পশ্চিম দিগন্তে ধূ- ধূ মাঠের শেষে সূর্য তার বেদনার হাত ফিরে ফিরে বাড়ায় Poem by Soumen Chattopadhyay

পশ্চিম দিগন্তে ধূ- ধূ মাঠের শেষে সূর্য তার বেদনার হাত ফিরে ফিরে বাড়ায়

পশ্চিম দিগন্তে ধূ-ধূ মাঠের শেষে সূর্য তখনো আমার দিকে চেয়ে— বাড়িয়ে দিয়েছিলো বেদনার
হাত...

তৃতীয়ার চাঁদের আকাশ হতে নেমে আসছিল অন্ধমেঘস্মৃতি— বিষন্ন হাওয়াই মাটিঋতুদাগ নির্জন রাত্রির নগ্ন হলুদ সভ্যতার কথা বলে যাচ্ছিল অনর্গল— মৃত অভিজিৎ নক্ষত্র সীমানা ছাড়িয়ে নির্ভুল শূন্যতা দিয়ে তার প্রতি জন্মের জন্মকথা নির্মাণ করছিল উষ্ণ ছায়াপথের বুকে— অন্তিম প্রাণের কাছে ছুটে যাচ্ছিল আলোবীজ নিজস্ব স্বভাবে

সৃষ্টিশঙ্খের নিরুদ্দেশ শব্দ খুঁজেছিল যারা তারা বহু হিমযুগ মায়াগর্ভে রেখে বহু কষ্টে জন্ম দিল ডানাভাঙা অন্ধ প্রান্তিক মানুষের— সেদিন নাভিউপত্যকা হতে রক্তস্মৃতিবীজ মিথুন মুদ্রার কথা ভেবেছিলো— জরায়ুদেশের অমৃত ঝরেছিল অনুষ্টুপ ছন্দে—ছন্নছাড়া রাখাল ছড়াচ্ছিল প্রাকৃত সুরে আদি শীৎকার গাথা— নিভৃতে চণ্ডাল জীবন সেদিনের নির্বিকার গাঢ় সঙ্গমে হাড়রক্তমাংসে গেঁথে নিয়েছিল ঊরুসন্ধির যোনিফুল রহস্যময় অন্ধকারে রক্তের গভীরে— এখন অবিরল যুগ্ম হাহাকার প্রতিদিন বাঁশি ভাঙ্গে দহনে দহনে— বিবর্ণ ধুলোর বিষন্ন বন্দিশ অনাদরে ঢাকলো সমস্ত আকাশ— ফ্যাকাসে জীবনের কান্নাশব্দে ভেঙে গেলো নিটোল কঙ্কাল- হৃদয়ের গঠন— ক্ষমার ডাক মিলিয়ে গেছে ভুলে যাওয়া নষ্টলিপির জালে— সুখস্বপ্নভোর আসে না তো আর— জননী রাত্রি কাঁদে একাকিনী— স্ফীত কবন্ধসকাল নাভিশ্বাস ছাড়ে— নৌকার ভেতর জেলে মাঝিদের সন্ন্যাস জীবন আমাকে কাঁদলো গোধূলির গভীরে— প্রিয় মুখে প্রিয় কিছু কথা গোধূলির গভীরে ভাসে তবু আসে না তো কাছে বহু অভিমানে— এইভাবে নিরাশা এলো অন্ধ পাহাড়ের কোলে

তারপর কার্তিক সন্ধ্যার সিক্ত অন্ধকারে ডুবে গিয়েছি কখন। অন্ধকারের পাখিরা দীর্ঘকায় পালকে
নিজেকে লুকিয়ে রেখে ক্রমশ অস্পষ্ট হতে থাকে।
আমার ভাঙ্গা গ্রাম - তার অক্ষম নদী প্রান্তরের ধূসর বাতাস আমাকে বিদ্ধ করে।আমার নাভি থেকে
উঠে আসে যন্ত্রণার বহুমুখ— তারা মিলিয়ে যায় আমার শীতার্ত হৃদয়ে।
নিজেকে বলি— দেবদূত দাঁড়াও— এভাবে একাকী যাবো না আবরণের ভেতর—আমি যে
দেখেছি বেলা শেষের হাটতলা— বিবর্ণ কঠিন জীবনের ছোটাছুটি— আবার দেখেছি গাঙ্গুড়ের ধূসর জলে বেহুলার ভালোবাসা - কান্নামাখামুখ— আজ তাদের যাবতীয় দুঃখ সঙ্গে
নেবো— ভেতরের সুর ছড়িয়ে দিতে দিতে, আমিষের ঘ্রাণ ছুঁয়ে সেই একান্ত অন্ধকার বইবো
শব্দহীন।

রাত্রির জলবিন্দু দু'চোখ ঢেকে দিলে পৌঁছে যাই শিকড়ে— এখানে গভীর রাতে প্রাচীন সভ্যতার
নিহত শরীর কাঁপে— অপদেবতারা দল বেঁধে আসে— বাসা বাঁধে শবদেহে— মৃত্যু ফুল ফুটে
মাংস স্তুপে— মাঝরাতে কোন্ এক ভাষা বাতাসকে আজও ঘিরে রাখে।
দুঃখিত পাহাড়তলে যারা কাদা মেখে বীজধান পুঁতেছিলো রুক্ষ মাটিতে, অনেক আষাঢ়ের শেষে—
তারা অঘ্রানের গোধূলিতে ঘরে ফিরে দেখেছে বাপ- ঠাকুরদাদার সুপ্রাচীন অশ্রুবিন্দু কুয়াশার মৃত
জলকণা—অন্ধকার ছুঁয়ে আছে।তবু পশ্চিম দিগন্তে ধূ-ধূ মাঠের শেষে সূর্য তার বেদনার হাত ফিরে
ফিরে বাড়ায়— কাশীদাসী মহাভারত থেকে বিদূরের প্রাচীন কণ্ঠস্বর শুনতে পাই— তখন সমুদ্র
পাখিদের মতো অনন্ত জলরাশি পেরিয়ে আমি এই সোনালী হলুদ দেশে ফিরে আসি আলোয় অন্ধকারে।

উন্মাদ রাখাল বৃষ্টিদেশ থেকে গরু নিয়ে ছুটে আসে আমাদের খামারে— নিষাদের প্রশান্ত গোয়ালঘর বুকের অতীত জলে ভাসে— মৃত্যরাগ শুনিও না আমাকে গোধূলি ধুলোটে— মাধুকরী জীবন এখনো ভোরের আজান শোনে—প্রেমিকের সোনালী চুলের ছড়ানো প্রান্তরে অমোঘ প্রেমের রাগিণী হননের ছায়াদিনে বুকে বাজে — উদ্বাস্তু চিহ্নগুলি একমুঠো রোদের গন্ধে জন্মের ছবি এঁকে শালিনী নদীর বিশীর্ণ চরে আজও জন্মবীজ ছড়ায়—আর শরীরী গাছ হতে আদিম রাত্রির স্মৃতিকথা পাতার মতো ঝরে—দেহভাষা নূপুরের মতো বাজে বৈষ্টমির পায়ে

পশ্চিম দিগন্তে ধূ- ধূ মাঠের শেষে সূর্য তার বেদনার হাত ফিরে ফিরে বাড়ায়
Tuesday, December 31, 2019
Topic(s) of this poem: hope
COMMENTS OF THE POEM
Jham.... 01 January 2020

Very intellectual and emotional expression...

0 0 Reply
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Soumen Chattopadhyay

Soumen Chattopadhyay

Raghunathpur, purulia west Bengal
Close
Error Success