মাজার শরীফ জিয়ারতকে যারা কবর-পূজা বলে
তারা অহরহ তাদের এ গোমরাহীর সমর্থনে একটি হাদীছ শরীফ পেশ করে তার অপব্যাখ্যা করে থাকে।
সেটি হচ্ছে, হযরত আবূ সাঈদ খুদরী(রাদ্বিআল্লাহুতা'লা 'আনহু) বলেন, আল্লাহর রাসূল(সল্লাল্লাহুতা'লা 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান:
তিনটি মসজিদ ছাড়া আর কোথাও(উটের) হাওদা বেঁধো না; যথা- মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা ওআমার মসজিদ।[গ্রন্থ সূত্রঃ মিশকাত: ৬৪২, বুখারী ও মুসলিম।]
আসুন! হাদীছ শরীফটি নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করি: -
প্রথমত, এটি একটি মানসূখ বা রহিত হাদীছ শরীফ।
নাসেখ বা রহিতকারী দু'টিহাদীছ শরীফ আগেই পেশ করেছি - যেখানে নবীজী ('আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ফরমান:
আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন থেকে জিয়ারত করো।
[গ্রন্থ সূতঃ মিশকাত: ১৬৬৮ ও ১৬৭৫।]
দ্বিতীয়ত, এ হাদীছ শরীফে রওজা শরীফ, মাজার শরীফ ও মুসলমানদের কবর জিয়ারতের কোনো কথাই নেই। আর তাই, এটিকে কবর জিয়ারতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাটা চরম অজ্ঞতা ও হাস্যকর তথা গোমরাহী।
তৃতীয়ত, ঐ নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যান্য মসজিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নইলে, ঐ ৩টি মসজিদ ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার উদ্দেশেতো বাড়ী থেকেই বের হওয়া যাবে না! যেমন- বাজার, অফিস-আদালত, ব্যবসাকেন্দ্র, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, শ্বশুর বাড়ী, বিয়াইয়ের বাড়ী তথা আর কোথাওতো তাহলে যাওয়া যাবে না, তাই না?
চতুর্থত, একটি হাদীছ শরীফ দিয়ে আরেকটি হাদীছ শরীফকে ব্যাখ্যা করাই উত্তম ব্যাখ্যা।
মুসনাদে আহমাদে উল্লিখিত হাদীছ শরীফটি আরেকটু বিস্তারিতভাবেই রয়েছে যা অনায়াসে আলোচ্য হাদীছ শরীফটির ব্যাখ্যা হতে পারে; যেমন- হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাদ্বিআল্লাহুতা'লা 'আনহু)বলেন, আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহুতা'লা 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ফরমান:
মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা ও মসজিদে নবভী এ৩টি মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো মসজিদে নামাজ আদায়ের উদ্দেশে সফর করা মুসাফিরের জন্যে সঙ্গত নয়। [গ্রন্থ সূত্রঃ মুসনাদে আহমাদ: ১১৬০৯।]
সুতরাং এটাদিবালোকের মতোই পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, ঐ নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য মসজিদে বেশি সওয়াবের উদ্দেশে সফর করার বেলায়ই প্রযোজ্য; মাজার শরীফ বা কবর জিয়ারতেরক্ষেত্রে মোটেও প্রযোজ্য নয়।
যাহোক, কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহগুলো বা এসবের কেন্দ্রগুলো যেমন একেকটি পাওয়ার হাউজ তেমনি, প্রতিটি রওজা শরীফ, মাজার শরীফ ও নেককার মুসলমানদের কবরগুলোও একেকটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র বা রূহানীপাওয়ার হাউজ যেগুলোর অতীন্দ্রিয় বা গায়েবী ক্ষমতা অচিন্তনীয়! আর আল্লাহুতা'লা সন্দেহাতীতভাবে তাঁর প্রিয়পাত্রদের তথা নবী-ওলীগণকে জড় পদার্থের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতা দিয়ে থাকেন যে ব্যাপারে বাতিলপন্থীদেরকোনো ধারণাই নেই! !
সুতরাং ইসলামে মাজার-পূজা বা কবর-পূজা বলে আসলেই কিছু নেই।
এসব নির্বোধ ও কাট্টা বেদয়াতীদের বিকৃত মস্তিষ্কজাত বা ওদের মাথার ভেতরে থাকা গোবর থেকে উদ্ভূত বেদয়াতী শব্দ বা পরিভাষা বৈকি!
কখনো কোনো মুসলমান জিয়ারতকারী কবর বা মাজার শরীফে শায়িত ব্যক্তিকে খোদা, ইলাহ বা মা'বুদ বলে মনে করেন না, বরং আল্লাহ, ইলাহ বা মা'বুদের নেককার বান্দা বা ওলী বলেই বিশ্বাস করেন।
কাজেই, যারা সুন্নতকে মাজার-পূজা বা কবর-পূজা বলে তারা নিঃসন্দেহে গোমরাহ, ইবলিশের দোস্ত ও আসফালু সাফিলীনের বাসিন্দা।
আল্লাহুতা'লা এসব অর্বাচীন থেকে দ্বীন ও মিল্লাতকে হেফাজত করুক। আমিন। ধন্যবাদ।
(কপি)
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem