(সাবধান- যাদের হৃৎপিণ্ড দুর্বল তারা এই লেখা পড়ো না)
ছেলেবেলার সেই খরগোশের গল্প মনে পড়ে? চালাক স্বভাবের একটা খরগোশ, পচা খড়ের গাদায় মাথা ঢুকিয়ে বলছে- "পৃথিবী বলে কিছু আছে নাকি? আমি তো কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছি না।" আজকের বাঙালী জাতটার দিকে তাকালে, এঁচোড়ে পাকা সেই খরগোশের গল্প মনে পড়ে।
পৃথিবী বনবন করে ঘুরছে। সময় হনহন করে হাঁটছে। অথচ বাঙালী সেই জীবাশ্ম যুগে পড়ে আছে। পৃথিবী তো অনেক বড় ব্যাপার। ভারতবর্ষের হিসেবেও, বাংলার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি ১ নম্বরে? হাসপাতাল কি ১ নম্বরে? শিল্প প্রতিষ্ঠান কি ১ নম্বরে? উন্নয়নে কি ১ নম্বরে? খেলাধূলাতে কি ১ নম্বরে? নাহঃ কোন কিছুতেই নয়। বাঙালী তবুও গোঁফে তা দিয়ে, আস্তিন গুটিয়ে বলছে - বুঝলে পেন্তীর মা, সব কিছুতে আমরা ফাটিয়ে দিচ্ছি।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও তাই বলেন। উনি নাকি সব কিছুতে ফাটিয়ে দিচ্ছেন। কি ফাটাচ্ছেন? রাজনৈতিক হত্যাতে বাংলা ১ নম্বর। নারী জাতিকে ভিক্ষা দেওয়াতে ১ নম্বর। পাড়ার গলিতে গলিতে অর্দ্ধ নগ্ন নারীর বেলেল্লাপনাময় নাচে ১ নম্বর। তোলাবাজিতে ১ নম্বর। ধর্ষণ আর চপ শিল্পে ১ নম্বর। সবাইকে মাওবাদী আর গরু চোর তকমা দিয়ে জেলে ঢোকানোতে ১ নম্বর। ভয় দেখিয়ে ডিলিট উপাধি কেড়ে নেওয়াতে ১ নম্বর ইত্যাদি।
ভেড়ার দেশে ভেড়া রাজা। সিংহের দেশে সিংহ। আমাদের রাজা অকর্মণ্য ধাপ্পাবাজ মুখে মারিতং জগৎ। কারন আমরা বাঙালীরা অকর্মণ্য ধাপ্পাবাজ মুখে মারিতং জগৎ। বকমবাজিতে আমরা সূর্য শনি বৃহস্পতির মালিক। তারপর বকমবাজি শেষে, আমরা অন্যের কাছ থেকে ভাঙা বিঁড়ি ধার করে খাই। কিন্তু সেই বিঁড়ি ধার কখনো আর শোধ করি না। পারলে উপকারীর দেশলাই পর্য্যন্ত হাতিয়ে নিই।
অরুণ মাজী মস্ত বড় এক চাঁড়াল। তাকে কেউ চাঁড়াল বললে, বুকটা তার চড়াম চড়াম করে ফাটে। হারামজাদার এতো বড় সাহস? অরুণ মাজীকে চাঁড়াল বলে? হারামজাদার ঝিঙে বাগানে আমি বিষ ঢেলে দেবো। কতবড় বীর আমি! সামনে লড়তে পারি না, তাই সমালোচককে মাওবাদী তকমা দিয়ে, তার শখের উচ্ছে বাগানে প্রতিদিন আমি সকালের প্রাতঃকর্ম করে আসি।
বললে হবে? খরচা আছে। যতহলেও কেউকেটা বাঙালী আমি। আমার সংস্কৃতি কত উঁচু! আমার বাপের শ্রাদ্ধে আমি রবি ঠাকুরের কবিতা পড়ি, ছেলের বিয়েতে আমি রবি ঠাকুরের নাটক মঞ্চস্থ করি। শালীর বিয়েতে আমি রবি ঠাকুরের গান গাই। সংস্কৃতি বলতে, সবেধন নীলমণি রবি ঠাকুর।
বাঙালীর আছে কি? সবেধন নীলমণি বিবেকানন্দ, নেতাজি, বিদ্যাসাগর, ক্ষুদিরাম ইত্যাদি। কিন্তু ঘটনা হলো- আজ যদি ওনারা বেঁচে থাকতেন, বাঙালী জাতটাকে ওনারা ত্যাজ্য সন্তান করতেন। ওনারা বাঙালী হওয়ার লজ্জায় মুখ ঢাকতেন। তবুও হারামজাদা অরুণ মাজীর গআস্ফালনের শেষ নেই। যতহলেও বাঙালী কি না!
মানুষ সবসময় পূজ্য। মানুষকে ঘৃণা করা ঠিক নয়। কিন্তু মানুষের চরিত্র অনুযায়ী- তার ব্যক্তিত্ব ঘৃণার যোগ্য। চরিত্র অনুযায়ী মানুষ দুপ্রকার। একদল স্বর্গের জন্যও, দেবতার পা চাঁটতে অস্বীকার করে। তারা পৌরুষযুক্ত মানুষ। আর এককদল আছে, যারা সামান্য কাঁঠাল বিচির জন্য ফেতি কুত্তার পশ্চাৎদেশ চাঁটে। তোমরা সবাই প্রথম প্রকার। আর বাঙালী অরুণ মাজী- সে একাই কেবল দ্বিতীয় প্রকার। ফেতি কুত্তার চাঁটতে চাঁটতে, অরুণ মাজী এখন ফেতি কুত্তারও অধম হয়ে গেছে।
হারামজাদাকে দেখে তাই আক্ষেপ করতে হয়- রেখেছো বাঙালী করে পৌরুষযুক্ত মানুষ করো নি।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem