পৃথিবীর মুখোমুখি আজ এ
একাকী দাঁড়িয়ে
আমার ঘুমন্ত ভোরের প্রার্থনা নিয়ে।
আমার রক্তাক্ত স্তব্ধ মুখ
বিধ্বস্ত প্রান্তরে বহুবার
কেঁদেছে মৃত্যুর আগুনের কাছে যজ্ঞের সমিধ চেয়ে
দুরন্ত দুঃখের অন্ধকারে
ধুলোয় ক্লান্তিতে যারা বোবা
রাত্রির সমূহ চিহ্নে ভরে
নিয়েছিলো নিজেদের মুখ—
পশ্চিমের মৃত্যুময় স্তব্ধতার গভীরে নিজেকে সমর্পণ করে
যারা অন্ধকারে ক্ষয়ে গেছে শব্দহীন—
কৃষ্ণপক্ষ ছায়া, আত্মস্মৃতিরা ঝরেছে অবিরাম
যাদের শুকনো নিঃস্ব বুকে—
বিস্তীর্ণ খরার মাঠ পাথুরে মাটিতে যে জীবন
ঘুমের ভেতর স্বপ্ন দেখেছিলো ধানশিষ ভরা ক্ষেতে পায়রার আনাগোনা, চারিদিকে হত্যার উৎসবে কোথায় হারালো তারা!
সেই শূন্য দগ্ধ অন্ধকারে রুদ্ধস্বর—
তাদের অস্তিত্ব রোজ দেখেছি নিলামে ওঠে
ঘাতক রাষ্ট্রের ফুটপাতে...
অস্তিত্বের ধারে গোরস্থান—
যন্ত্রণা, ভেতরকার বাসি কথা বলতে বলতে
সব শব্দ জীর্ণ
হয়েছে কখন:
শ্মশানের ছায়া
গাঢ় হয়ে নামে
বিদায় বেলায়— সকল আত্মীয় ছিল।
তবু মনেহলো -কে যেন ছিলোনা কাছে
মরা নদী নুড়ি পাথর বিছানো রুক্ষ লাল রাস্তা,
সূর্যাস্তে ঘনিষ্ট হয়েছিল একদিন
এইসব মানুষের পাংশু ক্ষত বিক্ষত জীবনে...
হৃদয়ের সন্ধ্যা কবরের
উপর গোধূলি আকাশের
গাঢ় হাহাকারে
নিজেকে খুঁজেছে বিবর্ণ কঠিন মুখে
মৃত রাত্রি জেগে উঠে বিধ্বস্ত প্রান্তরে
রঙিন উজ্জ্বল
তারপর ঢের বিপ্লবের পর
বহু আকাঙ্খার সকল ক্ষুধার্থ মুখ দু'হাত বাড়ালে
ফুটন্ত চালের গন্ধে ভরে ওঠে রান্নাঘর...
এইভাবে যুদ্ধ করতে করতে বিষ অন্ধকার নেমে এলে
আমি বারবার জেগে উঠবো
সীমানা বিহীন সমস্ত পথে—
ব্যক্তিগত রক্তে
স্নেহের সকল হাতে দিয়ে যাবো
অঘ্রানের ধান ভরা ক্ষেত
জেগে থেকে আমি একাই ফোটাবো বসন্তের লাল ফুল...
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem