সৌমেন চট্টোপাধায় একজন নির্জনতম এবং প্রচার বিমুখ কবি। জীবনযাপনের অসহ্য গ্লানি এবং রুঢ়তার ভেতর একটি গোপ্ ণ ঝর্ণা জলের প্রবাহ তিনি লালন করে চলেছেন। ওজনদার শব্দ এবং আপাত দার্শনিকতার সন্ধান তার কবিতার প্রাণ। সুক্ষতম অনুভবের চারণ ভূমিতে তার স্বচ্ছনদ বিচরণ প্রকৃত কবিতা পাঠকের কাছে বহুমাত্রিক নান্দনিকতায় ধরা পড়বে ।যাপনের দোলাচল এবং কবিতার নিগুঢ় প্রবাহ সম্পৃক্ত হয়ে আছে। হু হু বুকের অস্থিরতা নিয়ে তার নির্মাণ খেলা । এক অন্ধ গুনিন খুঁজে চলেছেন সুরম্যভূমি । অন্ধত্বের পদচারণা চক্ষুষ্মানকেও হার মানায়। এই বন-বাদাড়, মাঠ, ডাঙা, ডহর পাঁচালী-খেউড়, লোকায়ত মানভূমের ভিটেমাটি তিনি এড়িয়ে যেতে চান না। তবে প্রকৃতি তার কাছে অনুষঙ্গ মাত্র, তার অন্তরের ভেতর যে অনর্গল বৃষ্টিপাত, দাহ, সঞ্জীবন ও স্ফুরণ তাকে তিনি কবিতায় বার বার মুর্ত করে তোলেন। তিনিও আঁখড়া, বুয়ান ছররা ও অর্জুনের দেশে লালিত কিন্তু তার কাছে তার পলাশ অরুনাভ। এখানেই তার দেখবার চোখের অনন্যতা এবং মহিমা। মৌলিকত্বে তিনি ভাস্বর। ক্রমশ ক্রমশ একটি কাব্যভাষার জন্ম দিয়ে চলেছেন, যা তারই নির্মিত পথ, সেই পথের পথিক কবি নিজে।
যে কবির, যে প্রতিকৃতির তিনি উপাসক, তা তিনিই, হয়তো --শক্তি, বিনয়, জীবনানন্দ কিংবা কোন কোন খানে তিনি নিজেই নিজের প্রতিকৃতির স্রষ্টা এবং বিনষ্টকারী। শরীরের যে অশ্রুকণা, যে হাহাকার, যে বিষাদ, যে কান্না, এবং নিভৃত বিলাপ তা তার নিজস্ব হলেও কখনও যেন আমরাও সেসবের সাথে সম্পৃক্ত হতে থাকি । মায়ামাখা তিব্বতের মত কবি একা জেগে থাকেন। এই তীর্থপথে মায়া জ্যোৎস্নায়, জলে শালিনীর মুখ জেগে উঠে। জলের আয়নায় তার ভাঙা-জোড়া চলতেই থাকে। আমরা আবহমান ও চিরকালের বিরহিনী শ্রীরাধার নরম চুলের গন্ধ পেতে থাকি। কবিতা যেন স্বপ্নরৌদ্রভূমের উপর প্রান্তিক নৌকোটি।
অনন্ত বিষাদের শব কাঁধে নিয়ে কবি সৌমেন যে পথ চলছেন, তা যে দীর্ঘায়িত হবে --- শুধু তাই নয়, এক আনন্দসুধা ও নন্দননিকুঞ্জের সন্ধান দেবে, তা প্রায় নিশ্চিত।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem