উৎস মূলে নতজানু
হয়ে থাকি আমি
বইছি প্রাণের কঠিন
স্রোতের ধারার অন্তরে
সমুদ্র গন্ধের নোনা স্বাদ
লেগে আছে মনের শরীরে
নক্ষত্র ধূলোর এই জীবনের কোষে
প্রতিফলিত হয়েছে
বহু আলোক বর্ষের আলো
অচেনা পথের ভয় ছিলনা সেরাতে
অনেক জন্মের পর
স্মৃতিতে এখনো গিঁথে আছে
আদিম দেহের এক নিথর আকৃতি
আর পূর্বপুরুষের চেতনার পদচিহ্ন
নীহারিকা ছিন্ন সেদেহে
প্রাচীন পাথুরে মাংসের ছাই
বিচ্ছিন্ন খণ্ডের সঙ্গে
আত্মীয়তা বোধ ক'রে
মধ্যরাতের বিস্তৃত মস্তিষ্কের রক্তরসে
কল্পনার অন্ধকার শব্দ স্রোতে ভাসে
এক অব্যক্ত ব্যাথার সুর
এমন সময় সৃষ্টিতে শোকের নিভৃত কম্পন
হৃদয় তরঙ্গে এক হয়
সমুদ্রের জলজ সমাজে নোনা গন্ধে
বহু প্রতীক্ষার পর একদিন
নীল রক্তের ভেতর
চৈতন্যের কোলাহল জেগেছিল
আজো সেই গন্ধে
নতজানু হয়ে থাকি
ফসিলে উৎকীর্ণ ভ্রূণের আশ্চর্য ফুল
আর তার ভাষারূপ
উচ্চারিত হলে, শিলাস্রোতের আদিম
আগ্নেয় বিন্দুর আর্তি খুঁজেছে আমাকে
আমি বারবার নতজানু
হয়ে থাকি সেসব আর্তির উৎস মূলে
অবচেতনের সেইসব বিমূর্ত
দেহজ প্রাণ পৃথিবীর মাটি
স্পর্শ করে আমাদের
বারবার চেয়েছে সুতীব্র
শরীরের নানা রঙের
প্রকৃত শবের সেতুর উপর
হাঁটছি অনর্গল...
এই কথা ভেবে ইতিহাস ছুঁয়ে
প্রসারিত সুদূরের মেঠো সুরে ভেসে গেছি
প্রতিশ্রুতির সকল শিখা
কেঁপে ওঠে এখানে এখন
আর আমি নতজানু হই উৎস মুলে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem