মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা
মনসান্টো কোম্পানির বীজ
লাঙলের ফলা লেগে মাটির তলা থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি
বেরিয়ে এলেন বলা ঠিক নয়, তিনি তো চিৎ হয়ে চোখ বুজে
শাড়ি-শায়া-ব্লাউজ ছাড়াই শুয়ে । হারাধন চাষি তো অবাক
সেই কবে সীতা লাঙলের ফলা লেগে জন্মেছিলেন, তারপর
অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে দুই-ফাঁক জমির ভেতরে গেলেন রামকে টাটা করে
এখন আলুর ক্ষেতে দেখা দিচ্ছেন কেন, গোলমাল ঘটে গেছে নাকি
অযোধ্যায়, দণ্ডকারণ্যে, বাল্মীকির ছিটেবেড়া-দেয়া আশ্রমে!
এটা তো পশ্চিমবাংলার গণ্ডগ্রাম, শহরে যাবার রাস্তা তৈরি হয়নি
বর্ষায় কিংবা গ্রীষ্মে আত্মীয়স্বজনেরা এমুখো হয় না, ভোটবাবু আসে
বাকসো-প্যাঁটরা নিয়ে পুলিশের সাথে, শীতের সময়ে ।
চাষা ঝুঁকে মুখ দেখে বুঝতে পারলো এই সীতা তো গ্রামেরই
ফেলু সাঁতরার মেয়ে, তিন সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাচ্ছিলনাকো-
হারাধন ঝুঁকে চুমু খেলো ঠোঁটে ফেলু সাঁতরার মেয়ে নতুন সীতাকে
মাটি দিয়ে ঢেকে আর, বুনে দিলো মনসান্টো কোম্পানির বীজ…
.
অবন্তিকার ল্যাণ্ডলাইন
ফোন করি, উটপটাঙ যে-কোনো নম্বরে, অবন্তিকার খোঁজে রাত্তিরে
ফোন করি, কোনো যুবকের গলা, হ্যালো, রেখে দিই, উত্তর না-দিয়ে
ফোন করি, কোনো বৃদ্ধের গলা, হ্যালু, রেখে দিই, উত্তর না-দিয়ে
ফোন করি, কোনো প্রৌঢ়ের গাল, কাকে চাই, রেখে দিই, উত্তর না দিয়ে
ফোন করি, তরুণীর গলা, আহ, কি মিষ্টি, হয়তো গান গায় কিংবা শেখে
আপনিই তো অবন্তিকা, দরকার ছিল, তরুণী বলল, জানলেন কী করে
আপনাকে চিনতে তো পারছি না । চোখ বুজে অবন্তিকাকে আমি দেখি
ভাগ্যিস এখনও ল্যাণ্ডলাইন আছে, আঙুলে ঘোরাচ্ছে তার, সোজা করছে
ব্যাস, এটুকুই চাই, তিনবার হ্যালো হ্যালো হ্যালো শুনি, উত্তর না-দিয়ে
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem