হে হৃদয়—
দীপ্র শিখার মতন
মানুষের অরণ্যে জ্বলেছো তুমি
নিভৃতের বিমূর্ত বৃক্ষকে দেখেছি
ঘিরেছে হেমন্তের মৃত হলুদ পাতারা
পূর্ব জন্মের জীবন ছুঁয়ে মুলের মাটিতে রয়ে গিয়ে তারা
ক্ষয়ে ক্ষয়ে পৃথিবীর রসে সিক্ত ক'রে
নিজেকে জন্ম ও মৃত্যুর
অমৃত স্রোতের প্রবাহে ছড়িয়ে দিয়েছে
পথ জুড়ে সেইসব পাতার পায়ের ছাপ
আমাকে জাগিয়ে রাখে।
হে অনন্ত—
সকল শোকের ধারা দহনে দহনে
তোমাতে মিলিয়ে যেতে চেয়েছে চিরটা কাল
দিগন্তের অন্ধকারে এই অনুভবে
প্রার্থনার ভাষা খুঁজে
সূর্যের প্রথম সে আলোতে হৃদয় গহ্বরে
ইতিহাস জাগে করুন কান্নার সুরে
দূরের মৃত্যুর পরে অস্থির নির্মম
যন্ত্রণার কথা আমাদের জানা নেই...
তবু এজীবন একথা জেনেছে-
দুয়ারে দুয়ারে সকাল রাত্রিতে বাতাস যে গান
গেয়েছে হাওয়ার বিষাদে মাঠের বহুদূরে, রুক্ষ হাহাকারে
সেই সুরেও অনন্ত জাগে মানুষের বুকে।
গোধুলির অস্তরাগের নদীটি জলের
গভীরে গোপন যে চিহ্ন
ক্ষীণস্রোতে এঁকেছে
সে আজ একাত্ম হয়েছে
ভোরের আলোর সঙ্গে
আর সেই আদিম বৃক্ষ ও বৃক্ষের পাখির সাথে।
ঘন অরণ্যে শুনেছি তারা মানুষকে
বলেছে মর্মের গোপন দুঃখের কথা
বলেছে—
যেওনা আমাদের ছেড়ে
প্রতিদিনের নতুন পৃথিবী তোমাকে
আনন্দের সাধনার সুন্দর জীবন দেবে
হে মানুষ যেওনা কোথাও আমাদের ভুলে
এখানে এখন সমস্ত পথের আকাশে উড়বে
রাখালের বাঁশির মায়াবী ধ্বনি
কোনো এক দেবদূতের মন্ত্রের উচ্চারণে
অন্ধকার কুয়াশার মুখে শোনা যাবে
বৈরাগ্য সাধনা অনন্তের রোদ্দুরে ছড়িয়ে আছে—
রাখালের বাঁশির করুন সুরে,
হৃদয়ের গহ্বরের ইতিহাসে
ক্ষীণস্রোত একাকী ঝর্নার ঝকঝকে জলে
বহুদূর রুক্ষ মাঠের হাওয়ার গানে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem