বাড়ির পিছনেই বাগান । তারপর দিঘি ।
দিঘির চার দিকে তাল-খেজুরের সারি আর নানা সবুজ গাছ-গাছালির ঝোপ-ঝাড়
পশ্চিম পাড়ে রাস্তা । রাস্তাটা ঢালু হয়ে নেমে গেছে জাম্বাল খালের দিকে
ওই রাস্তা দিয়ে মল্লিকবাবুর কিশোরী মেয়ে রোজ ভোরে সাইকেল চালিয়ে
দিঘির পশ্চিম পাড়ের রাস্তায় ওঠে...
কোনায় যে রক্ত-কাঞ্চন গাছটা আছে তার তলায় দাঁড়ায়
ভোরের প্রথম রোদ্দুর পাতার আড়ালে উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে ওকে দেখে
এলমেলো হাওয়া ওর ওড়না উড়িয়ে উড়িয়ে খেলা করে
আমার তো মাঝরাতেই ঘুম ভেঙে যায়
প্রতিদিন উত্তরের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকি
ও চলে যায়...
সাইকেলের চাকা ঘোরে...ধুলো ওড়ে
আমার চোখ থেকে মুছে যায় সকাল, আকাশ, পৃথিবী
দেখি ধুলো মেঘে ঢেকে গেছে মহাকাশ
একটি সরু তীব্র নীল আলোর রাস্তা ঠিক যেন বিদ্যুৎ রেখা
সেই ঘন মেঘপুঞ্জ ভেদ করে উঠে গেছে অনন্ত গিরিমালার শিখরে
মল্লিকবাবুর মেয়ে একা রহস্যময়ী সাইকেল আরোহিণী
সেই রাস্তার ধারে আমি দাড়িয়ে আছি এক রক্ত-কাঞ্চন-গাছ
পাতা নেই । ডাল নেই । ফুল নেই ।
শূন্যে ঝুলে আছে ধব ধবে গুচ্ছমূল...
এক ছিন্ন মূল-গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে চলেছে রক্ত-বর্ণ এক তরল পদার্থ
কী আশ্চর্য প্রতিটি বিন্দু খসে পড়তে পড়তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যাচ্ছে
অতিজাগতিক কাঞ্চন-কুসুম;
আর টুপটাপ পড়ছে নীল আলোর রাস্তায়....
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem