মৃত্যুর পাঠক
পাঁচদিন পাঁচরাত ঝুলেছিল অদ্রীশ বিশ্বাস, আমার বিদগ্ধ পাঠক,
বুঝতে কি পেরেছিল পচে যাচ্ছে ক্রমে, সময়ের সাথে,
বনিবনা করতে পারেনি মানুষের সাথে, পারেনিকো কেন?
জীবনানন্দ তো যাহোক কিছুটা পথচর নিশাচর হয়ে
মানিয়ে ছিলেন তো নিয়ে, অক্ষরের সাথে, ইতিহাস বই থেকে খুঁটে
কে ছিল আত্তিলা, দারুচিনি গাছের জঙ্গল কোন মস্তিষ্কের কোণে-
অদ্রীশ পারলো না, বলেছিল, ওকে রায়গঞ্জের পথে সাইকেল থেকে
একদল মাস্তান টেনে বেদম মেরেছিল, ওকে চারতলা থেকে হিঁচড়ে
টেনে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দিয়েছিল পাগলাগারদে;
বলেছিল পশ্চিমবাংলায় দুইটি ঘটনা আর ঘটবে না কোনোদিন
নেতাজির ফিরে আসা এবং সিপিআইম-এর গদিতে ফিরে আসা-
এ সেই অদ্রীশ, সোনাগাছি গিয়ে বিনয় মজুমদারের স্ত্রী ও ছেলের
ফিল্ম তুলে এনেছিল, কতোকিছু সংগ্রহ করেছিল একাধিক বই লিখবে বলে-
গলায় ফাঁস দিয়ে ঝোলার সময়ে পৃথিবীকে ফালতু জায়গা ভেবে
গন্তব্য শেষ করে নিলো । পাঁচদিন পাঁচরাত ধরে ঝুলে পচতে থাকাকে
মৃত্যু বলা যায়? তারপর মর্গে গিয়ে আরও সাতদিন সাতরাত
চুপচাপ শুয়ে অদ্রীশ যা চেয়েছিল তা কি পেয়েছিল, পচে গিয়ে?
আসলে প্রথম থেকে অদ্রীশ চেয়েছিল মৃত্যুর পাঠক হতে
ওর আগে আর কেউ মৃত্যুকে বিনির্মাণ করার চেষ্টা করেনিকো-
অদ্রীশ বিশ্বাস করলো, কিন্তু জানিয়ে গেল না, বিনির্মাণের চিরকুট
লেখবার প্রয়োজন মনে করলো না, অনির্ণেয় রেখে গেল উত্তরখানা ।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem