আমাদের ভ্রূণে আজও জেগে আছে অতীতের কথা
আলোয় নিষিক্ত সেইসব প্রথম জন্মের কণা
নিঃশব্দে রাত্রির শবে চিরন্তন শ্বেতপদ্ম খুঁজে
জীবনের বহুস্বাদ বাকি রেখে শ্মশানঘাটের
আধপোড়া নাভি আর বেদনার ঘ্রান নিয়ে তারা―
চলে গেছে বিবর্তনে বহুবার, ত্রস্ত কালোরাতে
প্রাচীন বাতাসে তারা ভাসে তারা কাঁদে, ভেঙে যায়
মানুষীর সুগভীর অন্ধকারে মানুষের বীজ
বড় অসহায় কালো রাস্তার দু'পাশে রুক্ষ ঘরে―
জন্ম ও মৃত্যুর মহা অন্ধকারে আবদ্ধ গলিতে
গোধূলি সূর্যকে ভুলে, ঝরে যায় আমাদের দিন
আমাদের অবিরল আর্তনাদে পৃথিবী মলিন
হয়ে ডুবে যায় দূর শূন্যে সমস্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে
দেহহীন প্রানস্রোতে শতাব্দীর অগণন স্বপ্ন
জন্মের রহস্য খোঁজে, মাথার সকল গূঢ়গ্রন্থি
সমগ্র বিশ্বকে আজ অস্বীকার ক'রে রাষ্ট্রদ্রোহী
জীবনের সুমহান প্রতিবিম্বে আমার সন্তান
ভাসে না সুস্থির, শুধু ব্যাকুলতা― দীর্ঘ ব্যাকুলতা
নিয়ে মিথ্যা শহরের চুল্লিতে প্রবিত্র শরীরের
রক্ত-মাংস অতি-প্রচলিত ভাবে রোজ পুড়ে যায়
সময়ের থেকে সরে গিয়ে আমার সমূহ ইচ্ছা
বিষণ্ণ হাসিতে গান গায় বৃত্তের ভিতরে শূন্য
বিস্মৃত যুগের ছায়া রোদে-জলে আমি জেগে থাকি―
দেখি সব ভুল সব পাপ ক্ষয়ে যায় একদিন
আমার জন্মের ইতিহাস আমাদের অভিশাপে
বিদ্ধ, আমাদের ঘরে শান্তি ফিরে আসবার পথে
দিব্য প্রার্থনায় বেজে ওঠো এবার রাত্রির বুকে
পৃথিবী প্রসন্ন হও, স্তব্ধ হোক আমাদের ক্ষয়
আমরা থাকবো জেগে ধূলো-মাটি-জল ভালোবেসে
অনেক আকাশ সূর্য আমরা দেখবো জেগে থেকে।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem