বাঁশবনের গোধূলি আলো
রুগ্ন গ্রামের মাটিতে
দীর্ঘ জীবনের ফেলে আসা
নীল পথের নিসর্গে আত্মীয়তা খোঁজে
নিভৃতের গহ্বরে মিলিয়ে গেছে বহুবার
এইভাবে সুষুপ্তির অন্ধকার ছুঁয়ে
মাতৃগর্ভের ভ্রূণের অতিব্যক্তিগত
নিতান্ত দুঃখের আকাশে
নিজেকে বিচ্ছুরিত ক'রে
জেগে থাকে পৃথিবীর নীরব তরঙ্গে
মহাবিশ্বের বেদনা স্পর্শ করে আমাদের...
তারপর দূরাগত জন্মের গভীর ধ্বনি
অতীতের দেহে রক্তকণার হারানো অনুভূতির
অনন্ত নৈরাশ্য ভেঙে সুরের আকুল যন্ত্রনা দিয়ে
নিবিড় বক্ষের আঁধারে মানুষকে
অনুভব দিয়ে যায়,
পৃথিবীর ধুলোমাখা স্রোতের
সবুজ ঘেরা গ্রামে
বটবৃক্ষের ছায়ার গভীরে সন্ধ্যার অভিমানে
অতিপরিচিত রাখালিয়া বাঁশি
বাঁশবনের নিঃস্বের সংসারে
বেজেছে আপন মনে
মধুর গ্রামের এমন প্রাচীন প্রাণে
স্নেহের নিশ্বাসে সহস্র দুঃখের রাতে
কির্তনিয়া আসে বহু মৃত্যুর বিস্মৃত
ইতিহাসের নিশ্চিহ্ন পথে
পৌষের রাত্রির সমূহ স্তব্ধতা
ছেঁড়া কাঁথার ভেতরে পড়ে থাকে...
নির্বাক সন্ধ্যার ঝুড়িমূলে
কুয়াশার বাতাসে নিহিত
রাখালের করুণ বাঁশির অশ্রুদাগ
পশ্চিম দিগন্তে আজও বুকের পাড় ভাঙ্গে
রুগ্ন গ্রামের মাটিতে
গোধূলির শেষ আলো নিভে গেলে
ছেঁড়া কাঁথার ভেতর রাখালিয়া বাঁশি
প্রাণের নিঃসীম মর্মে মাতৃজঠরের
আস্বাদের অনুভবে পৃথিবীর নীরব তরঙ্গে
মুক্ত হয় দূরাগত মহাবিশ্বের ধ্বনির গর্ভে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem