কবিতা লিখি, বলতেই পাশের লোকটা চুপ করে যায় -
একটি পোস্টমডার্ন কবিতা
উৎসর্গ: আলী আফজল খান
১.
সকালের নদী-টলটলে বিছানায় তথাকথিত কলকাতায়
পুঁটলি-বাঁধা লাশে যে-দ্বিজকে পেয়েছি ভিজেচুল দুপুরে
বারান্দার নীলচে পৃথিবীতে সে এক সবুজ রঙের খসখসে
প্রাকসূর্য এগিয়েছিল তীর আঁকা ঠিকানা বরাবর সেখানে
বেলের মোরব্বার রসে ভেজানো দাড়ি চুমরিয়ে হাজিরা দিচ্ছে
ঢ্যাঁড়া পেটাবার মোষপালক যে কিন অশৌচশেষ
ধবধবে ন্যাড়ামাথায় চোখ রেখেছিল মোজেক-করা চাউনিতে
এই ভেবে যে দৃষ্টিভঙ্গীকে সত্যি প্রমাণের কালোয়াতিতে
পাওয়া যায় বিনা ভাড়ার আরশোলা ইঁদুর পিঁপড়ে আর
লাশের পায়ে রোদ-ঝকঝকে পালিশকরা জুতোর ডগায়
কোমরে দু-হাত রেখে হলুদ প্রজাপতি যার হাঁ-মুখে বর্ষা
কালের সুগন্ধ ।
২.
দিকে-দিকে গন্ধকের মৎস্যকুমারীদের একটানা গানে চাগিয়ে
উঠেছিল কারাগারে দাঁড়িকাটা আলোমাখানো বোলতা
ভনভনে দুপুর-ভুতুড়ে বাগানবাড়ির সোঁদা শ্যাওলাসবুজ
কঙ্কালসার মাসোহারা যে কিনা নিতবরের পোশাকে
রান্নাঘরের ভাঁজকরা আলোয় টুলে বসে ফুঁপিয়েছে য়হুদি-
টুপি মোসলেম বৃদ্ধের আঘাতে-পাওয়া নখের কালচে
মেঘেমোড়া হাতে ল্যাজ-ঝোলানো ইঁদুর খুঁজেছিল
জোনাকি-মাখানো শীতের ছোটো-ছোটো টুকরোর ডুবো-
প্রেমিকের নদীতে-চাটা ফরসা কঙ্কাল ।
৩.
আলো আসে তবু দাঁড়ায় না বলে হাসপাতাল-ফেরত
দুশিঙের গণ্ডারের পায়ে ফুটছিল চাঁদের কণা আসলে
টুংটাং কমলারঙের সায়া-পরা শিউলি যার কর্পূরের যোনি
মূলত একহাজার সকালের ফুরফুরে মুহূর্তে ভাসতে-ভাসতে
এগিয়েছে তালপাতা-ঢাকা সবুজ বদ্বীপে ঘুমন্ত খুঁটিতে
বাঁধা কালোপশম বাছুর ।
৪.
গাছকুমারীর তুলতুলে নিঃশ্বাসে লুটেছে অলস অমল-
তাসের হলুদ রেণু যার দেহে-দেহে নারীছোঁয়ার
লুকোনো গপপে ঈশ্বরের পেছনে লেলিয়েছিল সমবেত
প্রার্থনা আর তখন হাওয়া আমাদের পাশে দাঁড়িয়েই হাঁপাচ্ছে ।
৫.
ভয়ে মুখ খোলেনি জুতো পরার চামচ হাতে বোতাম
টাঁকায় কাহিল একলা বুড়ো যার হাঁটুতে জোর না থাকায়
বরফের গুঁড়ো-মেশানো চলতি-গানের-পাখি বাঁহাতে
টিকের দাগ নিয়ে বাঁশির ফুটোয় সাঁতার কেটেছে মাথা ঘিরে
মশক ঝাঁকের সান্ধ্যগান যা শিকারীর বাড়িতে বাঘের
চামড়ায় ঝোলানো ভিজে হাতে আলগোছে-তোলা সন্দেহ
করার ক্ষমতা ।
৬.
নিশি-পাওয়া শিরশিরে সংগীতে মাথা-নিচু করে পেটরল
মাথা জ্বলন্ত ঘোড়ার পিঠে হাড্ডিসার কুঁজো-বুড়ো ছাতা
আড়ালে ষাঁড়কে তুলেছিল গণ্ডারের ধাক্কায় ওলটানো
জিপগাড়িতে ।
৭.
তখন কাদায় কলকা এঁকেছে কথ্থক-পা কেন্নো যেখান
থেকে গাছের মূল আরম্ভ করেছিল গোরস্হানের ফাটলসুখী
ঝাঁকড়াচুল অশ্বথ্থ ঐতিহাসিক নাম ভুলে ফেলে এসেছিলেন
লালগোলা ট্রেনের ঝাপসারঙের হাঁটুব্যথায় ছুটিফেরত
রান্নাঘরের আলুতে সবুজ আহ্লাদ মেঘলা-হাতে জড়ানো
কোমর ।
৮.
জলেতে চাঁদ পড়ার শব্দে যে যুবতী আত্মহত্যা করেছিল
সেই নারঙ্গঠোঁট কুচকুচে হাঁস নেচেছে হাততালি বাজিয়ে
মোমআলোর শ্যামাপোকা ।
৯.
মেয়েবন্ধুহীন যুবকদের খাসিছাগল আড্ডায় এসেছে
ফুলশয্যার খোকাপুরুষ সদ্য সদ্য লালনীল থেকে অলিভ
হয়ে-ওঠা সেনা তার দুকাঁধ জোড়া ছুনিচোখ খরখরে পিঠ
সবজে গিরগিটি পেঁচারডাক শুনে বেরিয়ে এসেছে বাঁশের
মড়মড়ে মাচানে দুহাতে দুটো নদী ঝুলে রয়েছে সোনালি
খড় স্ফটিক-গরাদের খাঁচায় বাঘিনীর গা-ঘযা শিরশিরে
খাগড়া-ঘাস ।
১০.
রাইটার্স বিলডিঙে সরস্বতী নদীর খোঁজে ঘেঁটুফুলের
মলিন গন্ধে ছিল ঘাসের গোড়ার লালকালিতে ভেজা
কাগজডানা উঁচু উটপাখি তুলে রেখেছিল মোটবাহক
আলমারির মাথায় ঘটিতে স্নান-করার স্মৃতি-মাখা
দরখাস্তে চায়ের কাপের গোল দাগ ঘুরে-ঘুরে জুয়ার
ঘোড়া জিতে এনেছে জানলা ভাঙা মুঠো-মুঠো ।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem