জীবন, আমি তো তোমার হাতের মুঠোতেই আছি―তবে চলে যাবে কেন? কুয়াশায়
ঢাকা অজস্র মুখ প্রতীক্ষা করছে। শরীরের প্রখরতা ম্লান হয়ে এলে― অশরীরী
বিষাদপোকা কঙ্কাল কুরে কুরে খায়। ফাঁপা হাড়ের ভিতর হিম হওয়ার স্রোতে অন্ধকার
অনবরত বেজে চলে। রুক্ষ পাহাড়ে রাত্রি নামে― আমার স্তব্ধ-গ্রামে নিশাচর
পশুপাখিদের জীবনযাপন ঘন হয়― আমি একাকী।তবুও ফিরে আসা― রক্তের-
মাংসের-স্পর্শের-স্পর্শ চেয়ে। যদি যন্ত্রনার মুমূর্ষু মুহূর্তগুলির অনুভব, দশদিক জুড়ে
নেমে আসা পৃথিবীর অতীত ঝিল্লির স্বর, অন্তরীক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত বাঁশির সুর বিদ্ধ
করে―আছন্ন করে― কোন এক শূন্যস্তরে নিয়ে যায়, তাই ফিরে আসা।
বহুকাল অন্ধকারে আছি― বিচ্ছুরিত হতে চাই প্রিয় নারীর শরীরে। তুমি দাঁড়াও―
এক্ষুনি চলে যেও না, উদ্বাস্তু সময়ে নষ্ট ফলের নিঃস্তব্ধতা প্রত্যক্ষ করছি― অনেক
দুঃখ জড়ো করেছি― দুঃখ নিজস্ব কোণে পড়ে থেকে আমাকে প্রশস্ত করছে।দুঃখিত
রাত্রে মাটির সঙ্গে একাত্ম হই― আত্মীয়তার বিদ্যুৎ খেলা করে, আরণ্যক পৃথিবীর
ছেঁড়াখোড়া মাটি আমার হাতে পুষ্প শোভিত হয়। মাটিতে ঋতুর উত্তাপ― গৈরিক
বিকেলের হিরন্ময় অনুভূতি নির্জন বৃক্ষগুলিকে সঙ্গ দেয়। পঞ্চ-ইন্দ্রিয়ের নৈরাশ্য
পুড়ে যায় উপাসনালয়ে― রোদ্দুরে চিৎকার করে ওঠে এক একটি দিন, আমার শান্ত
হিম কঙ্কালে বসন্তের ফুল ফোটে। যন্ত্রণার প্রত্যেক মুহূর্তে আদিম পাথর দেখি―
ধৈর্যের প্রতিমূর্তি।
তুমি দাঁড়াও, এক্ষুনি চলে যেও না। বহুকাল অতিকায় অন্ধকারে আছি― এবার
রৌদ্ররসে সিক্ত হবো। অজস্র মুখে নিজের ক্ষয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে একদিন
ছাই হয়ে যাবো, অতি পরিচিত আলো অন্ধকারে...
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem