শিকড়ে বাকোড়ে শীতার্ত মাটির মজ্জার ভিতর
চির রৌদ্রজ্জ্বল আলো খেলা করে
দেবদারু ভাঙে উদ্ধত বুকের মাঝে
এই রুক্ষ মুক্ত মাঠে নির্জনতা বাজে
নিস্তব্ধ পূর্ণিমা রাতে পাহাড়ের বেদনারা
একাকী অন্তরে জ্যোৎস্না মেখে
অবোধ শিশুর মতো ঘুমিয়েছে চিরকাল
ছায়াপ্রাঙ্গনে গোয়ালঘরে ছাঁচতলে নবান্নে উত্থানে
আমরা গেয়েছি গান একদিন
অনর্গল তীব্র রোদ্দুরের চলাচলে
সেদিনের হিমঘুম, সকলের স্তব্ধ মুখ
জেগেছে আলোর দেশে
সেদিনও আমরা অনেক পথ হেঁটেছি
সুবর্ণরেখা নদী তটে জীবনের স্বাদে
পরাস্ত দিনের ইতিহাস নিভৃতে বহন করে
বীজের ভেতরে আরো অনেক
প্রাচীন সমাধির কিছু গূঢ় কথা
কঠিন আঙ্গুল তুলে কবিতার শব্দগুলি
নিজেকে নিঃশেষ করে বেঁচে থাকে
পৃথিবীর কবেকার ক্ষীণ গানে
পৃথিবীতে চিরকাল পাখির নরম বুকে
তীর বিদ্ধ করে মানুষ নিজের বিস্তৃতি প্রতিষ্ঠা করে
তারপর নিজস্ব ব্যাধির ভারে নিঃস্ব হয়ে
দেখেছে নিজের ক্ষয়
গুহার পুরোনো পাথরে প্রাণের ঝঙ্কার শুনেছি
বসন্তে পতঙ্গদের অক্লান্ত নিষেকে প্রাগৈতিহাসিক
দিন আমাকে জাগায়
আজ প্রাচীন গুহার নীরব কান্নার ধ্বনি পৃথিবীর
উদ্ধত গৌরব ভাঙে, আত্মীয়তা শুন্যের সঞ্চার পথে
নির্জনের শৃঙ্খল ভেঙেছি অহর্নিশ
মানুষের দু ঠোঁট ছুয়েছে বিষ
বহু পুরনো আমার শব্দগুচ্ছ
সূর্যকে জাগাবে কবিতার বকুল ফুলের রঙে
ভালোবাসার বুকটি সেদিন মুক্তির খোঁজে
নিজেকে বইবে শব্দহীন শীতার্ত মাটির
মজ্জার শিকড়ে বাকড়ে হাড়ের ছায়ার গভীরে
বুদ্ধের ধ্বংসের ক্লান্ত বেলায় হয়তোঅশান্তে
নিঝুম বিবর্ণ গোধূলি প্রাগজন্মের সেদিন
সমাহিত হবে অরুণাভ বিনম্র আলোর দেশে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem