এখানে পথের ধারে পুকুরের পারে
শেষ। আমার পৃথিবী শেষ।
এখানে শ্মশান। খাঁ খাঁ শ্মশান।
এখানে ঝোড়ো হওয়ায়
গাব গাছের পাতাগুলো পতপত নড়ে।
এখানে ঝড় উঠলে
কে যেন আমাকে
উদ্বেগের সুরে "খোকা খোকা" বলে ডাকে।
এখানে শ্মশান। খাঁ খাঁ শ্মশান।
আমার মায়ের শ্মশান। বাবার শ্মশান।
ঠাম্মার শ্মশান।
আজকাল রাত বিরেতে
কে যেন আমায় "খোকা খোকা" ডাকে!
কে? ছায়া ছায়া বেশে
জানালার ও প্রান্তে কে?
তুমি? মা তুমি?
যাবো গো মা, যাবো।
খুব তাড়াতাড়িই তোমার কাছে যাবো।
কতদিন আর
তোমার কোল ছেড়ে থাকবো মা?
তিন বছর বয়সে
আমাকে ফেলে গেছো তুমি;
খুব তাড়াতাড়ি তোমার কাছে যাবো।
তোমার হৃৎপিন্ড ছিঁড়ে ছিঁড়ে গড়া
আমার বুকের সুগন্ধ
যেদিনই ফুরোবে
সেদিনই তোমার বুকে ফিরে যাবো আমি।
হে পৃথিবী, হে মানুষ, হে নদী, হে চাঁদ,
তোমাদেরকে ছেড়ে
একদিন নিঃশব্দে চলে যাবো আমি।
একাকী রাতের মতো
ভীষণই নিঃশব্দে চলে যাবো আমি।
তোমাকে বলছি পেন্তীর মা-
আমি মরলে
খবরদার খোল করতাল বাজিও না তুমি।
নইলে ভূত হয়ে
তোমার পান খাওয়া গাল টিপে দেবো আমি।
সাগরের এপারে বা ওপারে
যেখানেই মরি আমি
আমাকে রেখে দিও আমার মা বাবার মাঝে।
আস্ত দেহটা যদি না পারো
অন্তত আমার হৃৎপিন্ডটা ছিঁড়ে
রেখে দিও আমার মায়ের বুকের পাশে।
ঘেঁষে ঘেঁষে ঠেসে ঠেসে।
হায় ঈশ্বর
কতযুগ যে মায়ের কোলে শুই নি!
হতাশা বুকে আমি মরবো না।
বীর পিতা, বীরাঙ্গনা মাতার সন্তান আমি;
হতাশা বুকে কখনো মরবো না।
সহস্র যন্ত্রণা বুকে, স্মিত হাসি মুখে
ভীষ্মসম ইচ্ছা মৃত্যু বরণ করবো আমি।
এখানে পথের ধারে পুকুরের পারে
শেষ। আমার পৃথিবী শেষ।
এখানে শ্মশান। খাঁ খাঁ শ্মশান।
আমায় মায়ের শ্মশান। বাবার শ্মশান।
আর এক তুচ্ছ উন্মাদের শ্মশান।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem