খ্যাতি বা জনপ্রিয়তার গন্তব্যে ঠাসাঠাসি ভিড়। কিন্তু সত্য পথের যাত্রী বড় দুর্লভ। আর গন্তব্যে? যুগে যুগে এক আধজন পৌঁছে সেখানে।
সকলেই প্রচলিত মানবতার বাণী আওড়ে, সভা সমিতি সোস্যাল মিডিয়ায় তুমুল হাততালি পেতে চায়। কিন্তু কেউই, খ্যাতি জনপ্রিয়তা বন্ধু হারানোর ভয়ে, অপ্রিয় সত্য বলে ঘৃণ্য হতে চায় না। সত্য বড় অপ্রিয় আর নির্মম। মানুষের সহস্র বছরের বুদ্ধি আর বিশ্বাসকে কষিয়ে থাপ্পড় মারে সে। পার্থিব জগতের আসক্তিযুক্ত মানুষ, তাই সত্য সহ্য করতে পারে না। মানুষ সত্য চায় না বলেই, মানুষ সত্যের মুখ দেখতে পায় না।
সত্যের মুখ সে দেখতে পায় না বলেই, মানুষের সমস্যার সমাধান হয় না। সমাধান সত্যের গর্ভে বাস করে। সমাধান কি কখনো মিথ্যের গর্ভে বাস করতে পারে? মানুষ যেহেতু মিথ্যে মানবতার বুলি আওড়ায়, সেহেতু এ পৃথিবী এখনো মানবিক হতে পারে নি। অন্তরে আমি রাক্ষস, কিন্তু ঘোমটা আমার ধার্মিকের। আমার মতো মানুষ দিয়ে কি এ পৃথিবী মানবিক হবে?
এজন্যই আমি গান্ধীবাদকে বিষ্ঠার চেয়েও ছোট চোখে দেখি। ভারতবর্ষ দীর্ঘ সত্তর বছর ধরে গান্ধীবাদের সাধনা করেছে, তবুও ভারতে এতো হিংসা দাঙ্গা উত্তেজনা কেন? সুইডেন হাঙ্গেরি নরওয়ে ইত্যাদি দেশ- গান্ধীবাদ বা গান্ধীবাদ সম কিছুই অনুসরণ করে না। তবুও সেসব দেশ অনেক বেশি শান্ত কেন? কারন- আমরা ঘোমটার নিচে খ্যামটা বেশি নাচি। ওরা খ্যামটা নাচ অনেক কম নাচে। সত্যকে গ্রহণ করার জন্য পৌরুষ দরকার। সাহস, নিষ্ঠা আর সততা দরকার। আসক্তিহীন জীবন দর্শন দরকার। দুঃখ- বর্তমান ভারতবর্ষে তা নেই। কিন্তু প্রাচীন ভারতবর্ষে তা ছিলো। প্রাচীন ভারতবর্ষে পৌরুষ ছিলো বলেই ভারত তখন পৃথিবী শ্রেষ্ঠ দেশ আর সভ্যতা ছিলো।
পৃথিবী এখন আরও বেশি হিংসা আর দাঙ্গাপরায়ণ। সভা সমিতি টিভি সোশ্যাল মিডিয়াতে- মুক্তমনা, ধর্ম নিরপেক্ষ, মানবতাবাদী ইত্যাদির বুলির দিনরাত কচকচানি। তবুও পৃথিবী ক্রমশঃ আরও বেশি নরক হচ্ছে কেন? কারন- আমরা এতো বেশি ঘৃণ্য আর কাপুরুষ, নপুংসক হয়ে নিজেদেরকে নপুংসক বলতে আমাদের পশ্চাৎদেশ চড়চড় করে ফাটে। তাই নপুংসক হয়েও, অরুণ মাজী প্লাস্টিকের কৃত্রিম পুরুষদন্ড পরিধান মাধ্যমে- নিজেকে পৌরুষযুক্ত মহান এক মানুষ সাজিয়ে রেখেছে।
সকলেই ন্যাংটো। অথচ একে অপরের নংক (০০)দেখেহাসাহাসি করছে। ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা ভয়ঙ্কর মর্মান্তিক। কিন্তু এ ধরণের ঘটনা কি অবশ্যাম্ভাবী ছিলো না? আগে, পৃথিবী কি দেখেছে? এক বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ পৃথিবীতে ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেজন্য আমরা কি করেছি? কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে, কেউ জনপ্রিয়তার স্বার্থে, কেউ সেই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দুর্বলতায়- আমার সবাই প্রায় নিশ্চুপ থেকেছি। বা হত্যাকে, বিভিন্ন অজুহাতে লঘু করার চেষ্টা করেছি। কেউ বলেছি সাজানো ঘটনা। কেউ বলেছি অন্য গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র ইত্যাদি (অবিকল মমতা ব্যানার্জীর ঢঙে) । ফল?
এখন অন্য গোষ্ঠীও প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হয়ে উঠেছে। এরপর আর এক গোষ্ঠী প্রতিশোধ নেবে। তারপর আরও আরও এক গোষ্ঠী প্রতিশোধ নেবে। এই হত্যালীলার শেষ কোথায়? তোমরা যারা বিশেষ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারনে- অন্য গোষ্ঠীর হত্যাকে প্রচ্ছন্ন ভাবে বাহবা দিয়েছিলে, তারা এখন ভাবো- হত্যা কত নির্মম আর বেদনাদায়ক।
তোমরা অরুণ মাজীকে ঘৃণা করতে থাকো, তা ভালো। কিন্তু সন্তানদের স্বার্থে এতো যে খাটছো তোমরা, তো তোমাদের উত্তর পুরুষকে কি, একটু শান্তির পৃথিবী দিয়ে যেতে পারবে? তুমি ঘৃণা ছড়ালে, অন্য গোষ্ঠী কি আজীবন চেয়ে চেয়ে দেখবে? প্রশ্নটা খুব নিষ্ঠুর, তাই না? বুকটা আমরা ফাটলো- এই প্রশ্নটা করতে।
© অরুণ মাজী
This poem has not been translated into any other language yet.
I would like to translate this poem