তোমাদেরকে বারবার বলছি আমি, বাংলাকে দশ বছরে বিশ্বশ্রেষ্ঠ করা, ভীষণই সম্ভব। কতটা সম্ভব বললাম? জল খাওয়ার মতো সম্ভব। কিন্তু তোমরা সে কথা বিশ্বাস করছো না। কেন?
দশ চক্রে ভগবান ভূত। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে সবাই যদি ভগবানকে ভূত নামে ডাকতে থাকে, তো কি হবে? একদিন ভগবানও, তার ভগবানত্ব হারিয়ে মুখপোড়া ভূত হয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকার, অরাজকতা মিথ্যে আর ধাপ্পাবাজি দেখতে দেখতে, তোমার বিশ্বাস করতে শিখেছো; এই বাংলা বা ভারতকে কখনো আর শ্রেষ্ঠ করা সম্ভব নয়। কিন্তু তা কি আদৌ সত্য? নাহঃ।
তোমরা শ্রেষ্ঠ ভারত বা শ্রেষ্ঠ বাংলা পাও নি, তার কারন- তোমরা "চালতা" গাছে, "আমলকী" খুঁজছো। চালতা গাছে আমলকী খুঁজলে কখনো পাবে? বিজ্ঞানের ছাত্রের উপর ভরসা না করে, তোমরা গন্ডমূর্খদের উপর ভরসা করছো। গণ্ডমূর্খরা তোমাদেরকে, কখনো কি শ্রেষ্ঠ বাংলা বা ভারত দিতে পারবে? নাহঃ কোনকালেই পারবে না। বিন্দুমাত্র না।
তোমাদের নৈরাশ্যজনক বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়, যখন কোন ফালতু রাজনীতিক- কলকাতাকে লন্ডন বা দার্জিলিংকে সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে, বাংলাকে আরও বেশি নরক বানিয়ে দেয়। বা আর এক মিথ্যুক রাজনীতিক, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নামে তোমাদেরকে অন্ধকার আর কুসংস্কারের নরকে নিক্ষিপ্ত করে। "মেক ইন ইন্ডিয়ার" স্বপ্ন দেখিয়ে, দেশের শিল্প কৃষিকে ধ্বংস করে। "মেক ইন ইন্ডিয়া" স্বপ্ন দেখাচ্ছে, অথচ দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাচ্ছে না। সে তোমাদেরকে কাঁসর বাজিয়ে বা মূত্র খেয়ে করোনা দূর করতে বলছে।
সত্যি, এ তোমাদের দুর্ভাগ্য! এতো স্বপ্নভঙ্গ, এতো বিশ্বাসভঙ্গ ঘটতে থাকলে; তোমরা অন্য কাউকে বিশ্বাস করবে কি করে?
কিন্তু একটা কথা তোমরা বলো তোমরা, কাকে বিশ্বাস করছো তোমরা?
একজন স্কুল মাস্টার যদি মঙ্গলগ্রহে রকেট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, তাকে তুমি বিশ্বাস করবে কেন? ঠ্যালা গাড়ির মতো ঠ্যালা খেয়ে খেয়ে যারা কোনক্রমে দশ বা বারো ক্লাস পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে, তারা যদি কলকাতাকে লন্ডন বানানোর স্বপ্ন দেখায়, তাকে তুমি বিশ্বাস করবে কেন? তারা যদি "মেক ইন ইন্ডিয়ার" ধাপ্পা স্বপ্ন দেখায়, তাদেরকে তুমি বিশ্বাস করবে কেন?
তোমার ছোট্ট মুদি দোকানের খাতা সারতে, তুমি চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট খুঁজো। মুখ্যু কাউকে খুঁজো না। তাহলে ১৩০ কোটি মানুষের দেশের ভয়ঙ্কর জটিল অর্থনীতি শিল্পনীতি স্বাস্থ্যনীতি ইত্যাদি গন্ডমূর্খরা সামলাবে কি করে?
তো কাকে বিশ্বাস করবে তোমরা? ডাঃ বিধান রায়ের মতো মানুষকে। বিধান রায় কি করেছিলেন? স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে চারিদিকে অনাহার মহামারী আর হাহাকার। উনি সেই কঠিন সময়েও, হুগলী আসানসোল কল্যাণী শিল্পাঞ্চলকে এমন উন্নত বানিয়েছিলেন, যে এইসব শিল্পাঞ্চলকে, তখন বিশ্বশ্রেষ্ঠ ম্যাঞ্চেস্টার শিকাগো ডেট্রয়েটের সাথে তখন তুলনা করা হতো। কেন বিধান রায় এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন? কারন উনি- একে বিজ্ঞানের ছাত্র, তার উপর বিলাত ফেরত ডাক্তার। উন্নত দেশে থাকা কালীন, উনি, উন্নত দেশের চিন্তাধারা এবং সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি শিখেছিলেন। ওনার শিক্ষা ছিলো, বিজ্ঞান চেতনা ছিলো, সততা ছিলো, মানবিকতা ছিলো। তাই উনি তা পেরেছিলেন।
তোমরা ফালতু রাজনীতিকদের উপর ভরসা ছেড়ে, এখন আর একটা বিধান রায় খুঁজো। তোমরা আমার প্রণাম নিও। আমি সিডনি থেকে ডাঃ অরুণ মাজী।
by অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem