যে লেখা হয়নি এখনও
সারা জীবন ধরে মন বিশ্বাস করেছে
বটবৃক্ষের গভীরতম মূলের মত,
নিশ্চয়ই একদিন আমি
একটা সপ্তকাণ্ড উপন্যাস লিখব,
যে উপন্যাস উনুনে ফুঁ দিয়ে আগুন জ্বালানো
মায়ের মুখের বিন্দু বিন্দু ঘামের মতো
ফুটন্ত ভাতের শব্দ নিয়ে
প্রতিটা মানুষের বুকে শব্দ বুনবে,
বলবে, আমি তোমাকে চিনেছি---
কিন্তু লেখা হয়নি ।
সুতীক্ষ্ণ বর্শা ভেদ করেছে অন্তর,
আমি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে
বিশ্বাস করেছি,
নিশ্চয়ই একদিন এমন একটা গল্প লিখব,
যে গল্পকে মহাসমুদ্রের তল থেকে খুঁজে নিতে পারবে যে কেউ ---
লিখতে পারিনি ।
বিশ্বাস করেছি একটা কবিতা লিখবো,
যে কবিতা জীবনের অন্তস্তল থেকে উঠে এসে
বুদবুদের মত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে
ছড়িয়ে পড়বে সারা পৃথিবীতে,
প্রতিটা মানুষের মনে বুদবুদ সৃষ্টি করবে,
ভালোবাসা হয়ে মায়া হয়ে স্বপ্ন হয়ে,
প্রতি মুহূর্তের মৃত্যুকে
সে দূরে সরিয়ে দিতে দিতে
বাঁচাকে প্রলম্বিত করবে ---
আমি পারিনি ।
ভেবেছি একটা মাত্র বাক্য লিখব আমি,
যা মাটিমাখা গায় গন্ধ ছড়িয়ে দেবে,
চোখের দৃষ্টি খুলে দেবে সূর্যের আলোয়,
আমি চাঁদ মাখা জ্যোৎস্না নিয়ে
সেই বাক্যের সরু পথ ধরে হেঁটে যাবো ---
লিখতে পারিনি ।
ভেবেছি অন্তত একটামাত্র শব্দ,
শুধুমাত্র একটা শব্দ আমি লিখব,
যে শব্দ সন্ধ্যার আকাশ জুড়ে
অন্ধকারে অসংখ্য তারা হয়ে ফুটবে,
অন্ধকার ভেদ করে আলোকিত করবে পথ,
তুমি পথ দেখবে,
সবুজ ঘাসের মাঠে যখন পা ফেলবে,
যখন শুয়ে থাকবে,
তখন মনে হবে,
এই সমস্ত পৃথিবীটা আমার,
আমার ছিল আমার আছে আমার থাকবে,
সহস্রকোটি বছরের মধ্যে
এইখানেই আমার জন্ম হয়েছে,
আমার জন্ম সার্থক,
আলোয় আলোয় প্রস্ফুটিত হবে
আমার জন্মভূমি ----
এখনও লেখা হয়ে ওঠে নি সে শব্দ।
--------------------------------------------
© সঞ্জীব সাহা
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem