তুমি কি একান্তে অনুভব করোনি
নিভৃতে মাটি মূলের কঠিন বিস্তৃতি
ছুঁয়েছে আমাদের বহু শূন্যতা,
জড়িয়ে ধরে মধ্যরাতের ঘুমন্ত শ্মশান,
সেখানে অনন্তের ডাক
অবিরল শব্দহীন বেজে ওঠে দগ্ধ বুকে
পবিত্র স্রোতের সেই স্নিগ্ধ সঙ্গীত
তোমার দেহের প্রাচীনতম স্নায়ু ছুঁ'য়ে
যন্ত্রনার নির্জন বিস্মিত ক্ষণে,
তার মায়াবী করুণ সুরের তরঙ্গে
তোমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়
পৃথিবীর প্রাকৃত প্রান্তরে
যেখানে ছড়ানো প্রত্নরোদ্দুরে
জ্ঞানের আলো মেখে তোমার শরীর
নিঃসঙ্গের বিষাদ বেদনা
ভুলে গিয়ে ক্রমশ জেনেছে
সূর্যাস্তে রাজার মুকুটও
ম্লান হয়ে আসে— যে কথা তোমার অন্তরে বেজেছে
তুমি কি একান্তে অনুভব করোনি সে স্পর্শ
প্রকৃতির নিপুন গ্রহণ বর্জনের
সেই বোধ বিনিময়ের খেলাতে
আদি জন্মের বাতাস
বসন্তের গোধূলি নাভিতে
আমাদের আচ্ছন্ন করেছে বহুবার
তুমি কি দেখোনি
সান্ধ্য ভাষারা উড়েছে
জলজ দেহের অলৌকিক
ফুলজন্মের প্রচ্ছন্ন কুয়াশার
উদাসী অস্তিত্ব ঘিরে
দেখোনি কি—
হাড়ের গভীরে ছায়াপথের স্বাক্ষর
সুদূরের রূপালী আকাশে ভাসে
আমার ভেতরে পোয়াতি ধানের
প্রতিশ্রুতির নরম শীষ
তার ডানার উদার গন্ধে
ভরে দেয় ভালোবাসার ফসল
স্মৃতিপুঞ্জে সঞ্চিত প্রাচীন ব্যথার বিন্যাস
আজ আত্মজের হাত ধরে চলেছে
নতুন পৃথিবীর পথে
সুষম ঐক্যের পথে চ'লে
মহীরুহের মতন
বুকের উত্তাপে জড়িয়ে নিয়েছি
আমার গ্রামের মেঠো পথের
জীর্ণ স্মৃতির কণিকা
কোনো এক জ্যোৎস্না রাতের
প্রার্থিত রূপের অন্তরে
আজ প্রত্নরাতের গভীর বোধে
মহাশূন্যে জ্বলন্ত আগুনে
বিপন্ন দিনের আত্মবিষাদ পুড়িয়ে
চলো হেঁটে যাই যেখানে
অনন্তের ডাক অবিরল
শব্দহীন বেজে ওঠে
আমাদের অন্তর প্রাণের সুরে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem