জন্ম হলো অন্ত্রনাড়ির বিষাদ জলে Poem by Soumen Chattopadhyay

জন্ম হলো অন্ত্রনাড়ির বিষাদ জলে

মরমী গোধূলি জলে আগঙ্গা শরীর
শূন্যতার দিকে ভেসে গেলো

দিকরেখা শূন্য থেকে ডাকে
বোবা অশ্রুতাপ চিতার কঙ্কাল ছিঁড়ে
পাশে এসে বসে
রাতঘোর হলে অন্ধদুঃখ পথ চলে
উড়ে পুড়ে চলে যায় দিন

প্রাচীন লিপির অনুদ্ধারে
রূপসী জীবন রয়ে গেল অন্ধকারে

কাঙ্গালিনী তার
অজাত শোকের অন্ত্রনাড়ির বিষাদ
জলে একদিন
তোমার আমার জন্ম দিল শতখাতে

মাটিমূলে গেঁথে ছিলে বিষ
সেখানে মায়ের
শুষ্ক রক্তকনা খসেছিলো, এখনো তা
রেখেছি আগলে

শরীর খামছে ঘন মাংস তুলে নিলে কি উল্লাসে!
ভয় থেকে আরো ভয়ে নিয়ে যাও কোন অভিলাষে!
আকাশের ছায়াতলে অঘোরে ঘুমিয়ে
আছে মানুষের নীলমুখ
শুয়ে আছে মাটিবাতাসের প্রাণগন্ধ
মুছে দিয়ে গেলে ভিটেমাটি
দমকা কল্লোল

ছড়িয়ে দিয়েছো মৃত্যু কেন
এমন উদ্ভাসে!

রাত্রির ফুলের
ব্যথা প্রতিষ্ঠিত
হলো না নক্ষত্র ভিড়ে আজো

আগঙ্গা শরীর
তবে কি শুধুই
শূন্যতার দিকে ভেসে যাবে!

ছড়ানো রোদ্দুর
শুষে নিয়েছিলো আত্ম বিষাদের রস

রাজার বিপন্ন সন্ধ্যা এনেছি পাঁজর ভেঙে ভেঙ্গে
সেইদিন এক অলৌকিক ছায়াপথ
বুকের ভেতর প্রতিশ্রুতি রেখে যাচ্ছিল ক্রমশ

সকালের রোদে
দোয়েল শালিখ কাকের জীবন যুক্ত
হচ্ছিল আকাশে
চকিতে অভিজ্ঞ মাটিসুরে
শতশিরা জেগেছিল করোটি কপালে
স্বপ্নঘুমে ব্যথাস্রোতে তারা
ঠাই চেয়েছিল উন্মুখ আলোর দিকে

সেখানে নিশ্চয় বিন্দুপ্রতিম সূর্যাস্তে রুদ্ররাগ জেগে আছে
নিশ্চয় সেখানে জায়মান ভালোবাসা
জমাট বেঁধেছে

জল ভেঙ্গে ভেঙ্গে মানুষ মুক্তির দিকে
জরায়ু ঠেলেছে

সূর্যাস্তে সমূহ
দৃশ্যপটে দেখি
জেগে আছি আমি

ধ্বংস করে দাও যতটা পারবে তুমি
পাথরের মতো
স্তব্ধ নই আমি
পৃথিবী পোড়াও তুমি তোমার উল্লাসে
মনেরেখো তুমি
আমার রক্তাক্ত হাতে জন্মবীজ আছে
যাবোনা নিঃশেষে
জেগে আছি মানুষের সোনালী কল্লোল ভালোবেসে

মনেরেখো হাতে আছে বীজ
ধ্বংস থেকে উঠে
আসবো আবার

গৌরাঙ্গ ভরেছো দুঃখবিষে
মনে কি পড়েনা অন্ত্রনাড়ির বিষাদ জলে জন্ম হয়েছিল
তোমার আমার,
দেখো চেয়ে শতশিরা জেগে আছে করোটি কপালে

COMMENTS OF THE POEM
READ THIS POEM IN OTHER LANGUAGES
Soumen Chattopadhyay

Soumen Chattopadhyay

Raghunathpur, purulia west Bengal
Close
Error Success