শ্মশানের দেশে মৃত মানুষের আত্মা
রক্তপোড়া অন্ধকারে কাঁদে
মনেহলো পরান্মুখ পৃথিবীতে পরকীয়া গোধূলির আলোকে কবির
ঘুমন্ত কঙ্কাল
বেদনার শব্দগুচ্ছ নিয়ে নেমে এলো
সন্ধ্যার নদীতে
শান্তির পায়রা
উড়ে গেছে কবে
তপ্ত রক্তভাঙা চিতা, অজস্র মাথার খুলি, অর্ধপোড়া অস্থি
সঙ্গে নিয়ে অনন্তের কবিতার শব্দের গুচ্ছেরা
ভেসে যায় সেই অন্তরঙ্গ নদীজলে
একদিন এলোচুল শীতের নদীর
অন্ধকার জলে
কলার মান্দাস কেঁপেছিল থিরথির...
বেহুলার পাতাঝরা বেদনার কথা মনে পড়ে
প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে রাত ফুরোলে বিদেহী যাবে আকাশের শূন্যে
এভাবেই চিরকাল দিন শেষে সন্ধ্যারা নেমেছে
আমাদের বুকে
আজ স্তব্ধতার দিনে ভেতরে রাতের
বৃষ্টি দিগন্তে নিহিত থেকে
প্রতীক্ষার পর
বহু অশ্রুপাতে
বেজেছে নিঃসঙ্গ
সঙ্গীতের মতো
অসফলে ফসলের কঙ্কাল রয়েছে চিরকাল
আলোমেঘে বহুদিন বেঁচে থেকে এই শুধু জানি
বেঁচে থেকে স্বপ্ন দেখা সেই
কবির স্মারকপত্র উড়ে পুড়ে যায়
দিকচিহ্নহীন রূপকথার আশ্চর্য মূকদেশে
যারা দীর্ঘ অবসরে সময়ের কাছে
জন্মের উত্তাপ খুঁজে নিভৃতের আদিম জঠরে
শরীরে শিশুর স্বাদ পেতে চেয়েছিল একদিন
তারা আজ ঝরে গেছে ঝরার কারণে
আকাশবাড়ির নদীমুখে
ফাঁকা পথ আজ
ডুবন্ত নীরবে
দুর্দিনে মানুষ জীবনের
নিজস্ব ক্ষয়ের অনুভূতি
অনুভব ক'রে
নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে মৃত্যুর স্রোতের বিরুদ্ধে
নতুন আলোর আদি লোভে
এক বুক ঘন অন্ধকারে দাঁড়িয়ে পৌষের ঘুমন্ত রাত্রিতে
অনন্তের আত্মজ্ঞান পেয়েছিলো তারা
অনেক সাধনে
দেখেছিল গোধূলির আলোতে কবির
ঘুমন্ত কঙ্কাল বেদনার
শব্দগুচ্ছ নিয়ে নেমে আসে
সন্ধ্যার নদীতে
তাদের নিবিষ্ট চোখের গহ্বরে শোকের শব্দের পায়ের ধূসরছাপ
পৃথিবীর মানুষকে বহু দৃপ্ত কথা বলে গেছে
যা আজও আমাদের বুকের নির্জনে
বাজে অনর্গল, মহাশূন্যের অনন্ত
সংগীতের সুরে
দিন শেষে সন্ধ্যা নামে বুকে
আকাশবাড়ির ফাঁকা পথ উড়ে যায় নদীমুখে
জীবনের টানে
বেহুলার পাতাঝরা বেদনা দুঃখিত
কবিতার শব্দগুচ্ছ নিয়ে ভেসে যায়
শ্মশানের দেশে
মৃত মানুষের আত্মা রক্তপোড়া অন্ধকারে কাঁদে
মনেহলো পরান্মুখ পৃথিবীতে পরকীয়া গোধূলির আলোকে কবির
ঘুমন্ত কঙ্কাল নেমে এলো
সন্ধ্যার নদীতে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem