গরলে ভয় ছিলো আমার।
তবুও
কখন কিভাবে যে
নীলকণ্ঠ হয়ে গেছি আমি!
নাড়ীতে হাত দিই-
বেঁচে আছি তো?
এক দুই তিন.......
নাঃ নাড়ী তো দিব্যি হাঁটছে আমার!
তবুও বিশ্বাস হয় না,
বুকে হাত দিই আমি-
ধুকপুক, ধুকপুক
যা বাবাঃ
হৃৎপিণ্ডও তো দিব্যি নাচছে আমার!
গরলে মানুষ তাহলে মরে না!
শত্রু,
ঘটা করে, মা কালীর মানত করে
বিষ পান করালেও
আমি এখনো মরি নি।
রাখে হরি তো মারে কে?
কোন এক প্রিয় বন্ধুবর
আলিঙ্গনে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলো।
জ্বালা হয়েছিলো
জ্বর হয়েছিলো
যন্ত্রণা হয়েছিলো।
তবুও কিন্তু মরি নি আমি।
আমার মধ্যেকার আত্মা
সেও এখনো মরে নি।
তবে কি ভীষ্মের মতো
ইচ্ছা মৃত্যু আমার?
তবে কি মরণের ঠিকুঞ্জি
কেবল ঈশ্বরের আঁচলেই বাঁধা?
মানুষ কেন যে
মরণকে ভয় করে!
মরণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে
তার- বাঁচা আর হয় না!
অথচ দেখো-
আমার মতো ক্ষুদ্র এক মাছি
বিষে নীল হয়ে গেলেও
এখনো মরে নি সে!
মনে মনে রাগ হয়,
ইচ্ছে হয়- আমিও একদিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠি।
রক্তের জবাব
আমি রক্তে দিই না কেন?
কর্ণ,
কৃষ্ণকে বলেছিলেন-
এতো অবজ্ঞা, এতো ঘৃণার শিকার আমি!
ধর্মের আশ্রয় আমার জন্য নয়!
কৃষ্ণ তাকে বলেছিলেন-
আমিও তো অবজ্ঞা আর ঘৃণার শিকার!
জন্ম লগ্নে, রাজা আমাকে মারতে চেয়েছিলো
আজন্ম- জন্মদাত্রী মায়ের, বক্ষ্যচ্যূত আমি
দারিদ্র্য আর হাহাকারে বেড়ে উঠা আমার।
এরকম শত সহস্র ঘৃণার শিকার আমি।
তবুও,
ধর্মকে তো ত্যাগ করি নি আমি!
কারুরই জীবন
ঘৃণা অবজ্ঞা বর্জিত নয়।
ধার্মিক যে
বিষের ছোবল বুকেও, ধার্মিক সে!
ইচ্ছে হয়
নিষ্ঠুর হই আমি,
কিন্তু তা হতে আর পারি নি।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem