কাছে বসে
কখনো যদি হেসেই না দিলে;
তবে কিসের তরে
সাবান মেখে চান করে
দু ক্রোশ পথ আসা মালবিকা?
দেখো দেখো
হাতেও আজ তেল মেখেছি।
একটু ছুঁবো বলে
তোমাকে একটু ছুঁবো বলে।
আমার
কেই বা আর ছোঁয়ার আছে বলো?
স্বপ্নকে ছুঁতে গেলে
সে ব্যাটা টিটকিরি করে।
সুখকে ছুঁতে গেলে
সে ব্যাটাও
দাঁত কেলিয়ে ফিকফিক করে হাসে।
এ হতভাগ্যের
কেই বা আর ছোঁয়ার আছে বলো?
জীবন যৌবন স্বপ্ন
সবই তো
একটু একটু ক্ষয়ে যাচ্ছে।
যা চাই তা পাই না
যা পাই তা চাই না।
চাওয়া পাওয়ার বিভেদের মাঝে
যে অসীম শূন্যস্থান-
তার নাম দুঃখ
তার নাম অমল।
স্বপ্ন এতো ভাঙছে
তবুও বারবার গড়ছি তাকে।
তোমার হাসির রঙে গড়ছি তাকে
কাঁকনের সুরে গড়ছি তাকে
বুকের কবিতার ঢঙে গড়ছি তাকে।
হাসি আর সুর দিয়ে
কতদিন আর যৌবনকে ভুলিয়ে রাখবো?
বিদ্রোহ কি সে করে না?
করে গো করে। অনেক করে।
গালে থাপ্পড় মেরে
দাবিয়ে রেখেছি তাকে।
কিন্তু কষ্ট কি হয় না?
জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত স্পন্দনকে
কষাঘাত করতে,
বুকে কষ্ট কি হয় না?
হয় গো হয়। অনেক হয়।
চোখের জল দিয়ে
শান্ত রেখেছি তাকে।
কিন্তু চোখ?
কতদিন আর তার বুকে প্লাবন থাকবে?
খরা কি কখনো আসবে না?
ধরিত্রী বুকের
সুদীর্ঘ নদী শুকিয়ে যায়;
আর মানুষের
ক্ষুদ্র চোখের অতি সামান্য অশ্রু,
তা কখনো শুকোবে না?
সবেরই শেষ আছে মালবিকা
সবেরই শেষ আছে।
প্রেমের শেষ ঘৃণাতে
যন্ত্রণার শেষ মৃত্যুতে।
কিন্তু তোমাকে ঘৃণা?
নাহঃ তা আমি পারবো না।
অতৃপ্ত আত্মার মৃত্যু কি
তার চেয়ে শ্রেয় নয় মালবিকা?
© অরুণ মাজী
Painting: JWG
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem