কিছু কথা — অনন্ত শ্রদ্ধা
৪
প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই মনে হয় একটা শিশু লুকিয়ে থাকে। তাই শিশুর কান্না আমরা সহ্য করতে পারি না। শিশুর হাসি এত সুন্দর লাগে, ভালো লাগে। মানুষ বড় হলে অনেক ঘাত প্রতিঘাত এবং জীবন যন্ত্রণার অনেক জটিলতা পার হতে গিয়ে কারও কারও মনে হয়, সেই শৈশবটা বুঝি হারিয়ে গেল। কিন্তু কিছুই হারায় না। বুকের তলে টলটল করে এদিক ওদিক গড়িয়ে যায়। মাঝে মাঝে সেই টলটলে শৈশব উপচে ওঠে, আমরা চমকে উঠি। কখনও কখনও নিজের অজান্তেই কখন যেন আমরা হেসে উঠি। একটা তরল হাসি, একটু নরম স্বচ্ছতাই ধরা পড়ে শৈশব। কবি সাহিত্যিক শিল্পীদের মধ্যে, যে কোনও সৃজনশীল মানুষের মধ্যে যেন এই শৈশব প্রায় সব সময়ই হৃদয় উপচানো থাকে । হাজার জটিলতা, হাজার গাম্ভীর্যের মাঝেও তা মাঝে মাঝেই প্রকাশ হয়ে পড়ে। সে যতই বলুন না কেউ কেউ— আমার রচনায় হৃদয়ের কোনও স্থান নেই, সবটায় মস্তিস্ক দিয়ে লেখা।
এমন নির্মল হাসি আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ করি। আচ্ছা, আমাদের সকলের প্রিয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের হাসিটা লক্ষ করেছেন — যেন গভীর গহন থেকে উথলে উঠে ফেটে পড়ছে স্বচ্ছ সরল এক হাসি। বুকের গভীরে নরম এক শিশু লুকিয়ে না থাকলে কি এমন হাসি হাসা যায়?
আমাদের বল্মীকে যখন পুজোর সময় বাচ্চারা নাটক করে, তখন দেখেছি একজন সাত বছরের বাচ্চা যেমন দমকে দমকে হেসে ফেটে পড়ে হাসির দৃশ্যে, তার পাশে বসে সত্তর পেরোনো সাহিত্যিক দেবেশ রায়ও পাল্লা দিয়ে হাসছেন। যে লেখকের তিস্তাপারের বৃত্তান্ত পড়ার সময় প্রতি দশ পনেরো পাতা পড়ার পর একটু করে বিশ্রাম নিয়েছি, তিনি বল্মীকের বাচ্চাদের নিয়ে পুরো একটা ছড়ার বই লিখেছেন। বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ সুভাষ ভট্টাচার্য, জটিল পরিধিতে যাঁর পদচারণা, তাঁকে যে কোনও পুজোকে উপলক্ষমাত্র করে একটু আড্ডা আর হাসিতে মেতে উঠতে দেখেছি নির্দ্ধিধায়। আমার মেয়ে তখন সবে “ ক ” লেখা শিখছে, দিব্যি তাঁর সঙ্গে মিশে সেই মেয়ের কাছ থেকে “ ক ” লেখা শিখছেন তিনি। ঐ শিশু যখন তাঁর হাত ধরে “ক“ লেখা শেখাচ্ছেন, তখন বলেছিলাম — বড় হয়ে তুমি বুঝবে, কাকে “ক” লেখা শিখাচ্ছ।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem