Jasimuddin

(1 January 1903 - 13 March 1976 / Tambulkhana, Faridpur / Bangladesh)

রজনী গন্ধার বিদায় - Poem by Jasimuddin

শেষ রাত্রের পান্ডুর চাঁদ নামিছে চক্রবালে,
রজনী গন্ধা রূপসীর আঁখি জড়াইছে ঘুম-জালে।
অলস চরণে চলিতে চলিতে ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে,
শিথিল শ্রানি- চুমিছে তাহার সারাটি অঙ্গ ধরে!
উতল কেশেরে খেলা দিতে শেষ উতল রাতের বায়ু:
ঘুমাতে ঘুমাতে কাঁপিয়া উঠিছে স্মরিয়া রাতের আয়ু।
রজনী- গন্ধা রাতের রূপসী ঝুমিছে শ্রানি-ভরে,
অঙ্গ হইতে ঝরিছে কুসুম একটি একটি করে।

শিয়রে চাঁদের দীপটি ঝুমিয়া হইয়া আসিছে ম্লান,
রাত-বিহগীর কন্ঠে এখন মৃদু হোয়ে এল গান।
পূর্ব তোরণে আসিছে রুপসী রঙিন উষসী-বালা,
হসে- লইয়া রাঙা দিবসের অফুট কুসুম-ডালা।
রজনী-গন্ধা ঘুমায় আলসে শিথিল দেহটি তার,
লুটাইয়া পড়ে বৃন্তশয়নে স্বপন নদীর পার।

ভুবন ভোলানো মরি মরি ঘুম- অপরূপ, অপরূপ!
বিধাতা বুঝিবা ধ্যান করিতেছে যুগ যুগ রহি চুপ!
এ রূপ মহিমা সহিতে পারে না ভোরের রূপসী ঊষা;
রজনী ফুলের অঙ্গ হইতে হরিয়া লইছে ভূষা!

শাড়ীতে তাহার তারা ফুলগুলি দলিয়া পিষিছে পায়ে,
ভেঙেছে রাতের পাখির বাঁশরী উদাস বনের বায়ে!
শিয়রে চাঁদের মণি দীপ-খানি থাপড়ে নিবায়ে দিল,
অঙ্গ হইতে শিশির ফোঁটার গহনা কাড়িয়া নিল।
থামিল বনের ঝিঁঝির কন্ঠে ঘুম পাড়ানিয়া সুর,
জোনাকী পরীরা দীপগুলি লয়ে চলিল গহনা-পুর।
মৃত আত্মারা কবরে লুকাল, মহা রহস্য তার,
আঁচলে জড়ায়ে ধীরে ধীরে ধীরে রজনী রুধিল দ্বার।

চারিদিকে নব আলোকের জয় ; চিরপরিচিত সব,
মহা-কোলাহলে আরম্ভ হলো দিনের মহোৎসব।
এখন শুধুই লোক জানাজানি মুখ চেনাচিনি আর,
দেনা-পাওনার হিসাব করিয়া ‘বানিয়া খুলিল দ্বার।

কোথায় ঘুমাল রজনী-গন্ধা কিবা রহস্য-জাল,
সারারাতি তারে জড়াইয়াছিল ? কে শোনে সে জঞ্জাল।
রাতের রজনী-গন্ধা ঘুমায়, চির বিস্মৃতি-পুরে-
তবু রয়ে রয়ে কি করণ বাঁশী বেজে ওঠে বহুদুরে।

[কাব্যগ্রন্থ : মাটির কান্না ]


Comments about রজনী গন্ধার বিদায় by Jasimuddin

There is no comment submitted by members..



Read this poem in other languages

This poem has not been translated into any other language yet.

I would like to translate this poem »

word flags

What do you think this poem is about?



Poem Submitted: Friday, May 25, 2012

Poem Edited: Friday, May 25, 2012


[Report Error]