তোর পড়ার ঘরের চৌকি
আর আমার বারান্দার মাদুর
যেন তুই আর আমি।
মাঝখানে যে আমগাছটা
সেটা আমাদের দোসর।
তুই বড় দুষ্টু!
খামোকা আমাকে জিজ্ঞেস করিস
"হাঁ করে, ক্যাবলার মতো দেখছিস কি? "
শোন তবে।
তোর ঘরের দেওয়ালটা
আমার পড়ার বই।
পড়তে বসে, হাঁ করে দেখতে থাকি।
আর তোর মুখটা
আমারভূগোল বইয়ের পাতা।
ঊহঃ কতো যে আঁকা বাঁকা মানচিত্র সেথায়!
আমাজন, নাইল, সিন্ধু, গঙ্গা
সব যেন একসাথে।
আর একটু নেমে এলে, মিশরের পিরামিড।
সেটা আবার হলদে রঙের
সূর্যের আভাতে সোনালী হয়ে যায়।
আর তারও নীচে,
পাহাড় আর উপত্যকা যেখানে মিশেছে
সেখানেহামুরাবির ঝুলন্ত বাগান।
জানিস? তোর ভূগোলটাপড়লে
আমার ইতিহাসটাও কেমন মুখস্থ হয়ে যায়।
সত্যি কথা বলতে কি
পড়াশুনা আমার হবে না রে।
বেশি পড়ে কি-ই বা হবে?
তুই কি জানিস
মূর্খ পৃথিবী, শিক্ষিত পৃথিবীর চেয়ে বেশী নিরাপদ?
আগে মানুষ জীবন হরণ করতো, শুধু প্রাণে বাঁচতে।
আজকাল মানুষ শিকার তো
হরিণ শিকারের চেয়ে বেশী জনপ্রিয়।
কারও হয়তো, ঘরে বসে আলস্য লাগছে;
তো স্কুল পড়ুয়াদের উপর
এক হাজার রাউন্ড গুলি চালিয়ে দিলো।
আদিম প্রস্তর যুগে
এমন নৃশংসতা কখনো শুনেছিস?
আসলে কি জানিস?
ওই মরা ভূগোল, মরা ইতিহাস,
আমায় কাছে কখনো টানে না।
তোর সুডোল বুকের সুউচ্চ হিমালয়
তোর নাভি দেশের সুরভী মালভূমি
তোর ঠোঁটের মাঝে উছলে উঠানদী উপত্যকা
তোর খোঁপায় বন্দী আমাজনের গহন অরণ্য
সে সব অনেক বেশী জীবন্ত, আর সুন্দর।
তুই-ই বল
কি হবে ওই মরা ভূগোল পড়ে?
সারা জীবন আমাকে তো
"তোর ভূগোল-ই" পড়তে হবে।
তার চেয়ে বরং
এখন থেকেই ভালো করে অভ্যাস করি আর কি।
তুই বরং তোর টেবিলের উপড় উঠে,
দেওয়ালে ঠেস দিয়ে, নটরাজ ভঙ্গীতে দাঁড়া।
আজকের ভূগোল পড়াটা
আর একবার ঝালিয়ে নিই আমি।
© অরুণ মাজী
Painting: Eugene De Blaas
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem