আজন্ম কিছু একটা খুঁজছি। বিকেলের ম্লান আলোয় এভাবে হারিয়ে যাই। ঘুমন্ত
নদীর বুকে আকাশ― সে কি আমি! রক্তের দুঃসহ ভার বহন করি, যা আমার তৈরি
করা মরুভূমি, ক্ষয়ে যাই পুড়ে যাই― ব্যাকুল সমুদ্রে চুরমার... পরিশেষে গভীর
রাত্রির সঙ্গে নিষিদ্ধ মৈথুন― রোজ কোথায় হারিয়ে যাই, সূর্যাস্তের পর দিগন্তরেখার
কাছে আদিম আত্মীয়রা আসে― যায়,
ক্ষুধার্ত ফসিলের প্রার্থনা চেতনার নিভৃত যোগে, অনন্ত রাত্রির শরীরে ছড়িয়ে
যায়। মানুষের জঙ্গলে পাতাহীন গাছ প্রতিবিম্বের মত উদাসীন, মৃত অন্ধকারে অনেক
অজানা শব্দের আর্তনাদ বেঁচে থাকে― ভিতরে শতাব্দীর পর শতাব্দী, আরও অনেক
বড় অন্ধকারে― জেগে উঠি হাহাকারে, যতই জড়ো হই ছড়িয়ে যাই অনর্গল অন্তিমে―
অবসরের বিপর্যস্ত বুক সময় সীমানা পার হয়ে হাড়ের ভিতর ছায়াপথে সেই
শব্দসাক্ষর খোঁজে, অনন্তে মিলে যায় এক একটি মুহূর্ত― কোন এক অচেনা ভূমিতে
অদৃশ্য হই, দেখি শূন্য গর্ভে জন্ম-মৃত্যু জ্বলে। তারপর সঞ্চারিত হই ঝর্ণার ভিতর―
সে তো আমারই রক্তপ্রপাত― শিরায়, ধমনীতে যা বেজে ওঠে তা আমার সত্তার
চারণ শব্দ― যে দীর্ঘশ্বাস আবদ্ধ ঘরে তা আমারই আর্তনাদ।
অভ্যন্তরের রক্তজালিকা অশরীরী কঠিন স্মৃতি মিলিয়ে যায় দূরে, মৃত্যুর আকাশে।
বিতৃষ্ণার ভিতরে আগুন, সে আমার একাকিত্ব, আমাকে নিংড়ে নেয়― অনুপ্রবিষ্ট
হই নীল পৃথিবীর ভিতর,
এখানে বহুগামী জীবন জ্বলন্ত বিষ চায়― তারপর সমগ্র, একটি বিন্দুতে আমার
মুখোমুখি হয়।আমার দীর্ঘ ছায়া শূন্যতায় ভরে দেয়। আমার নিজস্ব শূন্যতায় দেবদূত
বিকশিত হয়, পিছন ফিরে তাকালেই আমার ফেলে আসা পায়ের ছাপ একটি নিশ্চিত
সকালের কথা বলে। অস্তিত্বের খুউব কাছে ঘুমন্ত নদীর বুকে যে আকাশ, আসলে সে
ছড়িয়ে যাওয়া আমি...
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem