কথা ছিলো কলকাতা
কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে!
অথচ আজ
চারিদিকে কেবল লাশ আর লাশ।
ধাপার মাঠে কাক চুঁষে খায়
নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কঙ্কাল।
গঙ্গার ঘাটে ভেসে যায়
স্বয়ং ঈশ্বরের পুতি দুর্গন্ধময় লাশ।
ক্যাওড়াতলা শ্মশানে
কলকাতার লাশকে সামনে রেখে
কিছু মুমূর্ষু শিশু গলা ছেড়ে গায়
"ছিলো গো ছিলো
কলকাতা নামে কোন স্বপ্ন ছিলো"।
কোন এক মহিয়সী নারী
কলকাতার কানে কানে বলেছিলো একদিন-
"রবি ঠাকুরের চেয়ে উঁচু
আমার কতকগুলো ছবি টাঙিয়ে দে
তোকে আমি লন্ডন বানিয়ে দেবো।"
সরল কলকাতা বিশ্বাস করেছিলো তাকে।
রবি ঠাকুরের চেয়ে দশগুন উঁচু
অনেক ছবি টাঙিয়েছিলো সে।
অথচ তার পরদিনই
কলকাতার বুকে হেঁটে গেলো
অজস্র "মৃত্যু মিছিল"।
তাদের কারও হাতে ডেঙ্গুর বিজয় পতাকা
কারও হাতে আন্ত্রিকের রক্ত মাখা তলোয়ার।
সেই নারী কি আজ বেঁচে আছে?
কি বলে সে?
নবজাতক কণ্ঠে
সে কি কখনো "মা" ডাক শুনেছে?
মুমূর্ষু নবজাতকের আর্তনাদ
কতগুলো রক্তের ফোঁটা দিয়ে তৈরী
সে কি তা বোঝে?
আশ্চর্য্য এক সময় বইছে হাওয়ায়!
রাক্ষসরাও আজ
মহত্বের সাজে ঢেকে আছে নিজেকে।
প্রতিশ্রুতির ঝুলিতে
লাল নীল সবুজ খেলনা রেখেই
আজকাল শকুন নেকড়ে
তারাও, মহান বা মহিয়সী হয়ে যাচ্ছে।
এ সব দেখে
আমার পাড়ার বিন্দি মাগী
সেও রান্না ঘরে বসে
দিনরাত প্রতিশ্রুতির ফুলুড়ি ভাজে।
বুক চাপড়ে আক্ষেপ করে সে-
"তুই হারামজাদা অরুণ মাজী
মুখপোড়া এক মাওবাদী।
মাওবাদী বলেই
আমাকে তুই "মহিয়সী" নামে ডাকিস না।
অথচ মনু মাতাল
কতবার "মহিয়সী" ডাকে আমাকে।"
তোমরাই বলো
কাউকে "মহিয়সী" নামে ডাকতে
আমার ইচ্ছে কি একটু করে না?
করে গো করে। বেশ করে।
কিন্তু কি করবো বলো?
মুখপুড়ী বঙ্গমাতা
এতোটাই বন্ধ্যা হয়ে গেছে আজকাল
যে একজন কবিকেও
অন্যের পা আর পাছা চাঁটতে হয়
কেবল "কবি" ডাক শোনার জন্য!
ওহে ভাই, তোমরা কেউ কি জানো
কোন ডাক্তারকে দেখালে
বন্ধ্যা বঙ্গমাতা
আবার রত্নগর্ভা বঙ্গমাতা হবে?
বা আমার মৃত কলকাতা
আবার কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে?
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem