘুমের ভেতর দিয়ে
গুহা-আটক মোংগোল মানুষীর ছোঁয়া ।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem