সেদিনও কবিতার শব্দফুল
ছড়িয়ে দিয়েছি জগতে আনন্দ যজ্ঞে
যদিও জেনেছি চিরকাল ছেয়ে আছে
বিদায়ের বেদনা সকল মনে...
অঞ্জলিতে সেদিনো আবদ্ধ ছিল
জীবনের শেষ ভালোবাসাটুকু
হে পৃথিবী—
যা ছিল একান্ত নিজের
অর্পণ করেছি তোমার পদমুলে
দর্শনের কোন্ প্রজ্ঞা অনুসরণে জীবন
আমাদের নিয়ে যায় মহাপ্রস্থানের পথে
আজও তা জানা নেই
স্মৃতির ধুলোতে তোমার করুণ পদচিহ্নগুলি
মনের মাটিকে এখনো
প্রবিত্র করে পূর্ণিমার রাতে
মধ্যরাতে অঘ্রাণের গর্ভবতী ধান
তার দেহঘ্রাণে আমাকে ভাসায়
দুর্দিনের সমূহ মুহূর্তে থেকেছে শিয়রে মায়ের প্রাচীন হাত...
একাকী আঁতুড় ঘরের সুবাসে ভরে দিয়ে গেছে —
অন্ধকারে এক নিঃসীম আলোর মতো
মানুষের বেদনা অথবা বীরত্বের আত্মকথার গভীরতর
স্মৃতি প্রকৃতিতেশুয়ে আছে
ভাষাহীন সেই অনাবিল কলস্বর আমাকে জাগায়
জেগে উঠে দেখি চৈতন্যের বিস্ময়ে বিস্মিত
আমি পড়ে আছি অনন্তের আশ্চর্য প্রান্তরে
আমি অনির্বাণ একাকী প্রদীপ...
বহুকাল অন্তরে রয়েছে জ্বলে অসীমের ভালোবাসা
হে পৃথিবী—
বিদায় বেলায় দিয়ে যাবো
ভালোবাসা আর কবিতার শব্দফুল,
যা দিয়ে সমৃদ্ধ করবো নিজেকে;
নিজেকে বিলাবো নিঃস্ব করে
এই নিশ্চিন্তপুরের অমৃত মাটিতে
দর্শনের কোন্ প্রজ্ঞা আমাদের নিয়ে যায়
মহাপ্রস্থানের পথে জানা নেই
জানি শুধু ভালোবাসা
আজও রয়েছে অনন্তের হৃদয় গহ্বরে
অনিঃশেষ দিয়ে যাবো তাই
সে রাতে শালিনী নদীর আকাশে বাতাসে ছড়াবো
ব্যক্তিগত বাঁশির আকুল সুর
বটের ছায়ায়
আসবে সেদিন ব্রজের বালক
আঁতুড় ঘরের গন্ধ নিয়ে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem