ভাবো সে দিনের কথা। তুমি তখন খুব ছোট্ট। কৌপিন পরে তখন হামাগুড়ি দিচ্ছো তুমি। হটাৎ তুমি দেখলে-একটা মোমবাতি জ্বলছে। তুমি সেটা ছুঁতে চাইলে। তোমার মা, তোমরা হাতটা সরিয়ে দিলো। তুমি আবার ছুঁতে চাইলে। তোমার মা, তোমার হাতটা আবার সরিয়ে দিলো। তুমি দমে যাওয়ার পাত্র নও। তোমরা মা দূরে সরে গেলে, মোমবাতির শিখাটা তুমি ছুঁয়েই দিলে। সঙ্গে সঙ্গে "আঁ আঁ" করে গলা ছেড়ে কান্না তোমার। বেশ কিছুক্ষণ কাঁদলে তুমি। তারপর কান্না ভুলে, আবার তুমি হাসি মুখে হামাগুড়ি দিতে শুরু করলে।
ভয় কাকে বলে, তখন জানতে না তুমি। তুমি তখন সিংহ মানব। এ পৃথিবীর সব কিছুর মধ্যে তখন সৌন্দর্য্য আর বিস্ময় দেখতে তুমি। সেই বিস্ময় আর সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়ে স্বর্গীয় হাসি হাসতে তুমি। তুমি তখন ভীষণ সুখী আর আনন্দময়। তখনও তোমার খিদের যন্ত্রণা ছিলো, রোগ অসুখের যন্ত্রণা ছিলো; কিন্তু সেই সব যন্ত্রণা তোমার মুখের স্বর্গীয় হাসি কেড়ে নিতে পারে নি।
কেন? কারন- মহাবিশ্বের অনন্ত সৌন্দর্য্যে তুমি এতটাই মোহিত তখন, তোমার বুকে- রোগ বা খিদের যন্ত্রণা হুল ফোটালেও, তোমাকে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণায় কাবু করতে পারে নি। কিন্তু এখন? তোমার বার্ধক্যে তোমার ছেলে যদি না দেখে, সেই ভয়ে তুমি নিজেকে অভুক্ত রেখে যন্ত্রণা দিচ্ছো। যে দুঃখ এখনো ঘটে নি, বা যে দুঃখ ঘটার সম্ভাবনা কিঞ্চিৎ; সেই দুঃখকে এড়াতে, এখনই নিজেকে রগড়ে রগড়ে কষ্ট দিচ্ছো তুমি। কেন? কারন- তুমি সদা ভীত সন্ত্রস্ত। নিজের প্রতি বা পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা, তোমার কর্ম্মপথ ঠিক করে না। তোমার মধ্যেকার "ভবিষ্যতের ভয়" তোমাকে, মাকড়সার জালের মতো এমন বন্দি করে রেখেছে যে, সেই ভয় তোমাকে ঘৃণ্য চাকরের মতো সর্ব্বদা হুকুম করছে। আর তুমি সেই হুকুম- অক্ষরে অক্ষরে পালন করছো।
কি ঘৃণ্য জীবন হে মানুষ, কি ঘৃণ্য জীবন তোমার! মানুষ হয়ে জন্মে, প্রতি মুহূর্তে তুমি অদৃশ্য এক ছায়ার (ভয়ের)চাকরগিরি করছো। উন্মাদ অরুণ মাজী যদি সদা সর্বত্র চাকরগিরি করে; তাহলে বদ্ধ উন্মাদ অরুণ মাজী কি, জীবনে কখনো সুখী হবে? কখনো হবে না।
জন্মেছো জীব শ্রেষ্ঠ ঈশ্বর সন্তান হয়ে। কিন্তু হয়ে গেলে তুমি এক নিকৃষ্ট চাকর। অথচ গলায় তোমার হার্ভার্ড আর স্ট্যানফোর্ডের ডিগ্রি। ট্যাঁকে তোমার দু কোটি টাকার সম্পত্তির দলিল। বগলে তোমার তন্বী যুবতী বৌ। কিন্তু হৃদয়ে? যন্ত্রণায় কুঁকড়ে কুঁকড়ে মরছো তুমি।
ঝাঁটা মারো, ঝাঁটা মারো তোমাদের শিক্ষা আর টিকিওয়ালা পন্ডিতদেরকে। যে শিক্ষা তোমাদের দুঃখ নিবারণ করতে পারে না, সে তোমাদের কিসের শিক্ষা? যে পন্ডিত তোমাদের দুঃখ মোচনের পথ বলতে পারে না, সে হারামজাদা কিসের পন্ডিত? দাও শালাদের আন্ডারপ্যান্টে কাঁকড়া বিছে ঢুকিয়ে।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem