ডিসটোপিয়ার দেশ
হাজার ঘোড়ার পালের সঙ্গে ‘আমি' হাঁটতে চেষ্টা করছে, বে-লাগাম
ঘাড় দুলিয়ে, ঘুটঘুটে চটচটে সুড়ঙ্গে
লাগাম আছে জিন আছে
রয়েছে একটামাত্র ‘আমি' ঘোড়া
গুঁতো মেরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে কালো অন্ধকার সুড়ঙ্গে
বাদবাকি ‘আমরা' গাধা, ‘আমরা' খচ্চর
নিজেকে ‘আমি' বলা বারণ তবু আমি আমাকে ‘আমি' বলছে
সিংহাসন বলেছে সবসময় নিজেকে ‘আমরা' ভাবতে হবে
ভিতু উদ্বিগ্ন বিধ্বস্ত মানুষ-মানুষনির মতন দেখতে ‘আমি'কে
ফুটন্ত রক্তের আলকাৎরার ওপর দিয়ে, অন্ধকারই একমাত্র আলো
‘আমি'অনেক ‘আমরা'র সঙ্গে হাঁটছে
কেউ জানে না কোথায় যাচ্ছে, ঘাড় দুলিয়ে
পাশাপাশি আর সার বেঁধে
কেউ জানে না শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছোবে
বেশ কয়েকজন ঘোড়া গাধা খচ্চর মাঝপথ থেকে পালিয়েছে
এই আশায় যদি ফিরে গিয়ে জেব্রা হতে পারে
‘আমরা' কারোর কান নেই মুখের ভেতরের অক্ষর-বাক্যরা
গণ্ডোয়ানার সময়ে ফিরে যেতে চাইছে, ঘোড়ারা জানে না তারা ঘোড়ারদল
খচ্চরেরা ভাবছে তারা ঘোড়া, গাধারা ভাবছে তারা খচ্চর
চ্যাভোঁ চ্যাভোঁ করতে থাকবে, অন্য আওয়াজ কেউ শুনবেনা
শব্দেরা ‘আমরা' খচ্চরদের পাত্তা দেয় না
বাক্যরা ‘আমরা' গাধাদের তোল্লাই দেয় না
এরকমসময়ে লেখা-গান-ছবিতে শয়তানি করতে পারবে না ঘোড়ারা
তাই বাদবাকি ঘোড়ারা পেছন ফিরে ল্যাজ তুলে দেদ্দৌড় দিয়েছে
তারা কি মারোয়াড়ের ঘোড়া, তারা কি বাবরের ঘোড়া
তারা কি চেঙ্গিজ খানের মোঙ্গোলিয়ার লোমশ ঘোড়া
তারা কি লালন সাঁইয়ের ঘোড়া, যিনি লিখেছিলেন
"আমার মন বেবাগী ঘোড়া
বাগ ফেরাতে পারি না দিবারাতে
মুরশিদ আমার বুটের দানা
খায় না ঘোড়া কোনোমতে
বিসমিল্লায় দিলে লাগাম
একশোত্রিশ তাহার পালান
হাদিস মতে কশনি কসে
চড়লাম ঘোড়ায় সোয়ার হতে
বিসমিল্লায় কিন্তু ভাবি
নামাজ রোজা তাহার সিঁড়ি
খায় রাতে দিন পাঁচ আড়ি
ছিঁড়ল দড়া আচম্বিতে
লালন সাঁই কয় রয়ে সয়ে
কত ঘোড়া সোয়ারি যাচ্ছে বেয়ে
পার পাব কি আছি বসে
শুধু আমার কোড়া হাতে"
নাকি তারা জীবনানন্দের ঘোড়া, যিনি লিখেছিলেন
"আমরা যাইনি মরে আজও - তবুও কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়
মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে
প্রস্তরযুগের সব ঘোড়া যেন -এখনও ঘাসের লোভে চরে
পৃথিবীর কিমাকার ডাইনামোর ‘পরে
আস্তাবলের ঘ্রাণ ভেসে আসে একভীড় রাত্রির হাওয়ায়
বিষণ্ণ খড়ের শব্দ ঝরে পড়ে ইস্পাতের কলে
চায়ের পেয়ালা কটা বেড়ালছানার মতো - ঘুমে - ঘেয়ো
কুকুরের অস্পষ্ট কবলে
হিম হয়ে নড়ে গেল ওপাশের পাইস রেস্তঁরাতে
প্যারাফিন লন্ঠন নিভে গেল গোল আস্তাবলে
সময়ের প্রশান্তির ফুঁয়ে
এইসব নিওলিথ স্তব্ধতার জ্যোৎস্নাকে ছুঁয়ে"
নাকি ঘৌড়দৌড়ের আন্দালুশীয় ঘোড়া
ঘোড়া কেবল রেসের মাঠে জুয়া খেলায় কাজে লাগে
ফলে ডিসটোপিয়ার দেশে
বেঁচেছে কেবল কালো রঙের ‘আমি' ঘোড়া
অথচ ‘আমি'র রক্তে শয়তানি, ‘আমি'র মজ্জায় মজ্জায় বজ্জাতি
প্রতিটি শব্দ বাক্য অমৃতমন্থনের ধোপার পুঁটলি থেকে বেরিয়েছে
দেবতাদের অসুরদের ঘোড়াগাধাখচ্চরের পুঁটলিতে তফাত নেই
সেগুলো রয়েছে রঙহীন ছবিহীনতার নাইলন-দড়িতে বাঁধা
ঘোড়াগাধাখচ্চরেরজন্যরেখা টেনে দেয়া হয়েছে তা তারা ডিঙোবেনা
‘আমি' লোকটা ডিঙোয়, তার থেকে দূরে থাকে অন্য
‘আমরা' গাধা ‘আমরা' খচ্চররা
খচ্চরক্যাচাল ভালোবাসে খচ্চরদলদাস
ভগভোগ করার ধান্দায় মাতে মর্ত্যচুম্বী শ্যামলিঙ্গের গাধাক্যাডার
জগতসংসার এই বাকভেড়ুয়া গাধা-খচ্চরদের ইউটোপিয়া
সিংহাসন হুকুম জারি করেছে
কোনো ঘোড়াগাধাখচ্চর একা নিজের মতো করে চিন্তা করবে না
বেফাঁস চিন্তা করলেই শাস্তি
সিংহাসনের ঘাসখোর রোগাটে লেঠেল-খচ্চররা আছে
পাঠশালায় মুখস্হ তেইশ আর চব্বিশ অনুচ্ছেদ
মগজে পুরে দেয়া হয়েছেআলকাৎরায় তৈরি অজস্র তুলতুলে জোঁক
সিংহাসন বদলালেও ‘আমি' বলা চলবে না
কর্নওয়ালিসের চিরস্হায়ী বন্দোবস্তেরলেঠেলদের সন্তানগাধা
নীলকর সাহেবদের পোষা বেজন্মা খচ্চরসন্তান মাস্তান
অন্ধকার যুগের জন্মান্ধ গাধার দল, বেজন্মা খচ্চরের পাল
তারাজানতে পারে না শান্তিভঙ্গের চ্যাভোঁ চ্যাভোঁ শব্দবাক্য কেনদোষাক্ত
অমুক ধারা তমুক উপধারালোহার অক্ষরে লিখে গেছে ম্যাকলে
সেই অন্ধকার কানা সুড়ঙ্গ তাদের মুক্তির হাইওয়ে
গাধারা একা থাকলেই চিন্তা করবে বলে ওদের দল গড়া হয়েছে
খচ্চররা একা থাকলেই দুষ্টচিন্তা করবে
একা থাকলেই ‘আমি' হয়ে উঠতে পারে
হয়তো পারে কিন্তু গাধা, তাই হয় না
যে খচ্চররা হয়, তারা তিলেখচ্চর
ঘোড়ারা মহাকাব্যের সময় ছিল, তারা ‘আমি' ঘোড়া হয়ে যুদ্ধ লড়েছিল
কোনো ‘আমি' যুবতী দেখলে ভালোবেসে ফেলতে পারে
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ চলছিল তখনও
কৌরবদের ঘোড়ানিকে ভালোবেসেছে পাণ্ডবদের ঘোড়া
দেশভাগের দাঙ্গায় পালাতে-পালাতে দেখেছে ঘোড়া-ঘোড়ানি প্রেমে মশগুল
চেঙ্গিজ খানের নির্দেশ মানেনি প্রেমিক ঘোড়া
স্তালিনের হুকুম মানেনি প্রেমিকা ঘোড়ানি
পিনোচেতকে অমান্য করেছে তারা
‘আমি' ঘোড়াকে তাই পাঠানো হচ্ছে অন্ধকার যুগে
অন্ধকার যুগে ‘আমি'র সঙ্গে ‘আমি'র ভালোবাসা নিষিদ্ধ
একা চিন্তা করার চেষ্টা করলেই ল্যাজে সংশোধনের আগুন বরাদ্দ
সেখান থেকে রোগাটে খেঁকুরে অসুস্হ হয়ে ফিরবে দেগে-দেয়া
লেঠেল-গাধা আর ক্যাডার-খচ্চর
ছাত্র-খচ্চর আর ছাত্রী-গাধা
নয়তো আড়ঙ ধোলাইকারীদের হেফাজতে
খচ্চর আর গাধাদের চরিত্র আর শরীর বইতে বাধ্য মানুষ-মানুষনিরা
সিংহাসনের হুকুম
ক্ষমতার বিরুদ্ধে ‘আমি'রালিখবে না, গাইবে না, ভাববে না
অদৃশ্য নোটিস ঝোলানো আছে রক্তপেছল সুড়ঙ্গের হাইওয়েতে
লেখায় আঁকায় গানে অপরাধ নিষিদ্ধ
অন্ধ-বোবা-কালা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া আর কিছু করতে পারবে না
স্কুলে মুখস্হ উনিশ কুড়ি একুশ বাইশ অনুচ্ছেদ
মানুষের হাড়-মাংস দিয়ে গড়া গাধা আর খচ্চর
পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফাটল দিয়ে পুঁজের ধারা
‘আমি'রচার পায়ে রক্তের চটচটে আলকাৎরার গোপনীয়তা
চালিয়ে যেতে হবে শয়তানির হ্রেষা হিঁ হিঁ হিঁ হিঁ
যদিও শিক্ষকরা আর নেতারা হুমকি দিয়ে চলেছে
একটু নড়নড় করেছো তো তোমার একদিন কি হুকুমের একদিন
‘আমরা' গাধার দল মুখ বন্ধ রেখে ওনাদের মা-বাপের গাল পাড়ে
‘আমরা' খচ্চরের পালও তাই
কেননা ‘আমরা' গাধারা সৎ চিন্তার দরুণ অভিশপ্ত
‘আমরা' খচ্চরেরা খচরামি করতে পারে না
মাটিতে ছায়া পড়লে ওরা কুড়িয়ে নিয়ে‘আমির' বিরুদ্ধে প্রয়োগ করবে
গাধার আবার ছায়ার গর্ব, অ্যাঁ, ‘আমি' হবার বায়না
গাধাদের কবর হলো তাদের অক্ষর আর বাক্যের হারানো গোরস্তান
অক্ষর আর বাক্যের ঝাড়ুদারলিসলিসে অন্ধকার
ইচ্ছার ধ্বংসাবশেষকে স্বাধীনতা ভেবে চ্যাভোঁ চ্যাভোঁ
গাধারা নাকি সকলেই আইনের চোখে সমান
আইন নাকি গাধা-খচ্চরের পথে চলে
জঘন্য সময়ের জয়ধ্বনি করতে করতে অন্তসত্বা বপুর পুরুষেরা
ঘোষণা করেছে
চাকরি পাবার জন্য হাড়ভাঙা ছোটাছুটি বরদাস্ত করা হবে না
নাম জানতে চাইলে ‘আমি' ঘোড়া বলে
‘আমি' হলো সংবিধান, ‘আমি' হলোমুক্তি, ‘আমি' হলো ভোট-নোট
বিস্ময়ের ক্ষমতা গাধাদের লুকোনো ভয়, হাড়ে-হাড়ে জানে সবাই
গাধারা ভেবেছিল বন্দুকের নলই সত্য, গুলি খেয়ে মরার পর
বুঝেছে বিস্ফোরণ মাত্রেই সত্য, রণে বনে জঙ্গলে গলিতে রাজপধে
সিংহাসন-ক্ষমতার আকাশ-ছোঁয়া ফিসফিসানি
গাধাদের কি শৈশব ছিল না? তারা কি বেখবর লাফালাফি করেনি?
খচ্চরের কি বাল্যকাল ছিল না বেহিসাবি আবদার
তারা তো জানতো না বাতিল হয়ে যাবে, রক্তের আলকাৎরায় দৌড়োবে
‘আমরা'ই রাষ্ট্র হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ ‘আমরা'ই শাসক হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ
এক প্রতিধ্বনি আরেক প্রতিধ্বনিতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে
সবে মিলি করি কাজ হারি-জিতি নাহি লাজের মানে পালটে গেছে
প্রতিনিধিরা যে যার নিজের প্রতিনিধি,
চম্পট দেবার রাস্তার মালিক তারাই
বিছানায় না শুলেও তারা নাক ডাকার শব্দ চাদরের তলায় রেখে গেছে
তাদের সুবিধা তারা মাথা নিয়ে জন্মায় না
কর্পোরেট প্যাকেজের সাহায্যে চ্যাভোঁর বিপণন চলছে
‘আমরা' গাধারা কেন জটিল মগজ নিয়ে জন্মায় বিরক্তিতে চ্যাভোঁ ডাক পাড়ে
খচ্চররাও তাই, দুর্বিনীত বেয়াদব বত্তমিজ জাহিল
ফেলো ট্র্যাভেলারদের দাঁত খুলেসোনার মুকুট পরিয়ে দেয়া হয়েছে
গাধার মাথায় হীরে-ভূষিত সোনার মুকুট
খচ্চরের মাথায় চুনি-পান্না-পোখরাজ বিভূষিত প্ল্যাটিনাম টোপর
কলেজে মুখস্হ উনতিরিশ আর তিরিশ অনুচ্ছেদ
অপরাধ করতে করতে খসখসেজিভ কালো
অথচ গাধা ‘আমরা'র দল গণ্ডোয়ানার ভূমিপুত্র
প্রান্তিক ‘আমরা'-গাধা বড়ো ‘আমরা'- গাধার সঙ্গে লড়ছে
তাদের দাবি তাদের মাংস কেন মানুষ-মানুষনিরা খাবে না
শুয়োরের মতন নোংরা প্রাণীর দেহের সব টুকরো খায়
লেজ খায় পা খায় কিন্তু গাধার চামড়া ছাড়া বাদবাকি কেন বিক্রি হবে না
আফ্রিকা থেকে গাধারা লোপাট হয়ে চীনে চলে যাচ্ছে
আম-কে-আম গুঠলি-কে-দাম কমিউনিস্ট দলের পুঁজিবাদী সেবায়
এমনটাই আশা করছেন কর্তা ও কর্তাভজারা
অন্ধকার পেছলা সুড়ঙ্গ দিয়ে ‘আমরা' গাধা হাঁটছে
খচ্চররাও তাই
অন্ধকার বৈরী না আলো বৈরী
বাইরের লোকেরা এসে ঘোড়াগাধাখচ্চরদের দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে
দুই ভাগই এমন ভান করে যেন কতো তাদের ভালোবাসাবাসি
কারণ তারা মুখ দিয়ে একই রকমের ডাক পাড়ে
চ্যাভোঁ চ্যাভোঁ হিঁ হিঁ হিঁ হিঁ হ্রিঁ হ্রিঁ হ্রিঁ হ্রিঁ
চেরনোবিলে ‘আমরা' গাধা মরেনি ফুকুশিমায় মরেনি ‘আমরা' গাধা
খচ্চররাও তাই
মরেছে ‘আমি' ঘোড়া যাদের সংখ্যা চেপে যাওয়াই নিয়ম
কারণ ‘আমি' ঘোড়াদের চাঞ্চল্যকর সংকট
‘আমরা' গাধাদের সে সমস্যা নেই
খচ্চরদেরও তাই
আওয়াজ-তোলার, অমান্য করার,প্রতিরোধ করার,সায় না দেবার অপরাধ
পুলিশের গাড়িতে বসে রাতের চোরগাঁটকাটার আস্তানা দেখেছে ‘আমি'ঘোড়া
শিক্ষকরা বলেছে কোথাও কোনো রহস্য নেই সবই বস্তু
হাঁপানিহৃদরোগ হাড়ব্যথা হার্নিয়া-কাতরানি প্রোস্টেটকষ্ট অবস্তু নয়
দেহ আর সমাজদেহ থেকে বদরক্ত বের করার সাফাইক্রিয়া
মার্বেল পাথরে ‘আমরা' গাধার খুরের রক্ত-আলকাৎরায় অবিনশ্বর
‘আমরা' খচ্চরদেরও তাই
তবু ‘আমরা' গাধারা প্রশ্ন তোলেনা, তারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না
তারা জানে ঈশ্বর মোটেই সর্বশক্তিমান নয়, সিংহাসন সর্বশক্তিমান
‘আমরা' খচ্চরদেরও তাই বিশ্বাস
‘আমরা' গাধাদের জন্য সিংহাসনের ভাড়া করা বড়দা-ভাইরা রয়েছে
অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে তাদের দেখা যায় না
‘আমরা' খচ্চরদেরও তাই
অকেজো ‘আমরা' গাধাদের জন্য পিঁজরাপোলে স্হানাভাব সেখানে গাদাগাদি
একদল আরেকদলকে দুলাত্তি মেরে জায়গা বানায়
‘আমরা' খচ্চরদেরও তাই
প্রতিটি নিষেধের জন্য আইনের অনুমোদন দরকার হয় না
সিংহাসনের ঘাড় নাড়ানোই ‘আমরা' গাধাদের শায়েস্তারজন্য যথেষ্ট
‘আমরা' খচ্চরদেরও তাই
যে ‘আমরা' গাধারা আগ্নেয়গিরি হয়ে জন্মেছে তাদের বলা হলো
রাস্তায় ঝাড়ু লাগাও
‘আমরা' খচ্চরদেরও তাই
সুশীল সমাজের বুড়োদের সঙ্গে তার মিছিলে যোগ দেবার অধিকার নেই
বুড়োরা বুড়োদের মতন আচরণ করবে
কাটমানি খাবে, ছেলেকে ঘাঁতঘোঁত শেখাবে, সিন্ডিকেট গড়বে
সিংহাসন জানেনা জাল ‘আমরা'গাধারা দিব্বি আসল ডাক্তারি করছে
জাল গাধা ‘আমি' হতে চেয়েছিল
জাল খচ্চর ‘আমি' হতে চেয়েছিল
ভর্তির কোটি টাকা ক্যাশ ডোনেশান দিতে না পারায়
‘আমরা' গাধা হয়ে চালাচ্ছিল
তার আগে চৌমাথায় ‘আমরা' ক্লাবের ট্র্যাফিক ভলেণ্টিয়ারি করেছে
নেড়ে ইমামের আরেকটা পাকিস্তান দাবিরহুমকিতে
অনেকে লাল ‘আমরা' থেকে গেরুয়া‘আমরা' হয়ে গেলো
যাহাঁ ‘আমরা' গাধা ‘তাহাঁ' আমরা খচ্চর
অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে নাকি পুকুর-জলা খাল-বিল হাওড়-বাওড় ছিল
‘আমরা' গাধারা প্রশ্ন তুলেছে ভীষ্মের বিমাতা সত্যবতী কোন জাতের মেয়ে
মৎস্যজীবীর মেয়ে মানে তো শুদ্দুর
পাণ্ডব-কৌরবরা ছিল ক্ষত্রিয়
তারা ‘আমি' গাধাদের প্রশ্রয় দেয়নিইউটোপিয়ার আশায়
‘আমরা' যারা তারা ভেবেছিল রামের রাজ্য মানে ইউটোপিয়া
‘আমরা গাধারাও ‘আমরা' খচ্চররাও
‘আমি' ঘোড়া সব ষড়যন্ত্রেরর ইশারা টের পাচ্ছিল
সেই ইউটোপিয়ায় মহাকাব্যের পরমপুরুষ ‘আমরা' বউকে সন্দেহ করে
সরযু নদীর স্রোতহীনতার রঙ দুধ ঢেলে পালটে দিতে চায়
মহাকাব্যে ‘আমরা' গাধারা অপাংক্তেয় নয়
সাঙ্কো পাঞ্জা খচ্চরের পিঠে বসে হেসেছে ডন কিহোতের
লড়াই দেখে, উইণ্ডমিলের সঙ্গে লড়াই
এখনকার ‘আমরা' গাধারা নীরব দর্শক, গোষ্ঠীক্যাচালের
বোমাবাজি গুলিগোলা চালাবাড়িতে আগুন দেখলেই
পালায়, ‘আমরা' খচ্চররাও তাই, পালায় পালায় পালায়
যদিও ‘আমরা' গাধারা এনকাডুর ঔরসে শামহাতের গর্ভে জন্মেছিল
লেখা আছে গিলগামেশের জীবনীতে
সাতদিন সাত রাত শামহাতের সঙ্গে সেক্স করে বুনো জানোয়ার
এনকাডু হয়ে গেল ‘আমরা' গাধাদের পূর্বপুরুষ
‘আমি' গাধারা জন্মালো গিলগামেশের ঔরসে
সেই গিলগামেশ যে সিংহ মেরে বগলদাবায় নিয়ে বাড়ি ফিরতো
‘আমি'র পৃথিবী ‘আমি'র আকাশ ‘আমি'র জলরাশি ‘আমি'র ঝড়
‘আমি'র বনাঞ্চল ‘আমি'র সমুদ্র ‘আমি'র নক্ষত্র ‘আমি'র বিদ্যুৎ
‘আমি'র মহাগ্রন্হ ‘আমি'র কবিতা ‘আমি'র গান ‘আমি'রআঁকা ছবি
হারিয়ে গেল গাধাদের জীবন থেকে
খচ্চরদেরও তাই
গাধা আর খচ্চররা হয়ে গেল অনুগত ‘আমরা'
শেষ পর্যন্ত ‘আমি' ঘোড়া একাই সুড়ঙ্গের বাইরে বেরোয়
‘আমরা' গাধারা যে যখন পেরেছে দে-পিট্টান দিয়েছে
‘আমরা' খচ্চররাও তাই
‘আমি' ঘোড়া একা বাইরে আলোয় বেরিয়েই
শোনে দলবদ্ধ চিৎকার, কাউকে দেখতে পায়না
যেন লাউডস্পিকার নিজেই কথা বলছে আরেক লাউডস্পিকারের সঙ্গে
"আমি ঘোড়া বেরিয়েছে"
আরে ‘আমরা' গাধারা ‘আমরা' খচ্চররা গেল কোথায়
গাধাজনতার জন্য অপেক্ষা করছি আমরা কতোকাল
কতোযুগ হা-পিত্তেশ করে আছি মহাখচ্চরদের জন্য
এটা তো বেয়াড়া ঘোড়া
"এমন কিম্ভুত জীব তোরা দেখিসনি কখনও"
শয়ে-শয়ে কাঁসরঘণ্টা বাজাচ্ছে অদৃশ্য প্রাণীরা
স্তোত্র পড়ছে সুর করে
জ্ঞানানন্দ ময়ং দেবং নির্মল স্ফটিকাকৃতি
আধারং সর্ববিদ্যানং হয়গ্রীবং উপস্মহে
‘আমি' বুঝতে পারছিল না অদৃশ্য কন্ঠস্বরেরা কী বলতে চাইছে
এরা কি কখনও ‘আমি'র মতন ঘোড়া দ্যাখেনি
‘আমি' ঘোড়া সুড়ঙ্গের বাইরে বেরিয়ে দেখল, গাছেরা শুকিয়ে আর ঝিমিয়ে
একই গাছে কোনো পাতার রঙ গেরুয়া
কোনো পাতার রঙ সবুজ হলেও পাতার ওপর শাদা রঙের দ্বিতীয়ার চাঁদ
কোনো পাতা একেবারে কুচকুচে তার ওপর শাদা রঙে গুটিপোকা আঁকা
জংধরা কলকারখানা ভেঙেচুরে পড়ে আছে, বাড়িগুলোয় কেউ থাকে না
দরোজা-জানালার কপাট নেই, ঝড়বৃষ্টিতে কালো আর ভুতুড়ে
এগিয়ে গিয়ে ‘আমি' ঘোড়া দেখলো কয়েকটা দরোজায় চটের পর্দা
দেখলেই টের পাওয়া যায় মরা আর আধমরারা দিনগুজরান করে
এই মহাপৃথিবী জুড়ে মৃত্যুর গন্ধ
রাস্তাগুলো কয়েক শতক সারানো হয়নি
জঞ্জালের পাহাড় পরিষ্কার হয়নি কয়েক শতক
এ তো একেবারে প্রাণীশূন্য জগৎ
দুর্গন্ধের ব্রহ্মাণ্ড
কিন্তুরাস্তার ধারেটাটকা ন্যাড় যেন এই মাত্র হেগে গেছে ‘আমরা' গাধা-খচ্চর
ওই তো কয়েকজন ‘আমরা'গাধা যাচ্ছে
চামড়া ছাড়ানো চারটে খচ্চরকে চাবকাতে চাবকাতে, রক্ত বইছে
ওই তো কয়েকজন ‘আমরা' গাধা
পিঠে ভারি আর ছেঁড়া পুঁটলি বইছে, পুঁটলি থেকে টাকা ঝরে পড়ছে
‘আমরা' গাধাদের তাতে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে মনে হলো
হাড়গিলে জনবিশেক জীব কোথা থেকে এসে ‘আমরা' গাধাদের পায়ে পড়ল
‘আমরা' গাধারা তাদের দুলাত্তি মেরে দুরে ছিটকে ফেলে দিলে
ভুখা জীবগুলোর গায়ে ছেঁড়া নোংরা কাপড়-চোপড়
কয়েকজন জীব মাটিতে ঝরে পড়া টাকা কুড়োতে লাগলো
কেউ-কেউ চলল ‘আমরা' গাধাদের পেছন পেছন কাঁদতে কাঁদতে
‘আমি' ঘোড়ার দিকে সন্দেহের চোখে ভুরু কোঁচকালো ‘আমরা' গাধারা
উদ্ভটবৃক্ষের জঙ্গল পেরিয়ে ‘আমি 'ঘোড়া এগোলো
ঘোড়ালয়ের খোঁজে
‘আমি' ঘোড়া বুঝতে পারছিল এই এলাকাটা খচ্চরালয় বা গাধালয়
ওই তোল্যাংটো ‘আমরা' গাধারা‘আমরা' খচ্চররা সামনের দুই পা এগিয়ে
মুখ দিয়ে ভ্রুম ভ্রুম ভ্রুম ভ্রুম আওয়াজ তুলে
মর্ত্যচুম্বী শ্যামলিঙ্গ ঝুলিয়ে
একজন ছুটন্ত তরুণীজীবেরপেছনে দৌড়ে যাচ্ছে
‘আমি' ঘোড়ার দিকে তাকিয়ে একজন ‘আমরা' খচ্চর চেঁচিয়ে বলল
এর ভগাঙ্কুর ছেঁটে পবিত্র করতে হবে
আমরা একে মুক্তি দিতে চাই
যতোদিন না এর রাগমোচন হচ্ছে ততোদিন মুক্তি পাবে না
রাগমোচনের পর একে হত্যা করে মুক্তির স্বর্গে পাঠাতে হবে
ছুটন্ত তরুণীজীব ‘আমি' ঘোড়ার দিকে তাকাবার সময় পেলো না
বাকি ‘আমরা' গাধা আর ‘আমরা' খচ্চর একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল
"মুক্তি স্বাধীনতা সাম্য জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ"
‘আমি' ঘোড়ার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে পৃথিবী এখানে মরে গেছে
মরে পড়ে আছে কয়েক দশক
চলছে জ্বালানো পোড়ানো কামড়ানো কোপানো চাবকানো
বিষের ধোঁয়া উড়িয়ে চলে গেল গ্যাসগাড়ি ডুশেগুবকা
ভেতর থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা চেঁচামেচি চিৎকার কান্না
‘আমরা' খচ্চরের টানা গাড়িতে বসে দেখনবিচার করতে যাচ্ছে বুড়ো গাধা
যারা সমাজের মঙ্গলকরে পাপবোধে ভোগেনি তাদের বিচার হবে
বিশ্বাসে মিলায় মৃত্যু তর্কেতেকোতল
‘আমি' ঘোড়া এগিয়ে যায়
বিচারের প্রথম ধাপ নজরে-নজরে রাখা, তারপর ঘোর সন্দেহ
তারপর হেফাজত,কারাগার দেখা গেল না, দেখা গেল কুৎসাগার
রাস্তার পাশে মাঝে-মাঝে ফাঁসিকাঠে ঝুলছে
গাধা-খচ্চর, যাদের নাকচোখ দেখে অন্তর্ঘাতী মনে হয়েছে ঝুলছে তারা
চামড়ার ফাটল দিয়ে এখনও কান্নার জল গড়াচ্ছে
বহুকালঝুলে শুকিয়ে গেছে তারা, মাংস খসে হাড় বেরিয়ে পড়েছে
‘আমি' ঘোড়া আরও এগোয়
দারা শুকোর নাড়ি আর গর্ভফুলের ওপর সিংহাসনের পিরামিড
কর্পোরেট সিংহাসন
আমলাঘোঁট সিংহাসন
তত্ত্বক্যাচাল সিংহাসন
ধর্মগুরু সিংহাসন
মোল্লা সিংহাসন
পাদ্রি সিংহাসন
পাওয়া আর পাইয়ে দেবার চরস-চণ্ডু মাদকের জানলায়
কিউ দিয়েছে ‘আমরা' খচ্চরেরা
কিউ দিয়েছে ‘আমরা গাধারা
জীবনকর হিসাবে জমা দিচ্ছে যে যার কন্ঠের বাগযন্ত্র স্বরযন্ত্র
যাতে ওরা ছলনা প্রতারণা করতে না পারে
যাতে ওরা যে যার নিজের স্বরূপ ফাঁস করতে বাধ্য হয়
তার বদলে টাকাকড়ি উত্তরীয় মেডেল পাবে
‘আমি' ঘোড়া আরও এগোয়
একই সঙ্গে আগুন আর তুষার বৃষ্টি হচ্ছে
কাগজের দশবারোটা পাহাড় পোড়াবার আগুন-ফুলকি উঠেছে ওপরে
গোপন নথিপত্র পোড়ানোর আগুন ঝরছে
বিরোধীদের পাণ্ডুলিপি পোড়ানোর আগুন ঝরছে
আকাশ ধোঁয়ায় ধোঁয়াক্কার, কার্বন মনোক্সাইডে নীলাভ
কোথায় লুকিয়ে আছে বিরোধীরা যাদের পাণ্ডুলিপি পুড়ছে
তারা কীই বা লিখেছিল পাণ্ডুলিপিতে যে পুড়িয়ে নষ্ট করতে হবে
তার মানে কিছু লোকের সাহস আছে
বিরোধীতা করার, অমান্য করার
তারা কোথায়
যে তরুণী পালাচ্ছিল সে কি সিংহাসনের বিরোধী
‘আমি' ঘোড়া আরও এগোয়
কোথাও সবুজ ঘাস নেই
শুকনো ঘাসও নেই
বিরাট-বিরাট কাঁকড়া হেঁটে-চলে বেড়াচ্ছে
এরকম বড়ো-বড়ো কাঁকড়া তো সমুদ্রেও হয় না
এখানে হলো কেমন করে
হলো না এলো
কোথা থেকে এলো এতো দৈত্যকাঁকড়া
একদল ‘আমরা' খচ্চর চেঁচাতে-চেঁচাতে যাচ্ছে
কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও ভেঙে দাও, তাদের নিজেদের হাত ইস্পাতের
ইস্পাতের হাতে ধর্মকাঁটার লুকোনো হুল
হুলের কলম দিয়েইতিহাস লিখবে বলছে
বর্তমানকে তো নানা ক্যারদানি করেও বদলানো গেলো না
তাই অতীতকে বদলে ফেলতে চাইছে
শুনতে পায় ‘আমি'ঘোড়া
‘আমি' ঘোড়া এগোয় এগোয় এগোয় এগোয়
পায়ের কাছে অজস্র দৈত্যকাঁকড়া সামলে এগোতে হয়
দেখতে পায় পোড়োবাড়ির খোলা জানলায় মুখ ঢোকাবার জন্য ঠেলাঠেলি
পাতলা-ক্যাঙলা-রোগারা ছিটকে পড়ছে ধাক্কা খেয়ে
দিনে এক হাতা পান্তাপ্রতি হাঁ-মুখের জন্য বরাদ্দ
উঁচু জাতের বরাদ্দ শেষ হলে নিচু জাতের পালা
আশরাফদের বরাদ্দ শেষ হলে আতরাফদের পালা
কিন্তু উঁচু জাতের গাদাগাদি শেষ হতেই তো বোধহয় তিন দিন লাগবে
মাঝপথে ফুরিয়ে গেলে সেদিনের মতো জানলা বন্ধ
জানলা বন্ধ হবার পর কয়েকজন ‘আমরা' গাধা কাঁদতে কাঁদতে যায়
কয়েকজন ‘আমরা' খচ্চর কাঁদতে কাঁদতে যায়
তাদের ফিসফিসে অভিযোগ শুনতে পায় ‘আমি' ঘোড়া
"আমরা শেয়াল আর হায়না মেরেদিই, সেই মাংস রান্না করে ওরা খাওয়ায়
কারণ আমাদের রান্নার বাসন কোসন নেই
রান্নার আগুন নেই
সব আগুন ওরা নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে
বাড়িঘর নেই বলে ঝড় বৃষ্টি রোদ থেকে বাঁচতে
আমরা শেয়ালের আর হায়নার গর্তে বসবাস করি"
‘আমি' ঘোড়া এগোয়
উরিত্তেরি
এই অঞ্চলের সবায়ের কেড়ে-নেয়া ঘুম জ্বলিয়ে
ল্যাম্পপোস্টের মশালডুম আলো ফেললো তল্লাটে
দেখতে সুবিধা হলো ‘আমি' ঘোড়ার
ওই তো সেই তরুণী
এই দিকেই দৌড়ে আসছে
পেছন পেছন ভ্রুম ভ্রুম ভ্রুম ভ্রুম আওয়াজ তুলে
সামনের দুই পা এগিয়ে ল্যাংটো ‘আমরা' গাধা আর ‘আমরা' খচ্চরেরা
শ্যামলিঙ্গ ঝুলিয়ে পিছু নিয়েছে
‘আমি' ঘোড়াকে দেখে লাফিয়ে তার পিঠে চেপে লাগাম ধরল তরুণী
‘আমি' ঘোড়া ছুটতে আরম্ভ করল
এই মরা পৃথিবী থেকে বাইরে বেরোবার জন্য
বেরোতেই হবে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem