এমন দিনে কষ্ট দিওনা
সৌমেন চট্টোপাধ্যায়
আমাকে দিওনা কষ্ট আর
ধ্বংসের চুড়ান্ত অনুপ্রাসে
এখানে নিঃশব্দে ক্ষয়েছে আমার সবুজ জীবন
আমি যে পুড়েছি অনুক্ষণ
আকাশে পাখির অবিরল দীর্ঘশ্বাসে
ছড়িয়েছিলাম অনন্ত রোদ্দুরে প্রাণ
সেই মায়াটুকু ক্ষণে ক্ষণে
বেজেছে আমার মৃদু শান্ত হৃদয়ের চারপাশে
শিশিরের স্নিগ্ধ বিন্দু ভালোবাসার শীতল ফুলে ছড়িয়েছি
সৃষ্টির অমোঘ ছবির মতন দেহে
কোনো একদিন তারা অস্ফুটে গেয়েছে
প্রাণের সাজানো বাগানে মায়ের গান
আজ সব নষ্ট ক'রে স্মৃতির বিবর্ণ নীল রেখা
বুনোনা আমার সিক্ত বুকে
কষ্ট পাই, অপরূপ মানুষ ফুলের
বিপন্ন দিনের অনুপ্রাসে
দুপুরের বহুচেনা ছাতিম বটের ছায়া মাধুরী এখনো গান
গায়
অপস্রিয়মান সন্ধ্যা আলোর ভেতরে
অস্তগামী সূর্য গেলো অচিরে পশ্চিমে
গোধূলির বিচ্ছুরিত আলোর নির্জন আর্তনাদ
জোড়ের বিশীর্ণ দেহে মিলিয়ে যাচ্ছিল সেইদিন
রেখা হীন পথে
ক্লান্তির পৃথিবী ভেঙে যায়
এইভাবে শব্দ গন্ধহীন
কেঁদেছে ঘরের মাটি ছুঁয়ে
গ্রামের আঙিনা
রুক্ষ আলপথ
ধূসর মুখের এক বিমর্ষ চাউনি
একাকী ঘনিষ্ঠ অন্ধকারে
অতীত ছায়ারা ছুঁড়ে দিচ্ছিলো যুগের
বিবর্তন জ্যোৎস্না ভাঙা বুকে
নিতান্ত দুঃখের আলো দূর হতে ছুটে এসে
নির্বিকার চেতনার অন্তর আকাশ
চিরে এক জ্যোতির্ময় নরম শিশুর
পূর্ণ জন্ম দিয়ে প্রতিশ্রুতির একান্ত গূঢ় কথা রেখে গেছে
নৈরাজ্যের এ পৃথিবী আকুল তরঙ্গে প্রাকৃত দেশের কাছে
নিভৃতে বলেছে, এবার আমাকে অব্যাহতি দাও
আমি যে জ্বলেছি দাউ দাউ মানুষের রক্তগন্ধে
এমন জ্যোৎস্নার রাত আমি তো দেখিনি
অসহিষ্ণুতার চূড়ান্ত বৃক্ষের ফল
ছিঁড়েছে সকল নতুন আলোর স্বপ্ন
দিওনা এমন শূণ্য করে
আঁধারে অনেক জীর্ণ জীবন ডেকেছে
অতল প্রবাহ থেকে আসে
আত্মঘাতী নিরন্নের করুণ চিৎকার
অতর্কিতে ব্যর্থতার আগুনে আমাকে পুড়িও না
জমানো রোদ্দুরে একদিন ছড়িয়ে ছিলাম প্রাণ
আমি তো চেয়েছি ঘরের গভীরে শান্ত
প্রদীপের হৃদয়ের প্রত্ন
ছায়ার বিস্তৃত সেই সবুজ জীবন
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem