সে আসবে বলেছিল;
হয়তো সকালের শিশির মেখে
রাঙা রবির রৌদ্র রেখায়,
কিংবা হয়তো সঙ্গে যখন
ওই দূরে আদিবাসী পাড়ায়
ভৈরবী বাজাবে তানপুরা সুরে,
তখন সে আসবে বলেছিল।
সে আসবে বলেছিল;
বোধহয় মধ্যাহ্নের কালে
যখন তপ্ত সূর্য উষ্ণ
করবে তোমাদের পৃথিবীকে,
আর চাতক চাইবে
এক মুঠো শান্তি জল,
তখন সে আসবে বলেছিল।
সে আসবে বলেছিল;
ছেলের দল মাঝে বিকালে,
ওই মেঠো পথ আর ধানক্ষেত
ওই লাল দীঘি আর আম বাগান
ফেলে আর জমিদারি পেরিয়ে,
এই উঠানে দাঁড়াবো যখন আমি,
তখন সে আসবে বলেছিল।
সে আসবে বলেছিল;
যখন সূর্য ডুববে গোধূলিতে
আর গ্রামের ওই প্রান্ত শেষে
ওই একলা রাখাল ছেলে
ধুলো উড়িয়ে বাড়ি আসবে
অমলিন ক্লান্তি আর স্বাধীনতায়,
তখন সে আসবে বলেছিল।
সে আসবে বলেছিল;
যখন তুলসী মঞ্চে আঁধার ঘনায়
পিদিম জ্বলে জ্বালে আলো,
যখন কালো পাতায় জ্বলে
ওঠে হাজার তারার ঝাড়বাতি
আর সুকান্তের ঝলসানো রুটি,
তখন সে আসবে বলেছিল।
সে আসবে বলেছিল;
হয়তো গভীর রাতের ঘন্টায়,
যখন শীতে ঘুমোবে দেশ
আর লেপমুড়ি দেবে জনতা,
কিংবা দূরের পানশালায়
রাত্রি কিনবে রঙিন নেশা,
তখন সে আসবে বলেছিল।
সে আসবে বলেছিল;
যখন যুদ্ধ থামবে পাহাড়ে,
যখন যুদ্ধ থামবে মরুভূমিতে,
যখন বুলেট ক্লান্ত হবে
মৃত্যু উপত্যাকার রক্ত নদীতে,
যখন সাদা কাপড় উড়বে তার হাতে,
তখন সে আসবে বলেছিল।
আজও আসেনি সে...
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem