ছেলেবেলায় একটা পিঁড়িকে কাঁখে নিয়ে আমার মেয়ে বানিয়ে পুতুল খেলা শুরু আমার
এই দেখে ঠাকুমা তখন মাটি দিয়ে আমাকে পুতুল বানিয়ে দিয়েছিল।
মা-পুতুল, বাবা-পুতুল, ছেলে-পুতুল, মেয়ে-পুতুল।সেদিন আমার খুব আনন্দ হয়েছিল ।
দৌড়ে পাড়ায় গিয়ে বীনাপানীকে গিয়ে আমার এ সুসংবাদটা জানিয়ে দিয়ে এসেছিলাম
এটা কি কম আনন্দের?
বীনাপানি তো আমার এ প্রাপ্তির ফলে আমাকে সৌভাগ্যবতী ভেবেছিল।
ও তো সাথে সাথে কথা দিল আমার মেয়ে পুতুলকে ও ওর ছেলে পুতুলের জন্য বউ করে নেবে
। আমার পুতুল খেলার সংসারে একটি রান্নাঘরও ছিল।
নারকেলের মালা দিয়ে কড়াই আর রসগোল্লার ভাড় হল হাঁড়ি
আর মায়ের কাটা তরকারির ফেলে দেওয়া খোসা হল পুতুলের খাবার।
আর পুতুলের জামা কাপড় ছিল ছেড়া জামার টুকরো।
কত কাজ আমার সেই পুতুলের সংসারে।
পুতুলকে সাজানো গোছানো পড়ানো শাসন করা ঠিক যেমনটি মা আমাকে নিয়ে করতো।
আমার পুতুল-মেয়ে শশুর বাড়ি গিয়ে আর ফেরেনি
।খেলতে খেলতে নিজের অগোচরে কখন যেন আমার সেই পুতুলের সংসারটা ছেড়ে দিয়েছি।
সে পুতুলেরও খোঁজ নেই।
খোঁজ নেই সেই পুতুল খেলার সাথীদেরও।কোথায় যেন সবাই হারিয়ে গেছে।
কখন যেন ঢুকে পড়েছি নিয়তির হাতের খেলার পুতুল হয়ে এক সংসারে।
আর এ সংসারে প্রবেশ করে আমি কখনো হাসি কখনো কাঁদি, কখনো অলসে দিন কাটে কখনো আনন্দে।
এ বয়সে নিয়তি আমাদের বুঝিয়ে দেয় -
আমার আনন্দ আমার দুঃখ আমার সাফল্য আমার বিফলতা সবই তার হাতের খেলা।
আমার খেলাঘরের পুতুল গুলোদের আমি চালনা করতাম যেমনভাবে।
নিয়তির হাতের খেলার পুতুল হয়ে সে ভাবেই থাকি আমরা।
এখন অপেক্ষা কখন নিয়তির এ পুতুল খেলা
সাঙ্গ হবে, শেষ হবে আমার এ সংসারে অবস্থান।
হারিয়ে যাওয়া পুতুল খেলার দিনগুলোর কথা ভাবলে
চোখের কোণাদুটো শিরশির করে আজও।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem