তাড়িতের আর আত্মতাড়িতের দুঃখ সেই শুধু জানে
ঘরে ও ঘরের বাইরে যে নির্বাসিত আছে
যার সকল বেদনা শুয়ে থাকে বুকের শুন্যতা ঘিরে
ঘন অন্ধকারে তার প্রতিশ্রুতি ও প্রতিজ্ঞা গুলি
বাতাসে শঙ্খের মতো বাজে
যে দেখেছে-
হত্যার নিষ্ঠুর দৃশ্য অবিরল—
পৃথিবীর আকাশে অবাধ্য মেঘের মতন ভাসে
যার অঞ্জলিতে আবদ্ধ হয়েছে
ফুল-জলের বদলে
হাহাকার শোকের ছায়ারা
তৃষ্ণার্তের মানবিক মুখগুলি দেখে যে
কেঁদেছে শূন্য মন্দিরের মাটিকে রক্তাক্ত ক'রে
নির্জন আঁধার চিরে
রাতের পাখির মতো
পৃথিবীর দীর্ঘতম পথ হেঁটে
কোনো এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে
বসন্তের স্ফুরিত স্বর্গের ফুল
দিতে চেয়েছিল মানুষের হাতে
এই বিপন্ন সময়ে
ঘরে ও ঘরের বাইরে সে আজ নির্বাসিত আছে
চোখের গহ্বরে শ্মশানের ছায়া—
আমার চলার পথে অঢেল রক্তের শুকনো বিষন্ন দাগ
মৃত্যুর মিছিল দেখে—
একথা ভেবেছি- এই গাঢ় বেদনার দিনে
মানুষকে জাগাবার হাতিয়ার আছে
আমাদের হাতে, আমাদের কবিতার ভাষা-
একমাত্র প্রতিরোধের উপায় ভাষার ক্ষিপ্রতা
নিক্ষিপ্ত তীরের মতো তিরস্কারের ভাষা যে
আমাদের মুখ থেকে কেড়ে নিয়েছে
তাদের আমি ঘৃণা করি
সমগ্র ভূখন্ড জুড়ে মানুষ তাদের ঘৃণা করে
নির্বাসিত সেই আত্মা আত্মতাড়িতের দুঃখ জানে
আগুনের গর্ভে যে সাহসী পদক্ষেপ ফেলে
বসন্তের রক্তিম অরণ্য, ঘরে ঘরে এনে দিতে চেয়েছিল
ঘরে ও ঘরের বাইরে সে আজ নির্বাসিত আছে
ঘন অন্ধকারে যার সেই সব প্রতিশ্রুতি ও প্রতিজ্ঞাগুলি
আজ নির্বাসনে থেকে, বাতাসে শঙ্খের মতো বাজে
তাড়িতের আর আত্মতাড়িতের দুঃখ সেই শুধু জানে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem