এখনই লিখে ফেলার সময়
মলয় রায়চৌধুরী
এই খাঁচার নাম স্বদেশ নাকি কারাগার নাকি চিড়িয়াখানা নাকি পিঁজরাপোল
এর ভেতরের জীবগুলো মানুষ নাকি হায়না নাকি কেউটে নাকি জংলি-কুকুরের দল
কেউ স্তালিনের বিচি ধরে ঝুলেছিল কেউ লিঙ্গে তেল দিতে গিয়েছিল মাও সে তুঙ্গের
কেউ কোথাও না গিয়েই পোঁ-ধরেছে খাঁচার বাইরে বেরিয়ে কোনো দিশি চুতিয়াকে
ঝাণ্ডা বদল করে ওই ফুটপাথে গিয়ে নতুন জার্সি পরে ঘুষখোরের গুণগানে মাতে
এরা হাঁটু গেড়ে সরকারি পুরস্কার নেয় আবার সেই সঙ্গে প্রতিবাদের কবিতাও লেখে
কারো মুণ্ডু নেই কেউজিভকাটা চেরাজিভ অন্ধ বোবা কালা গুয়ের কিলবিলে কীট
ডানাছাঁটা কচ্ছপখোকা কেউ ওপরে হাঁ করে কেঁচো-গেঁথা সোনার বঁড়শি খেতে চায়
পোঁদে হুড়কো খাবে বলে কিউতে দাঁড়িয়ে থাকে দশক-দশক যদি খুদকুঁড়ো মেলে
কারোর সবুজ ল্যাজ কারোর গেরুয়া ল্যাজ কারোর লালচে তবুকোনো তফাত নেই
যারা একা লড়েছিল তাদের লাশগুলো মাটির তলায় চাপা কিংবা পচছে মর্গেতে
এই খাঁচার নাম স্বদেশ নাকি কারাগার নাকি চিড়িয়াখানা নাকি পিঁজরাপোল
খাঁচার ভেতরদাঁত বের করে ঝুঁকে সেলাম ঠুকতে থাকে কিম্ভুত জানোয়ারগুলো
কল্পনা বিকিয়ে স্বাধীনতা বন্ধক দিয়ে লেজ নাড়িয়ে মানুষ বলে দাবি করে নিজেদের
পাখি যারা কখনও ওড়েনি আকাশে মাছেরা জানে না সাঁতার কাকে বলে বাঁদরেরা
চলচ্ছক্তিহীন গর্জনের পরিবর্তে হেঁচকি তুলে কেশর ছাঁটিয়ে ফ্যালেমদ্দা সিংহেরা
ভোরের কাগজেগাঁজার ধোঁয়া ছাড়েযৌন ইশারা ফাঁদে টিভির বাঁদি-ঠশকিনী
নিজেরাই নিজেদের মুণ্ডু কেটে মালিককে দিয়েছে নিজেদের বোবা-কালা-অন্ধ করেছে
গদির মালিক মুখে লাথি মেরেগুয়ের পোকায় পালটে ফেলেছে যখন চেয়েছে যাকে
এমনকি তাকেও যে "আধুনিকতার শবের ওপরে উল্লাসময় নৃত্যের" কথা বলেছিল
কোথায় গেল তার প্রতিবাদ মন্ত্রীর পায়ের কাছে বসে ল্যাজ কেটে উপহার দিয়ে
আসলে ল্যাজই তাদের নাড়িয়েছে কেননা গুয়ের কীটেদের ল্যাজ ছাড়া কীই বা আছে
এই খাঁচার নাম স্বদেশ নাকি কারাগার নাকি চিড়িয়াখানা নাকি পিঁজরাপোল
এদের একজন বলেছিল "যারা পুরস্কার দেয় আর যারা পুরস্কার পায় তাদের ধৃষ্টতার
প্রতিবাদ করার লোক নেই; পুরস্কার কায় পারা? যারা তথাকথিত জীবনে নিরুদ্বেগ
যাদের অর্থসম্পদ এবং প্রতিভা যথাক্রমে প্রচুর আছে এবং সামান্যতম নেই; এবং যাদের
হাত সব সময়েই অপরের পদধূলি নিয়ে নোংরা হয়ে থাকে।" সেই বহুরূপী গিরগিটি
নিজেই বসে গেল সরকারি-বেসরকারি পুরস্কার দাতব্যের ভোটে জেতা হোঁৎকা গদিতে
গদির এমন মধু দলে-দলে চেলা-চামুণ্ডা কিংবা যুবতী শিষ্যা জুটতে সময় লাগে না
যতো যাচ্ছে দিন খাঁচায় ঢোকার জন্য রেশারেশি বেড়েই চলেছে- প্রথমে জানোয়ার
তারপরে একটু একটু করে গুয়ের পোকায় রূপান্তরিত হবার প্রতিযোগীতায় লড়বে সবাই
জানাবে রাষ্ট্রকে এই দেখুন স্যার বা ম্যাডাম আমরা তৈরি সব প্রতিবাদ করবার দলে
খাঁচাটা চলুন নিয়ে যেখানে আমরা সবাই আপনার তরেল্যাজগুলো নাড়াবো সমবেত
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem