কংসাবতীর করুণ জলে
আজো তোমার কুমারী প্রতিবিম্ব ভাসে
আমাদের রাঢ় দেশ পলাশের রাঙা ডাঙা
প্রান্তরের গ্রাম দেবতা
ভাঙার নিয়মে নদীর দুকুল
ভেঙেছে আমার ভেতরে
এই শীতল গ্রহের মুখোশ
ক্রমশ ভারসাম্যহীন ক'রে
সিগারেটের সুদীর্ঘ ধোঁয়ার কুণ্ডলী
উড়ে যায় দূরের আকাশে
অবাধ্য জন্মের দাগ
ভয়াবহ ভাবে
উড়ে যায় দিগন্ত রেখার কাছে
রেখাটি তখন আরো দূরে
অন্ধকারের অতল হতে
টেনে নেয় গভীর উপরে
মাটির আত্মার চাপা কান্না
সন্ধ্যার বিষন্ন সুরে
আকাশকে ঘিরে রাখে
তোমাকে খুঁজেছি
অনন্ত রাত্রির বুকে
পৃথিবীর পিপাসা গুলির বিদ্রোহের কাছে
আত্ম সমর্পণ করে মানবিক দেহ
রক্তিম সৃষ্টির স্বপ্ন দেখে…
নীল গ্রীষ্মের রাত্রিতে
তোমাকে চেয়েছি—
বৃক্ষের ছায়ার শান্তির নিবিড়ে
নিজেকে দেখেছি—
সৃষ্টির অনেক পথ পেরিয়ে
আলো ও অন্ধকারে
গোধুলির আদিম পৃথিবী
মুখোমুখি বসে আমাদের —
বলে গেলো বহু জীবনের অনেক স্বাদের গল্প;
সেই গল্পে ছিল ভালোবাসার মর্মের কথা
যাকে আমি আতীব্র খুঁজেছি
সীমানা বিহীন অনন্তের শূন্যস্থান জুড়ে
হে পৃথিবী-
সেই দিন এনে দাও
স্মৃতির সকল স্নায়ুর অন্তরে
শিকড়ের স্নেহে শুভ্র অশ্রু
সিক্ত করুক আবার
আমাদের কঠিন হৃদয়
এনে দাও পৌষের রাতের সেই ঘনিষ্ট আগুন
যেদিন আমরা একে অপরের আত্মীয় ছিলাম
মনেপড়ে সেইদিন
পৃথিবীর সকল শালিখ
তার হলুদ করুন ঠোঁটে
আমাদের উঠোনের মাটি চুমে
উড়ে গেছে দূরের রোদ্দুরে
আমিও দেখেছি
সেসব গল্পের জলছবি
কংসাবতীর পাথুরে নদী জলে
এখনও ভাসে
প্রাচীন সৃষ্টিতে মিশে গিয়ে
এ জীবন, সকলের আত্মীয়তা নিয়ে
নক্ষত্র রাত্রির সুরে
কতবার নীরবে প্রাণের বীজ বুনে দিয়েছিলো
মাতৃ জরায়ুর আঁকা বাঁকা অন্ধকারের শরীরে
অনুজীবন গুলিকে হৃদয়ের মরমী অন্তরজালে গিঁথেছিল একদিন
বেদনার অন্ধকারে কাঙ্খিত আলোর আকাঙ্খার দেহে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem