আমি তো এখন
সেদিনের সেই বোধিবৃক্ষ
ইতঃস্তত অভিশাপগুলির নিঝুম
দেহশব এই জীবনে মিলিয়ে আছে
রয়ে গেছে শূন্য দেহবৃক্ষে
সেসব ঘনিষ্ঠ দিনযাপনের
সবুজ শ্যাওলা;
গভীর প্রদেশে ভেসে আছে
তারই ব্রহ্মনাদ, কষ্ট ম্লানদুঃখছায়া
উদাস রাত্রির কোলে অনর্গল ভাঙা অন্ধকারে
অন্ধকার ভেঙে ফাল্গুন রোদ্দুরে একটি জীবন্ত প্রাণ খুঁজি
প্রত্যন্ত মৌলিক দেশে জন্মান্ধ ক্ষয়ের কাল গন্ধ
কিছু স্বাদ কিছু স্মৃতিহারা কথাছায়া আবছায়া
হয়ে অর্ধনারীশ্বর তার
যুগ্ম প্রতিভাসে
আমাকে জাগায়
অবচেতনের নাভিফুলের কম্পনে
দেখেছি, সন্মুখে
দেবঋষি গূঢ় অতিপ্রাকৃত সৃষ্টির
রাত্রির মাতৃকাফুলে নম্র অঘ্রানের
ক্ষেতের চূড়ান্ত হিম আঁধারের শান্ত ক্ষণে
উজ্জ্বল সূর্যের সন্তানের
মতো আরো এক অজ্ঞাত সন্ন্যাস মেধা
আমার ভেতর গেঁথে দিয়ে মহাপৃথিবীর অষ্টনাড়ি ছিড়ে
অভিষিক্ত করে
অন্তরীক্ষ জুড়ে
মনের গভীরে যে স্থাপত্য
রুক্ষতা নির্মাণ করেছিলো একদিন
জৈষ্ঠ্য কৃষ্ণাচতুর্থীর বিষণ্ণ মুহূর্তে;
এক লহমায় তাকে নষ্ট করে বিবর্ণ ধ্বংসের
দিকে নিয়ে গেছে বহুবার
সেই ঋষীগন্ধ
সেদিন নৈঋত
মেঘ থেকে অপ্রাপ্তির শূন্যতা মৃতের
দেহকোষ হতে পাণ্ডুলিপি ভরেছিলো
বিধ্বংসী জলজ
শরীরের পোড়াগান সুরে;
আত্মজের খোঁজে মৃতবৎসা রূপসী নিজস্ব জন্মদেশে সন্ধ্যাসূর্যফুল ক্ষণে ক্ষণে জন্ম দিলো
চির আকাঙ্খিত ভূমিদেশে
পশ্চিমের দুঃখস্মৃতিঅশ্রু মুছে দিয়ে
আজো তা শূন্যের গভীরে সৃষ্টির দিনাঙ্ক নির্মাণ করে;
জন্ম বিস্তারের মহাপ্রবাহের সেই
ভীষন ক্লান্তির স্তব্ধ আদি পুরুষ ও রমণীর
নিদ্রামগ্ন রক্তজলস্রোতের অন্তরে
ভোর রাত্রে সেইসব নিষাদি অতীত স্বপ্নচিহ্ন
নিষ্পাপ অন্তিম সুর মেখে ঘনকৃষ্ণের অনন্তে যেতে চেয়েছিলো; দেহভাষাগানে সেই মুখ ফুটে ওঠে
কাঙ্গালী গোধূলি চিহ্নগুলি
বাঁশবন নদী...
জলের গোপন গর্ভফুলে মৈথুন রচনা করে
আমাদের জন্ম দিয়ে গেলো
ইতঃস্তত কোনো এক ভিনদেশী মায়াবী বিষাদগুলি
আমার স্মৃতির দেহাবশেষের অতি প্রত্ন ধূসর মাংসের কণিকা আদর মেখে ছুঁতে চেয়েছিলো
পিতৃ পুরুষের মহাকাশে
ছড়ানো বিছানো তর্পনের অশ্রুজল
পৃথিবীর ব্রহ্মলগ্নে
আপতিত রোদ্দুরের মন বোধিবৃক্ষে
নিজেকে ছড়ায় সুচিত্রিত
মানুষ জন্মের অন্তরীক্ষে
ইতস্তত অভিশাপগুলি
নিঝুম কঙ্কালে বারেবারে
এসে ঘর বাঁধে পোড়া জ্যোৎস্নার মলিন নদীজলে
বাঁশবনে শান্ত জোড়ের গোপন তটে...
অনাদি জরায়ুমাটি দেশে তারা আসে
গর্ভফুলে আমাদের গিথে দেয় নিজস্ব মৈথুন সুরে
পূর্বপরদীর্ঘ বহু দীর্ঘ জন্মহীন
মহাবিশ্ব গাত্রে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem