ও আর পারিনা সইতে এ তীব্র জ্বালা ভারী,
দিনের পর দিন যায়, সময় অদম্য অবাধ্য ঘড়ি;
চলে বেশ দ্রুত, আমি বসে থাকি একলা একা,
একই ঐ বিছানার কোলে লাগে নিজেকে বোকা;
কেউ মনে রাখেনি আমার হারানো দিনগুলোকে,
হারানো বন্ধুরা আসে না বাদাম হাতে তন্দ্রালোকে।
কেউ আসে দ্রুত ঐ বুলেটে চড়ে, ব্যস্ত মেজাজে,
বলে, ছুটছে কর্মরথ আলোর গতির আপন স্বভাবে;
বলছে তারা অহরহ, ছুটতে হবে, চড়তে হবে সাথে,
আমি শুধু বসে থাকি, নিয়ে একলা ভাতের থালা হাতে;
আজ আমি বৃদ্ধ, অসাড়, বাকহীন, হাতদুটো বেশ ভালো,
পাই আনন্দ মনে উঁকি দেয় যখন শৈশব কালো।
কোনো একদিন ছিল শৈশব অনেক অনেক আগে,
রাগে দুরন্ত চপল হরিণ আসতাম না সহজে বাগে;
ফাঁকির স্কুলে আম পেরে যেতাম মাঝ বাগানে,
পূজো হতো আম বধে আধ ঘন্টার লম্বা টিফিনে;
ঘন্টা বাজলেই একদৌড়ে ফিরতাম পায়ে দ্রুত,
খাবার খেয়ে বন পলাশীর মাছ ধরা ছিল ব্রত;
সাঁজ কালে মায়ের আঁচল আমার ছিল বাঁধা,
আসতো পড়াতে মাস্টার বাবু পেরিয়ে কত কাদা;
কত হাসি, কত গান,কত কথা ছিল মোর তখন,
কষ্ট আমার হৃদয়খানি, মস্তিস্ক ভাবে যখন।
জরাগ্রস্ত আজ আমি বৃদ্ধ
পরিনা করতে জীবন যুদ্ধ,
দাও ফিরে সে চপলতা,
দাও ফিরে সে চঞ্চলতা,
দাও মোরে মুক্তি,
প্রাণহীন দেহই যুক্তি।
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem